চট্টগ্রামে আউশের ফলন

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধা হবে অনিয়মিত বৃষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক

13

চট্টগ্রামে এবার আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন। যা গতবারের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯৬ ভাগ আউশধানের বীজতলা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বর্ষার শুরুতেই অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।
চট্টগ্রামের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ৩ মেট্রো থানা ও ১৪ উপজেলায় আউশ ধান চাষের জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৫শ হেক্টর। যার মধ্যে হাইব্রিড ৫ হাজার ৯৩৩ হেক্টর, উফসী ২৮ হাজার ৩৫৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের চাষ হবে ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এই আবাদ থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৭ মেট্রিক টন চাল। যারমধ্যে হাইব্রিড জাতে ১৯ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন, উফসী ৭৮ হাজার ৪ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাতের ধান থেকে ১১ হাজার ৪৯৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই এলাকায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯১ হাজার ৬৩১ মেট্রিক টন চাল। উৎপাদন হয়েছিল ৯৬ হাজার ২৮২ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ৪ হাজার ৬৫১ মেট্রিক টন চাল বেশি। যেখানে হাইব্রিড জাত থেকে ১৮ হাজার ৯৯৬ মেট্রিক টন, উফসী জাত থেকে ৬৪ হাজার ৯৪৮ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাত থেকে ১২ হাজার ৩৩৮ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছিল।
অন্যদিকে আউশ ধানের আবাদের জমির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজান ৪৮২ হেক্টর, যার মধ্যে প্রকৃত আবাদ হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৮১ হেক্টর।
গতবারের অভিজ্ঞতা থেকে এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এছাড়াও আউশের উৎপাদন বাড়াতে ১৩ হাজার কৃষকের ১৩ হাজার বিঘা জমির জন্য প্রণোদনামূলক রাসায়নিক সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। তবে বর্ষার শুরুতেই অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে বীজতলা সম্পন্ন হলেও ফলন আশানুরূপ হবে না। তবে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে, লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশে অর্জন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন।
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামে বিভিন্ন জায়গায় আবাদের সময়ের মধ্যে প্রার্থক্য রয়েছে। তাই এখনও ভালো করে বলা যাচ্ছে না। বর্ষার শুরুর থেকে অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তবে এই মাসের বাকি সময়ে যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশে অর্জন করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে ৫৫ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে বলে জানান তিনি।