শালবনে স্বপ্নের রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট

14

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সাংগঠনিক বা অফিসিয়াল ট্যুরের এখনই সময়। কম সময়ে ঘুরতে যেতে চাইলে কাছাকাছি স্থানই বেছে নিতে হয়। সেক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট। কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ফুরসত পেতে ঢাকার অদূরে গাজীপুরের এই রিসোর্ট থেকে এক-দুই দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন।
অবস্থান : রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুরের শালবনের ভেতরে অবস্থিত। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজরের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৮০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে রিসোর্টটি। রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্ট প্রায় ৮ কিলোমিটার গহীনে এর অবস্থান।
পরিচালনা : এটি যৌথ মালিকানায় পরিচালিত। একেকটি প্লট একেক জনের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। মালিকরা প্রায় একই আকৃতির ১৯টি ভবন তৈরি করেছেন।
বৈশিষ্ট্য : প্রকৃতিপ্রেমী যে কেউ প্রকৃতিকে কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টে। চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখে মনটা ভরে উঠবে। নাগরিক যন্ত্রণা ভুলে যাবেন মুহূর্তেই।
যা দেখবেন: রিসোর্টটি দেখতে অসাধারণ। এখানে রয়েছে ১৯টি সুউচ্চ ভবন। প্রতিটি ভবন ৪ তলা, একেকটি তলায় ৪টি করে রুম। এছাড়া রয়েছে কয়েকটি মাড হাউজ বা মাটির ঘর। পাবেন বিস্তীর্ণ মাঠ, ২৬টি কটেজ পার্ক, ২২টি ওয়াটারফ্রন্ট কটেজ, সুইমিংপুল, ম্যাসাজ পার্লার, ইটের তৈরি কিন্তু মাটির প্রলেপ দেয়া ঘর, ছনের ঘর এবং ক্যাফেটরিয়া। এর চারপাশেই ঘন বন, মাঝে রিসোর্টগুলো দাঁড়িয়ে। কয়েকটি রিসোর্টের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে শালবন ছোঁয়া যায়। প্রতিটি ভবনের ছাদে রয়েছে অবজারভেশন টাওয়ার। যাতে উঠলে পুরো বন দেখা যায়।
ভ্রমণ প্যাকেজ : রিসোর্টে তিন ধরনের ভ্রমণ প্যাকেজ রয়েছে। ডে প্যাকেজে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, ১টি রুম (২ জন), সুইমিংপুল, মাঠ মিলে মোট ৫,৫০০ টাকা। ডে নাইট প্যাকেজে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, ১টি রুম (২ জন), সুইমিংপুল, মাঠ মিলে মোট ৯০০০ টাকা। তবে দু’জনের কম গেলে রুম দেয়া হয় না। পেলেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এছাড়া কর্পোরেট প্যাকেজের জন্য যোগাযোগ করতে হবে।
খাবার: উন্নত মানের নাস্তা, ভাত, মাছ, মাংস, সবজি ও ডাল। এখানে অর্গানিক ফার্মে প্রাকৃতিক খাদ্যের স্বাদ পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
যেভাবে যাবেন: গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সোজা ময়মনসিংহ রোড ধরে ৫-৬ কিলোমিটার যেতে হবে। এরপর যে রাস্তাটা গেছে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টের দিকে (কাপাসিয়ার দিকে)। সেটা ধরে আরো ৪ কিলোমিটার গেলেই দেখবেন ক্যান্টমেন্ট কলেজ। এখান থেকে হাতের বা’দিকে ছোট্ট একটা রাস্তা চলে গেছে বনের দিকে। এ রাস্তা ধরে ৫ কিলোমিটার গেলে পড়বে গ্রিনটেক রিসোর্ট। এর পাশের রোড দিয়ে আরো সোয়া ২ কিলোমিটার বনের মধ্যে ঢুকলেই চোখে পড়বে রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট।
সীমাবদ্ধতা : রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের অবস্থান বনের অনেক ভিতরে হওয়ায় অতিরিক্ত কোন খাবার পাওয়া যায় না। প্রয়োজনে কিছু হালকা খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্টের একজন উদ্যোক্তা মামুন পাটোয়ারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের রিসোর্টটি সর্বোচ্চ ভ্রমণ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সেবা পেতে চাইলে যে কেউ ০১৮৮৬১৫১৮১৯, ০১৮৮৬১৫১৮২০, ০১৮৮৬১৫১৮২১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।’