শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হোক চট্টগ্রাম ৮ আসনের উপনির্বাচন

23

ভোট হবে ইভিএমে। আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে ইভিএম ও ভোট গ্রহণসামগ্রী ভোটকেন্দ্র দখল-পাঁয়তারার অভিযোগে দুইপক্ষের ক্ষণগণনা শেষ। আজ ১৩ জানুয়ারি ২০২০ সোমবার চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ আংশিক) উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের সিডিউল অনুযায়ী সকাল ৯ থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ আসনের সকল ভোটকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণ করা হবে। সূত্র জানায়, ভোট গ্রহণের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে ছয় জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদ্বয়ের মধ্যেই মূল প্রতিদ্ব›িদ্বতা হবে। ইভিএম নিয়ে নানা বিতর্কের মধ্যেও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে নির্বাচনের সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত শনিবার দিনভর ভোটদানের সমস্যা দূরীকরণে প্রতিটি কেন্দ্রে সম্পন্ন হয়েছে মক ভোটিং। জানা যায়, আজকের নির্বাচনে ১৭০টি কেন্দ্রে এক হাজার ১৯৬টি কক্ষে চার লক্ষ ৭৪ হাজার ৪৮৫ জন ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে দুই লক্ষ ৪১ হাজার ১৯৮ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে দুই লক্ষ ৩৩ হাজার ২৮৭ জন। ১৭০টি ভোটকেন্দ্র। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ১৮টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব কেন্দ্রে ১৯ জন ও সাধারণ কেন্দ্রে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া নির্বাচনে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যের সমন্বয়ে ১৪টি মোবাইল ফোর্স, ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৬টি টহল দল এবং ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিতে ১৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও দুইজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নগরের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকেই ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
পূর্বদেশ পত্রিকায় এ আসনের ভোটারদের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়, বড় ধরনের কোন সংঘাত না হলেও প্রচারণাকালে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। যে কারণে ভোটারদের মধ্যেও অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে। বিএনপি প্রার্থী ভোটের মাঠে স্থায়ী থাকলে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এমন শঙ্কা নিয়েই ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কমতে পারে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে নির্বাচনও সুন্দর হবে। যে প্রার্থীকে দিয়ে উন্নয়ন হবে তার পক্ষেই রায় দিবে ভোটাররা।
আজকের এ উপনির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে এমনটি আশাবাদ নির্বাচন কমিশনসহ চট্টগ্রামবাসী ব্যক্ত করলেও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা এবং বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা ইত্যাদির কারণে নির্বাচন কতটুকু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে শঙ্কা ও সন্দেহ একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়না। এরপরও আমরা মনে করি, নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী পক্ষসমূহ আন্তরিক, সহনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব পোষণ করে ভোটারদের তাদের ভোট প্রদানে সুযোগ করে দিলে নির্বাচন অবশ্যই শান্তিপূর্ণ ও সফল হবে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। কমিশন এতোদিন একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যে প্রস্তুতি ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, আজকেই তার ষোলকলা পূর্ণ করার সময়। এসময়কে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচেতনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে-এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।