গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

শপথ নিতে সরকারের চাপ নেই

পূর্বদেশ ডেস্ক

26

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনমত সৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ব্রুনেই সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে শুরুতেই শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন তিনি।
গণভবনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন বিকাল ৪টায় শুরু হয়। মন্ত্রিসভার সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও এতে উপস্থিত ছিলেন। খবর বিডিনিউজের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি এই নৃশংস হামলার নিন্দা জানিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে শোকবার্তা পাঠাই। এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনমত সৃষ্টি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। ২০১৬ সালে জুলাইয়ে ঢাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই হোলি আর্টিজানের পর থেকেই আমরা নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছি। কিন্তু তারপরেও সন্দেহ অবশ্যই আছে। সবসময় আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। নিচ্ছি বলেই হয়তো এখানে খুব একটা সুযোগ পাচ্ছে না।
সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়ার আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে গত রোববার ব্রুনেই যান শেখ হাসিনা। সেদিন ছিল খ্রিস্টানদের পবিত্র দিন ইস্টার সানডে।
সেই সকালেই শ্রীলঙ্কায় তিনটি গির্জা আর চারটি পাঁচতারা হোটেলে একযোগে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়। ভয়াবহ ওই হামলায় নিহত হয় ২৫৩ জন, যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও রয়েছে। জায়ানের বাবা প্রিন্সও গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই জায়ানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শ্রীলঙ্কা হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
বাংলাদেশে ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ লেগেই আছে’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা, জাতীয় চার নেতাকে কারাগারে হত্যাসহ বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হত্যার যেসব ঘটনা ঘটেছে সেগুলোও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।
সশস্ত্র বাহিনীতে হত্যা, সামরিক অভ্যুত্থান, বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে পেট্রোল বোমার সন্ত্রাস এবং আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশে অনবরত এ ধরনের সন্ত্রাস হচ্ছে এবং আমরা তার শিকার। তবে এটুকু বলতে পারি যে, আমরা যথেষ্ঠ সজাগ আছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে সরকার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি জানি এটা শুধু গোয়েন্দা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে হবে না। সবাইকে নিয়ে করতে হবে। এ জন্যই আমি দেশবাসীকে আহবান করেছি যে, একটা জনমত সৃষ্টি করা।
শ্রীলঙ্কায় যারা হামলা চালিয়েছে তারাও শিক্ষিত ও স্বচ্ছ¡ল পরিবার থেকে আসা- এ খবরের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, জানি না আত্মঘাতী আক্রমণ করে তারা কি পাচ্ছে!
নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষকে হত্যা করে সেই ছবি ফেসবুকে দিচ্ছে। কত বীভৎস ঘটনা। আমি সবসময়ই বলে আসছি। জঙ্গিবাদে যারা জড়িত তাদের কোনো ধর্ম নাই, দেশও নাই।
ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকেও ‘অগ্নি সন্ত্রাসের’ শিকার হতে হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটুকু বলব, কেউ অন্যায় করলে সে যেই হোক না কেন, যে দলেরই হোক, তার কোনো ক্ষমা নেই।
তিনি বলেন, নুসরাতের বিষয়টা যদি তাৎক্ষণিকভাবে না ধরতাম, তাহলে সব দোষ নুসরাতের ওপরই পড়ত। তাকে চরিত্রহীন বানিয়ে ছেড়ে দিত। সে কারণেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরনের অন্যায় কখনো মেনে নেওয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে ‘সুন্দর আবাসন’ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের সহায়তায় নিয়োজিত এনজিওগুলো ‘নিজেদের সুবিধার’ কথা চিন্তা করে শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তরে আপত্তি তুলছে।
তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা কিছু এনজিওর নাম উল্লেখ করে বলেন, কিছু লোক রোহিঙ্গাদের লালন-পালনে যতটা আন্তরিক থাকে, ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে অতটা আন্তরিক হয় না। কক্সাবাজারের ‘অমানবিক’ পরিবেশে রোহিঙ্গারা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়লে এর দায়ভার কিছুটা ‘ভাসানচরবিরোধী এনজিওগুলোকেও’ নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
এদিকে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিতরা যাতে শপথ নেন, সে জন্য সরকারের তরফ থেকে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যে জনপ্রতিনিধিরা শপথ নিয়েছে, তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছে। সেখানে সরকারের কোনো চাপ নেই। আমরা চাপ দিতে যাব কেন? তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তারা নিজেই বলেছে যে, নিজের নির্বাচনী এলাকাতে যে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, তারাই চাপ দিয়েছে।
দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যে গুঞ্জন রয়েছে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়। এখানে কেউ আবেদন করেনি এখনও। যেহেতু কেউ আবেদন করেনি, সেখানে আমার কমেন্ট করার কিছু নেই।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দলে তিনি সেভাবে কোনো ‘সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী’ দেখছেন না। অনুপ্রবেশকারী কেউ থেকে থাকলে, কেউ দুর্নীতি করে থাকলে তাদের তালিকা দিতে বলেন তিনি।
সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য আর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু ওই ধরনের খুব একটা সুবিধাভোগী বা অনুপ্রবেশকারী এখনো দেখিনি।
বাংলাদেশকে স্বাধীন করা এবং ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ত্যাগ স্বীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৮ এর আগে বাংলাদেশ কোথায় ছিল? আর এখন কোথায় আছে? আপনারা তুলনা করে দেখেন। আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যার একটা গঠনতন্ত্র আছে এবং গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলে।
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের দ্বারা যে দল গঠন হয় সে দল কেবল ক্ষমতায় থাকলেই টিকে থাকতে পারে। ক্ষমতার বাইরে থাকলে তারা থাকতে পারে না। কারণ তাদের শেকড়ে জোর নাই। তাদের শেকড়ই নাই। তাদের অবস্থা যদি নাজুক হয়, তার দায়-দায়িত্ব কার? যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো তা নয়। আওয়ামী লীগ পোড় খাওয়া রাজনৈতিক দল।
দুর্নীতির প্রশ্নে তিনি বলেন, কার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে আর কি আছে। অভিযোগটা সুনির্দিষ্ট করেন। ব্যবস্থা নেব। ফাঁকা কথা বললে আর অপবাদ দিলেতো আমি মেনে নেব না। কারণ আমার একটা বিবেচনা আছে দল সম্পর্কে, দলের মানুষ সম্পর্কে। আমিতো নতুন না। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, এটা ভুললে চলবে না। স্কুল জীবন থেকে রাস্তায় মিছিল করে তারপর রাজনীতিতে এসেছি। কলেজ, ইউনিভার্সিটি সবসময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমার ৭২ বছর বয়সে বলতে পারি, অন্তত ৬০ বছর রাজনীতি চোখে দেখছি। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে, থাকবে। কে ধরা পড়ে না পড়ে সেটাও খেয়াল রাখেন।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা ইংগিত দিয়েছেন, আগামীতে তিনি নতুনদের হাতে নেতৃত্ব দিয়ে অবসরে যেতে চান। সে প্রসঙ্গ টেনে একজন সাংবদিক তার কাছে জানতে চান, নেতৃত্ব নেওয়ার মত তৈরি কাওকে তিনি দেখছেন কি না।
উত্তরে তিনি বলেন, অবসরতো নিতেই হবে, অবশ্যই। এখানে কে নেতৃত্বে আসবে দল ঠিক করবে, এটাতো আমি ঠিক করব না। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা তাদের নেতা বেছে নেবে।

সংবাদমাধ্যম ‘দুর্দশায়’
প্রধানমন্ত্রীকে বললেন সাংবাদিকরা

বাংলাদেশের অধিকাংশ সংবাদমাধ্যম ‘অর্থনৈতিক দুরবস্থার’ মধ্যে পড়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। সম্প্রতি ব্রæনেই সফর নিয়ে গতকাল শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে টেলিভিশন ও মুদ্রিত পত্রিকার সংকট তুলে ধরেন অন্তত দু’জন সাংবাদিক। এক সাংবাদিক বলেন, বিজ্ঞাপনের অভাবে টেলিভিশন শিল্প রুগ্ন শিল্পে পরিণত হচ্ছে। আরেক সাংবাদিক জানান, প্রিন্ট মিডিয়ার মরণদশা হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা দেওয়াই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জবাবে মুদ্রিত সংবাদমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বের অনেক নামকরা সংবাদমাধ্যম এখন ছাপা পত্রিকা বাদ দিয়ে অনলাইনে চলে এসেছে। আর টেলিভিশন নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘রুগ্ন শিল্প’ হচ্ছে বলা হলেও এখনও অনেকে নতুন চ্যানেল চাচ্ছেন।
সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা বলেন প্রধামন্ত্রী। ‘ওয়েজবোর্ড নিয়ে সরকার পক্ষ থেকে যতটুকু করণীয় আমরা কিন্তু সেটা করে দিয়েছি। এটা নির্ভর করছে যে, মালিকপক্ষ তারা কতটুকু বাস্তবায়ন করবে। এখানে আমাদের দায়দায়িত্ব নেই’।
সংবাদপত্র ও বার্তা সংস্থার কর্মীদের বেতন বাড়াতে নবম মজুরি বোর্ড গত বছর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে সুপারিশ জমা দেয়। ওই সুপারিশ পর্যালোচনা করে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি হয়। এরমধ্যে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে পর নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন হলে ওই মন্ত্রিসভা কমিটি পুনর্গঠন হয়। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি জানা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এই খাত এখন রুগ্ন শিল্পের মতো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিজ্ঞাপনের বাজারটা চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে। বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছিল দেশের আইন ভঙ্গ করে। এছাড়া নতুন নতুন ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু হয়েছে ফেসবুক, ইউটিউব। এগুলোতে অনেক বিজ্ঞাপন চলে যাচ্ছে। আর এতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আর্থিক সংকটে রুগ্ন হয়ে পড়ছে।
জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনি বলছেন রুগ্ন শিল্প হচ্ছে। কিন্তু দেখছি এখনও অনেকে নতুন চ্যানেল চাচ্ছে। কালকে আমার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হলো, আমি বললাম যত চাচ্ছে সবই দিয়ে দাও। আর কিছু না হোক কিছু লোকের তো চাকরি হবে। কর্মসংস্থান হবে’।
চ্যানেলগুলো পরিচালনায় ব্যয় সাশ্রয়ের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডিজিটালাইজড করে দিয়েছি। স্যাটেলাইটও করে দিয়েছি। এখনতো স্যাটেলাইটের মধ্যে চালাতে পারে। এমনকি স্যাটেলাইট বিনা পয়সায় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো সেভাবে নিচ্ছে না তো। অথচ বিদেশি ইসে অনেক টাকা দিচ্ছে। কাজেই এখানে টেকনিক্যাল কিছু আছে, যার ব্যাপারে আমি বসেছিলাম। কিভাবে আমাদের প্রত্যেকটা চ্যানেল আরও অল্প খরচে করতে পারবে। কেবল অপারেটরদের চ্যানেল যত সামনে থাকবে তত আগে মানুষ দেখবে। কেবল অপারেটরদের খুশি করার সেটাও তো একটা বিষয় আছে। অনেকে তো আবার খুশি করে সামনেও নিয়ে আসে। ওই টেকনিক্যাল ব্যাপারও তো আছে। আছে অনেক কিছুই’। ভালো অনুষ্ঠান হলে মানুষ ওই চ্যানেলের প্রতি আকৃষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। খবর বিডিনিউজের
মুদ্রিত সংবাদপত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এক সাংবাদিক। তিনি বলেন ‘প্রিন্ট মিডিয়ার মরণ দশা হয়ে গেছে। সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা দেওয়া সমস্যা’। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তি মানুষকে যেমন সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়, আরও আধুনিকতায় নিয়ে যায়, বিশ্বকে জানার সুযোগ করে দেয়। আবার সমস্যাও সৃষ্টি করে। আমরা যদি এক ধরনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকি তাহলে কিন্তু হবে না। সারা বিশ্বে অনেক নামিদামি পত্রিকা সেগুলো কিন্তু বন্ধই হয়ে গেছে। কারণ অনেক পত্রিকা এখন অনলাইনেই চলে, কোনো ছাপা হয় না। এ রকম বহু নামকরা পত্রিকা তারা কিন্তু চলে গেছে অনলাইনে’। এটাকে প্রযুক্তির প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও আধুনিকতার প্রভাবে এভাবে বিবর্তন আসতেই থাকবে। তবে এ বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এটা হলো বড় কথা’।
বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক সংবাদপত্র থাকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দৈনিক পত্রিকা প্রায় ৭০০ এর ওপরে। মফস্বলে আমাদের প্রচুর পত্রিকা। এতো পত্রিকা মনে হয় পৃথিবীর কোনো দেশে চলে না। কোনো দেশে নাই। সিঙ্গাপুরে একটি মাত্র কোম্পানি। তাদের পত্রিকা। সেটাও সরকার স্পন্সরড। তাদেরই বিভিন্ন ভাগাভাগি। ব্যবসা, খবর, বিনোদন, স্পোর্টস এ রকম ভাগাভাগি। অন্যান্য সব দেশেও। আমাদের প্রতিটি আশেপাশের দেশে দেখেন। আমাদের মতো এতো পত্রিকা কিন্তু কোনো দেশে নেই’।