লামা ও আলীকদমের ব্যাপক ফলন সবজি হিসাবে মারফার চাহিদা বাড়ছে

লামা প্রতিনিধি

44

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার জুমে উৎপাদিত মজাদার সবজি হিসেবে মারফার কদর দিন দিন বেড়ে চলেছে। পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারে তরকারি হিসেবে মারফার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ কারণেই প্রতি মৌসুমে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে সচরাচর জুমে উৎপাদিত মারফার চলে বিকিকিনি। এক সময় জুম চাষিরা পাহাড়ে জুম ক্ষেতে কাজ করার সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটানোর জন্য মারফা খাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণে চাষ করতো। স¤প্রতি বছরগুলোতে প্রায় জুমেই এ চাষ হচেছ। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মারফা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জুমিয়ারা মনে করছেন, পাহাড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভাবে মারফা চাষ করা গেলে ফলন আরো বৃদ্ধি পেত। যা স্থানীয় সবজির চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে বিক্রি করা যেত এবং এ মারফা চাষের মাধ্যমে উপজাতি জুমিয়ারা স্বাবলম্বি হতে পারত। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির বিষয়ে জুমিয়া কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান দরকার বলেও তার মনে করছেন জুমিয়ারা।
স্থানীয় জুম চাষীদের কাছ থেকে জানা যায়, মারফা দেখতে শসার মত। এটি কাঁচা এবং তরকারি হিসেবেও খাওয়া যায়। কচি মারফা দিয়ে শসার বিকল্প হিসেবে সালাদও তৈরি করেন স্থানীয়রা। শসা অনেকখানি লম্বা হলেও মারফা সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এর ওজনও সাইজ অনুযায়ী সর্বোচ্ছ ২ কেজি পর্যন্ত হয়। শসার তুলনায় মারফার খোসা তুলনামূলক শক্ত। এটি কচি অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ ও লাল রং ধারণ করে। কিছু কিছু জাত রয়েছে যা পাকলে সাদা রংয়ের হয়। চলতি মৌসুম এলেই স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে জুমে উৎপাদিত বেগুন, কুমড়া, কাঁচামরিচ ও মারফাসহ বিভিন্ন শাক সবজি উঠতে শুরু করে। জুমে উৎপাদিত ফসল রাসায়নিক সার ও কীটনাশকবিহীন হওয়ায় রয়েছে আলাদা কদর।
লামা ও আলীকদমের বিভিন্ন হাঁট-বাজারে জুমে উৎপাদিত অন্যান্য ফসলের সাথে বিপুল পরিমাণে মারফার মজুদ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিন শনি, সোম ও মঙ্গলবারে এ সবজি পাওয়ো যায়। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবজি হিসেবে মারফার এখন প্রচুর চাহিদা রয়েছে। শুধু স্থানীয়ভাবে নয়, বর্তমানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও এর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা মারফা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাজারে এর মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজি মারফা বর্তমানে ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
লামা উপজেলার ছাগলখাইয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সমির উদ্দিন জানায়, এক সময় কচি মারফা খিরা ও শসার ন্যায় কাঁচা খেতাম। এখন পাকা মারফা রান্না করেও খাওয়া হচ্ছে। মারফা শসার বিকল্প হিসেবে চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে বেশ মজাদার হয়। মাংস দিয়েও মারফা ভালো রান্না হয়। রুপসিপাড়া এলাকার কৃষক অংবাই মারমা জানান, জুম খেতে ধানের বীজ রোপার সময় মারফার বীজ বুনতে হয়। তার পর ধানের ফাঁকে ফাঁকে মারফা গাছ হয়। দু’মাস পর ফলন আসা শুরু করে। প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ টি মারফা ধরে। উৎপাদিত ফলনের কিছু অংশ নিজেরা খান। অবশিষ্ট অংশ বাজারে বিক্রি করেন বলেও জানান তিনি।
আলীকদমের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তফা বলেন, মারফা পাহাড়ের ঢালুতে চাষ উপযোগী একটি সবজি। এ অঞ্চলের জুমে ব্যাপকভাবে উৎপাদন হচ্ছে। উপজাতি জুমিয়ারা নিজস্ব পদ্ধতিতে এ চাষ করে থাকেন এবং নিজেরাই এর রোগ বালাই মোকাবেলা করে থাকেন।