শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে পাঠ্যপুস্তক

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম

39

আমাদের দেশে প্রতি ক্লাসে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তক নির্ধারিত রয়েছে। যেখানে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশের প্রকৃতি সহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান লাভের জন্য অধ্যায় এবং পাঠ সংযোজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার প্রয়োজনীয় শিক্ষা লাভের চেষ্টা করে থাকে। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে পাঠ্যপুস্তকের উপর এর প্রভাব পড়ে থাকে। নিজেদের ধ্যানধারণার বিস্তার ঘটাতে অন্যান্য উপাদানের পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তককেও কাজে লাগানোর চেষ্টা হয়। এটা সবসময় হয়ে এসেছে। বিশেষ করে সব শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, সমাজ, ইতিহাস সহ বিভিন্ন বইয়ে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। যা একটি খুব স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যাই করা হোক আমি মনে করি, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে শিক্ষার্থীদের দিকটিকে যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বর্তমান পাঠ্যপুস্তকে প্রথম দিকে নৈতিক বিষয়ে অধ্যায় কমে যায়। যেখানে আগের বেশ কয়েকটি অধ্যায় ও পাঠকে তুলে দেওয়া হয়। পরবর্তিতে দেশের ধর্মীয় ও সচেতন মানুষ এবং শিক্ষাবিদদের দাবির মুখে পাঠ্যপুস্তকে আগের নৈতিক ও চরিত্রগঠনে সহায়ক বিষয়গুলোর অনেকটাই ফিরিয়ে আনা হয়। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় দেশের মানুষ।
পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী তার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে পারে। জানতে পারে মৌলিক বিষয় সম্পর্কে। ফলে জীবনের বাঁকে বাঁকে তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়। গণিত, বিজ্ঞান, আইসিটিসহ অন্যান্য যেসব পাঠ্যবই রয়েছে তাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ধ্যানধারণা সম্পর্কে অধ্যায় সংযোজন করা যেতে পারে। অবশ্য বর্তমানে এসব পাঠ্যপুস্তকে সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ক্লাসে পাঠ্যপুস্তকের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হচ্ছে যেন শিক্ষার্থীদের উপর প্রেসার না পড়ে। যাকে সময়োপযোগী বলা যায়। তবে কেজি স্কুলগুলোর বইসংখ্যা এখনও শিক্ষার্থীদের জন্য বোঝাস্বরূপ। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির বই সম্পূর্ণ নতুন এবং বিনামূল্যে দেওয়ার ধারাবাহিকতা রয়েছে। বর্তমানে পাঠ্যপুস্তকগুলোর কাগজ এবং ছাপার মানও যেকোন সময়ের চেয়ে ভালোই বলা যায়। এরপরও বিভিন্ন সময় অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে পাঠ্যপুস্তকের ভুলত্রুটি,পাঠের বিষয় নিয়ে লেখালেখি হয়। যদিও তা তেমন বড়কিছু নয় বলে মনে করি। কারণ, এতবড় কর্মযজ্ঞে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল হতেই পারে। যা পরবর্তি সংষ্করণের সময় সংশোধন করা সম্ভব। তবে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও প্রাসংগিক সব কাজে উপযুক্ত শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক এবং দক্ষ ব্যক্তিদের যুক্ত করতে পারলে কাজের মান আরো বাড়তে পারে।
আরেকটি কথা, পাঠ্যপুস্তকের বিদ্যমান উপযুক্ততা ও মান বাড়াতে হলে শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষানীতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। পাশাপাশি শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যেখানে শিক্ষার্থীরা নৈতিকতা, সততা ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের জন্য নির্দেশনা লাভ করবে। একেক সময় একেক সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীরা লক্ষ্য অর্জনে বিড়ম্বনার মুখে পড়ে। যা কখনোই কাম্য নয়। সুতরাং পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধ্যানধারণা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, দেশপ্রেমসহ মানবাধিকার, উন্নয়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে যেন প্রতিফলিত হয় সে ব্যাপারে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব মানুষ। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে পাঠ্যপুস্তক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেখক : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক