লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো আবাদ

ইকবাল হোসেন

38

চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে বোরো আবাদ। বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। বিগত মৌসুমে নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আবাদ কম হলেও এবার বেড়েছে। চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের ১৩ উপজেলা ও নগরীর পাঁচলাইশ জোন মিলিয়ে ৬৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, বিগত আমন মৌসুমে কৃষকরা ধানের ভাল দাম পেয়েছে। আর আবহাওয়া চাষাবাদের অনুকূলে থাকায় বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে এবার বোরো মৌসুমে ৯১৭৭ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের এবং ৫২০০৩ হেক্টর জমিতে উফশি জাতের ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে ক্ষেত্রে ১০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড এবং ৫৪ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে উফশি সবমিলিয়ে ৬৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এতে হাইব্রিড জাতে এক হাজার ৩২৩ হেক্টর এবং উফশি জাতে দুই হাজার ৬৭ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি মৌসুমে ২৫টি গভীর নলকূপ, ২ হাজার ৭৯৯টি অগভীর নলকূপ, ৫ হাজার ৫৬১টি এলএলপি যন্ত্রের মাধ্যমে ৬৪ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, জেলার ফটিকছড়িতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেড়ে ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাটহাজারীতে ৫০ হেক্টর বেড়ে ৪ হাজার ২০০ হেক্টর, ৪ হাজার ৬৪৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার স্থলে আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে। শুধু রাউজান উপজেলাতেই সর্বোচ্চ ৮৫৫ হেক্টর জমিতে আবাদ বেড়েছে। রাঙ্গুনিয়ায় এবার ৭ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। একইভাবে মিরসরাইয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭১০ হেক্টর বেড়ে দুই হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। সীতাকুন্ডে ১৫ হেক্টর জমির স্থলে ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধানের।
অন্যদিকে জেলার বোয়ালখালীতে এবার ১৫শ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার স্থলে ১৬শ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। পটিয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১০ হেক্টর বেড়ে ৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বোরো ধান। আনোয়ারা উপজেলায় এবার ৬ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বেড়েছে ১৮০ হেক্টর। চন্দনাইশে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়ে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। একইভাবে লোহাগাড়া উপজেলায় ৩ হাজার ৩শ হেক্টর জমির স্থলে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৬ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির স্থলে ৬ হাজার ৭শ হেক্টর, বাঁশখালীতে ৯ হাজার ৬০ হেক্টর জমির স্থলে ৯ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। নগরীর পাঁচলাইশ জোনেও বেড়েছে আবাদ। নগরীর এ জোনে ৪০ হেক্টর বেড়ে ৬৯০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আমিনুল হক চৌধুরী পূর্বদেশকে জানান, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বোরো আবাদ কম হয়েছিল। যে কারণে এবার সহনীয় পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃতি ভাল আচরণ এবং বিগত আমন মৌসুমে ধানের ভাল দাম পাওয়াতে এবার বোরো মৌসুমেও কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহী ছিল। সবমিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আবাদ সম্ভব হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বারের চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে কৃষকেরা জৈব সার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। নন ইউরিয়া সারের দামও কম। এতে চাষাবাদের খরচও কমছে। আবার সরকারিভাবেও প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বিগত বছরের চেয়ে সেচের আকারও বেড়েছে। এসব কারণে চলতি বোরো মৌসুমে আবাদ বেশি হয়েছে।’