শামসুর সম্পদ বেড়েছে ৬ গুণ, জুয়েলের দ্বিগুণ

রাহুল দাশ নয়ন

19

নবম সংসদ নির্বাচনে পটিয়া আসনে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী ও গাজী মো. শাহাজাহান জুয়েল। সেবার নির্বাচনে জুয়েলকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন শামসু। আর পিছিয়ে পড়তে হয়নি। সেসময় এক হাজার ৩৬৯ টাকা নগদ টাকা ও ২৮ লক্ষ দশ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্পদ থাকলেও দশ বছরের ব্যবধানে শামসুল হকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ছয় গুণ। অপরদিকে প্রতিদ্বব্দ্বী প্রার্থী শাহজাহান জুয়েলের বেড়েছে দুইগুণ। নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই দুই প্রার্থী জমা দেয়া হলফনামায় এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন।
গত ২৮ নভেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া হলফনামায় শামসুল হক চৌধুরী উল্লেখ করেন, তাঁর বাৎসরিক আয় (বাড়ি এপার্টমেন্ট দোকান ভাড়া থেকে) ১১ লক্ষ ১৯ হাজার ৩৯০ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় তিন লক্ষ ৮২ হাজার ২০০ টাকা। ব্যবসা খাতে নিজের আয় ৪৫ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮৮৭ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় আট লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৫১ টাকা। নিজের শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত দুই হাজার ৭২৩ টাকা ও নির্ভরশীলদের ৩৪ হাজার ৮৪৯ টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানি পান বৎসরে ২৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৭০ টাকা। ২০০৮ সালে জমা দেয়া হলফনামায় উল্লেখ করেন, বাড়ি ভাড়া থেকে বাৎসরিক আয় ৪৫ হাজার টাকা ও ব্যবসায় দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা ১৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ৪১৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৯ লক্ষ দুই হাজার ২৪৪ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা নিজ নামে ২১ হাজার ৯১১ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা ৯২ লক্ষ ৩৩ হাজার ১২১ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৩৮টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে নিজের তিন লক্ষ টাকার শেয়ার। স্ত্রীর নামে দুই লক্ষ টাকার শেয়ার। নিজ নামে থাকা বাস, ট্রাক ও মোটরগাড়ির মূল্যমান এক কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা। নিজ নামে থাকা স্বর্ণালঙ্কারের মূল্যমান ২৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে দেড় লক্ষ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিজের ৩০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে এক লক্ষ টাকা। জীবন বীমা ব্যবসায় নিজের মূলধন ও পিস্তল ৩২ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৮৭ টাকা ও স্ত্রীর নামে ২৩ লক্ষ ১০ হাজার ৫৩০ টাকা। ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো টাকা ছিল না জানালেও নগদ টাকা দেখিয়েছিলেন এক হাজার ৩৬৯ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে থাকা অকৃষি জমির মধ্যে ১৭ কাঠা পাঁচ ছটাক ভিটে ভূমি আছে। যার মূল্যমান ৭০ লক্ষ সাত হাজার ৯২০ টাকা। স্ত্রীর নামে ৪৭ লক্ষ ৭০ হাজার ২৫০ টাকার মূল্যের ভিটে ভূমি আছে। নিজ নামে চারতলা বিশিষ্ট দালান আছে। যার মূল্য দুই লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। পাঁচ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে স্ত্রীর নামে আছে আটটি টিনশেড দোকান। বাড়ি-এপার্টমেন্টের মধ্যে নিজ নামে ৪৮ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের পাঁচ কাঠা ভিটে ভূমির উপর চার তলা বাড়ি আছে। ২০০৮ সালের হলফনামায় তিনি কোনোধরনের কৃষি জমি ছিল না বলে জানান। ছয় লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যমানের অকৃষি জমি ছিল। দালান ছিল দুটি। যার মূল্যমান ছিল ২১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা।
গাজী মো. শাহাজাহান জুয়েলের বাৎসরিক আয়ের মধ্যে বাড়ি, এপার্টমেন্ট, দোকান ভাড়া পান ৫৭ লক্ষ ৮১ হাজার ৭৮১ টাকা। সঞ্চয়ী আমানতের সুদ পান ৩৯ হাজার ৪১৪ টাকা। ২০০৮ সালে জমা দেয়া হলফনামায় উল্লেখ করেছিলেন, বাড়ি-এপার্টমেন্টের আয় এক লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৬০ টাকা। নিজের ও নির্ভরশীলদের অন্য কোনো আয় ছিল না।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে নগদ টাকা দুই লক্ষ ২১ হাজার ৭৪ টাকা। নির্ভরশীলদের মধ্যে স্ত্রীর নামে সাত লক্ষ চার হাজার টাকা ও ছেলে গাজী মো. সাদমান সিজানের নামে আছে ১০ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে জমা এক লক্ষ ২৫ হাজার ৬০৩ টাকা। বাস, ট্রাক, মটরগাড়ির মধ্যে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দামের একটি কেয়া জীপ গাড়ি আছে জুয়েলের। নিজ নামে স্বর্ণালঙ্কার আছে ২৫ ভরি, স্ত্রীর নামে ৫০ তোলা ও নির্ভরশীলদের নামে আছে ৩০ ভরি। আসবাবপত্র নিজ নামে ১৫ হাজার টাকার। বাড়ি ভাড়া বাবদ নিজের আয় এক লক্ষ ১৩ হাজার ১৬৬টাকা। ২০০৮ সালে জমা দেয়া হলফনামায় উল্লেখ করেন, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা ছিল এক লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৫৯ টাকা। গাড়ি ছিল দুটি।
স্থাবর সম্পদের মধ্যে শাহজাহান জুয়েলের ১৩ লক্ষ ১৮ হাজার ১০০ টাকা দামের ১৭ শতক কৃষি জমি আছে। ঢাকায় নিজের নামে দুটি অকৃষি জমির মূল্য এক কোটি ২০ লক্ষ ৩২হাজার টাকা। আবাসিক ও বাণিজ্যিক দালানের মধ্যে চট্টগ্রামে ছয় কোটি ৬৭ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৬৯ টাকা দামের দুটি, ঢাকায় তিন কোটি ৬১ লক্ষ ৪২ হাজার ১৯৬ টাকা দামের দুটি ও ঢাকায় নির্মাণাধীন আছে ৮৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৬৮ টাকা দামের আরো একটি দালান। ঢাকায় থাকা নিজের নামে ২৪ লক্ষ টাকা দামের একটি এপার্টমেন্ট আছে। ২০০৮ সালে জমা দেয়া হলফনামায় তিনি ৬ কোটি ২৮ লক্ষ ৬১ হাজার ৫০ টাকার সম্পত্তি থাকার কথা উল্লেখ করেন।