লিটন দাশ’র একক উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সংগীত সন্ধ্যা

40

চট্টগ্রামের উদীয়মান উচ্চাঙ্গ ও নজরুলসংগীত শিল্পী লিটন দাশ’র জন্ম ২৩ মে ১৯৮৪ খ্রি. পশ্চিম গুজরা গ্রামে। তাঁর পিতা খ্যাতিমান কবিয়াল অশ্বিনী দাশ মাতা কবিয়াল আলপনা দাশ’র অনুপ্রেরণায় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পিতার কাছে হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে শাস্ত্রীয়সংগীত শিখেছেন সজল দেব, তাপস দত্তের কাছে। এরপর দীর্ঘ ১৫ বৎসর যাবৎ শাস্ত্রীয়সংগীতে পন্ডিত স্বর্ণময় চক্রবর্তীর কাছে তালিম নিচ্ছেন এবং ঢাকার স্বনামধন্য উস্তাদ ইয়াকুব আলী খাঁন এর কাছে ও দীর্ঘদিন উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সংগীতে তালিমরত। তিনি সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের কাছে ও বাংলা খেলায়, ঠুমড়ী বিষয়ে তালিমরত, পড়াশুনায় বি-কম (¯স্নাতক) সম্পন্ন করার পর, ¯স্নাতকোত্তর পড়া অবস্থায় শাস্ত্রীয়সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিবিড় চর্চায় মনোনিবেশ করেন। মারোয়া রাগে প্রেমের কথা, মেঘ রাগে বর্ষার ঘনঘটায় প্রিয়জনের অনুপস্থিতির বেদনা, ভৈরবীর সুরে সকাল বেলার প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের বর্ণনা কিংবা ইমনের সুরে সন্ধ্যায় নববধূর পুলক জাগানো প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষার কথা-কি ছিলনা সে দিনের আয়োজনে, গত ২৩ মে শিল্পী লিটন দাশ’র ৩৪তম জন্মদিন উপলক্ষে শ্রæতিঅঙ্গন বাংলাদেশ স্টুডেন্টস ফোয়ামের আয়োজনে বিকাল ৫ টায় নগরীর প্রেসক্লাব, জামাল খান-ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক মিলনায়তনে একক উচ্চাঙ্গ ও নজরুলসংগীত সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, পূর্ণাঙ্গ মানুষ হতে গেলে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংস্কৃতিক আবহকে ধারন করতে হবে। নাটক, গান, কবিতা, ছবি আকাঁ সব কিছু মিলিয়েই মানুষের মধ্যে জীবন বোধ তৈরী হয়। মানুসের জীবন অপরিসীম। শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ জ্ঞানে জীবনকে ছেট্ট গন্ডিতে বেঁধে ফেলনে কিভাবে হবে। লিটন দাশ শাস্ত্রীয় ও নজরুল সংগীতে শ্রেতা প্রিয়তা পাওয়া শিল্পী, গানেই সে যথার্থ প্রাণ খুঁজে পায়। সত্যিকারের ‘লিটন’ হতে আগ্রহী কেবল গানে, তাইতো তাঁর নিরন্তর ছুটে চলা এপার বাংলা ওপার বাংলায় ছুটে চলা। চুমকি রানীর সঞ্চালনায় ও স্বাগত বক্তব্য দেন শ্রæতিঅঙ্গন বাংলাদেশ স্টুডেন্টস ফোয়ামের সহ সভাপতি লিটন কান্তি দাশ, অনুুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের, ডিন ড. শংকর লাল সাহা প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর বেনু কুমার দে। উদ্বোধনী সংগীত ভ‚পালী রাগপ্রধান গান ‘হে মোর সুরের গুরু বন্দি তব রাতুল চরণ’ পরিবেশন করণে শ্রæতিঅঙ্গনের শিক্ষার্থীবৃন্দ। ২য় পর্ব একক সংগীত পরিবেশনায় গানের ডালি নিয়ে মঞ্চে আসেন লিটন দাশ। শুরুতে, বিলম্বিত একতাল ও ত্রিতালে রাগ মারোয়া, মিশ্রকাফী রাগে ‘ঠুমড়ী’ না যাওরে তুম পরদেশ প্রিয়া, সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের রচনায়, ‘বাংলা গজল’ মরতে হবে একা একা বাঁচা যাবে না ‘বসন্ত বাহার’ রাগ প্রধান গান, সুর না সাজে ক্যায়া গাউমে, দরবারী রাগ প্রধান গান, ঝনক ঝনক তোরি বাজে পায়েলিয়া, মিশ্র তিলংরাগে, ‘কাজরী’ বর্ষন লাগি সাবন বোধিয়া রাজা, এরপর ইফতার এর বিরতিতে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন শিক্ষার্থীবৃন্দ। এরপর বিলম্বিত একতাল, দ্রæত ত্রিতালে রাগ মেঘমল্লার, পটদীপ রাগে নজরুল সংগীত প্রথম প্রদীপ জালো, মূলতান-কানাড়া রাগে, অঝর ধারায় বর্ষা ঝরে, পলাশী মিশ্র রাগে- পলাশ ফুলের গেলাস ভরি, ভাইয়ের দোরে ভাই কেঁদে যায় , আমায় নহে গো ভালোবাসো শুধু মোর গান, শাওন আসিল ফিরে সে ফিরে এলো না, তৌহিদেরই মুরশিদ আমার, চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়, খেলা শেষ হল শেষ হয় নাই বেলা গানটি পরিবেশনার মধ্যদিয়ে তাঁর পরিবেশনা শেষ করেন। ভাব প্রকাশের গভীরতা ও সুরের শুদ্ধতায়-খেয়াল, ঠুমড়ী-দাদ্রা, কাজরী ও নজরুলের গানে শ্রোতাদের বিমোহিত করলেন শ্রæতিঅঙ্গন বাংলাদেশর সংগীত শিক্ষক ও শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়া লিটন দাশ। তিনি সংগীত চর্চার পাশাপাশি ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি,“শ্রুতিঅঙ্গন বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা করেন। যার অর্ধযুগ পুর্তি গত ২৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিঃ “থিয়েটার ইনিস্টিটিউট” চট্টগ্রামে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ বেতারে ও উচ্চাঙ্গ ও নজরুল সংগীতে তালিকাভুক্ত হয়ে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করেছেন। এবং বর্তমানে দীর্ঘদিন যাবৎ “ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ চট্টগ্রামে” সংগীত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সকলের আশির্বাদ ও দোয়া কামনা করছেন। যন্ত্রানুসঙ্গে-তবলায়: পন্ডিত দিপক আচার্য্য (কোলকাতা) সমীর আচার্য্য, (কোলকাতা) জয় প্রকাশ ভট্টাচার্য, বেহালায় : শ্যামল দাশ (ফেনী), কিবোর্ড : সৃজন রায়, অক্টোপ্যাড : সুমন দাশ গুপ্ত।