বাঁশখালীতে ইভটিজিং

শাস্তির বদলে বখাটের স্বপ্নপূরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

32

বাঁশখালী রত্নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করা ছাত্রীদের প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করতো রিকশাচালক বোরহান উদ্দিন (১৪)। বাহারছড়া গ্রামের দরক্কান পাড়ার দরিদ্র নুরুল আমিনের ছেলে বোরহান ছাত্রীদের শরীরে আঘাতও করতো। প্রতিনিয়ত এমন আচরণ করায় বিরক্ত ছাত্রীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। বোরহানের এ উত্যক্ততার কারণে অসংখ্য ছাত্রী ভীত ছিল। তবে বখাটে হিসেবে খ্যাতি পেলেও বোরহানের লেখাপড়া করার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন পূরণের শুরুটা হয়েছে বোরহানের। বখাটেপনা ছেড়ে এখন থেকে বই-খাতায় মজে থাকার শপথ নিয়েছে সে।
জানা যায়, গত ৯ মার্চ শনিবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বোরহান উত্যক্ত করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। ওই ছাত্রী প্রতিবাদ করলে তাকে পথিমধ্যেই চড়-থাপ্পর মারে বোরহান। ওইসময় উপস্থিত অন্যান্য ছাত্রীরা নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে অভিভাবকদের ঘটনাটি জানায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল দাশ বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রীকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তারের কার্যালয়ে অভিযোগ দেন। ইউএনও বিষয়টি শুনে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুজন চন্দ্র রায়কে পাঠিয়ে ইভটিজার বোরহান উদ্দিন ও নির্যাতনের শিকার ছাত্রীকে অভিভাবকসহ তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ইউএনও মোমেনা আক্তার ইভটিজার বোরহানের কাছ থেকে আর কখনও ইভটিজিং করবে না মর্মে অঙ্গীকারসহ টিপসই দিয়ে মুচলেকা নেন এবং বোরহান নিজেও লেখাপড়া করতে চায় বলে ইউএনওকে জানান।
বখাটে বোরহান এসময় ইউএনওকে জানান, চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। ছোট বয়সে স্কুলে না যাওয়ার কারণে স্বাক্ষরও করতে পারেন না বোরহান। যে কারণে কিছু টাকা আয়ের জন্য রিকশা চালায়। লেখাপড়া করার স্বপ্ন আছে তার।
বোরহানের আগ্রহের কথা শুনেই ইউএনও উপজেলার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত পশ্চিম বাহারছড়া দেওয়ানজী বাড়ির স্বাক্ষরজ্ঞান স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন বোরহানকে। পরে বোরহানকে সবার উপস্থিতিতে বই-খাতা-কলম তুলে দেন ইউএনও।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার পূর্বদেশকে বলেন, ‘সমাজে কেউ কখনও অসৎ পথকে ভালোবাসে না। নিরুপায় হয়ে, আর্থিক অনটনের কারণে অনেকেই খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। ধারণা করছি কিশোর বোরহানের পরিণতিও এমন হয়েছে। বোরহানের আগ্রহে বই-খাতা-কলম দিয়ে স্বাক্ষরজ্ঞান শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এখন আশা করি বোরহান আলোর পথে ফিরবে।’
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সুজন চন্দ্র রায় পূর্বদেশকে বলেন,‘ সমাজে নেগেটিভ কাজগুলো আমাদের পীড়া দেয়। কিছু পজেটিভ কাজ করতে সবার ভালো লাগে। বোরহান ইভটিজিং করতো। এই খারাপ কাজটি ছেড়ে বোরহান লেখাপড়া করতে চায়। আমরা শাস্তির বদলে তাকে সে কাজে উৎসাহ দিয়েছি।’