চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

লোকাল বাসের জায়গায় হালকা যানেই মরণফাঁদ

ইকবাল ফারুক, চকরিয়া

25

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যে কোনো উপজেলা সদর থেকে স্বল্পদূরত্বে যাতায়াতে জন্য দুয়েক বছর আগেও ছিল লোকাল বাস সার্ভিস। মহাসড়কে চলাচলের উপযোগী সেসব গাড়িতে করে যাত্রীরা এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশন কিংবা নিজেদের গন্তব্যে যেতেন। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে তিন চাকার যানবাহন বা সিএনজি ট্যাক্সি চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সড়কে ‘চার চাকার যানবাহনের’ নামে স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ও আমদানি করা হালকা যানের (লেগুনা, ম্যাজিক গাড়ি, ছারপোকা ইত্যাদি নামে পরিচিত) দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তারা যাত্রী ‘কেড়ে নেওয়ায়’ উঠে যায় লোকাল বাস। এতে বেধেছে বিপত্তি। এসব হালকা যানের কারণেই এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে মহাসড়ক। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, কেড়ে নিচ্ছে যাত্রীদের প্রাণ।
মহাসড়ক থেকে লোকাল বাস উঠে যাওয়ায় স্বল্পদূরত্বের যাত্রীরা পড়েছেন বেকায়দায়। তারা বাধ্য হয়েই উঠছে এসব হালকা যানবাহনে। অন্যদিকে অদক্ষ কিছু কিশোর রাতারাতি এসব লেগুনার চালক বনে গেছে। এতে হতাহত হচ্ছে মানুষ।কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ও হারবাং এলাকায় গত দুই দিনে হালকা যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে পৃথক দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে স্থানীয় লোকজন ও সাধারণ যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর আগেও চকরিয়ায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা মহাসড়কে চলাচলরত লোকাল বাসে করে তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে যেত পারত। হঠাৎ করে এসব গাড়ি চেয়ার কোচে রূপান্তর করে ফেলায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের আর এসব গাড়িতে তোলা হয়না। ফলে ভোগান্তিতে পড়ে চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দূরত্বে যাতায়তকারী লোকজন। আর এ সুযোগে রাস্তায় নেমে পড়ে তিন চাকার গাড়ি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা, ইজিবাইক (টমটম)। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার মহাসড়কে তিন চাকার এসব গাড়ি নিষিদ্ধ করলে মহাসড়ক দখলে চলে যায় চার চাকার গাড়ি লেগুনার। ফলে চকরিয়া থেকে বরইতলী, হারবাং, আজিজনগর, চুনতি, লোহাগাড়া ও মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, খুটাখালী যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষগুলো বাধ্য হয়েই চলাচল করছে সিএনজির চাইতেও অনিরাপদ, হালকা যানবাহন লেগুনা সার্ভিস দিয়ে। আর এসব গাড়িগুলি অদক্ষ চালক দিয়ে মহাসড়কে চলাচলের কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এছাড়া পণ্যবাহী মিনি পিকআপকে অবৈধভাবে ছাউনি লাগিয়ে যাত্রীবাহী ম্যাজিক (ছারপোকা) সার্ভিসে রূপান্তর করে চলাচল করছে মহাসড়কে। বেপরোয়া গতিতে এসব যানবাহন মহাসড়কে চলাচলের কারণেও বিভিন্ন সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। বরইতলী ইউনিয়নের উপরপাড়া এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন গতকাল পূর্বদেশকে বলেন, উপজেলার বানিয়াছড়া এলাকায় একটি ফার্মে চাকরি করার কারণে প্রতিদিন তাকে সেখানে যেতে হয়। বাড়ি থেকে বের হয়ে মহাসড়কে আসার পর গাড়ি না পেয়ে অনেক সময় ঘন্টাব্যাপী দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সড়কে। ফলে লেগুনা অথবা টমটমে করে অনেকটা বাদুরঝোলা হয়েই প্রতিদিন নিজ গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন তিনি।
হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে লোকাল বাস না থাকার কারণে কম দূরত্বের যাত্রীরা চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন। তাই তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেগুনা, মাহিন্দ্রা, টমটম ও ম্যাজিক (ছারপোকা) গাড়িতে করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে চকরিয়ার কোথাও না কোথাও প্রতিদিন ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। তিনি মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনিক উদ্যোগে লোকাল বাস চালুর দাবি জানান।
মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, চকরিয়ায় চিরিংগা ও মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশে অধীনে ৪৮ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। তন্মধ্যে চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের অধীনে ২৩ কিলোমিটার এবং মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের অধীনে ২৫ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব সড়কের মধ্যে অন্তত ৫৫-৬০টি উপসড়ক রয়েছে। প্রতিদিন এসব উপসড়কের কোথাও না কোথাও থেকে বেপরোয়া গতিতে মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন উঠে পড়ে। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।