রপ্তানি আয়ে হোঁচট

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ

পূর্বদেশ ডেস্ক

8

সুখবর নিয়ে অর্থবছর শুরু হলেও দ্বিতীয় মাসে এসেই বেশ ধাক্কা খেয়েছে রপ্তানি আয়। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি আয় করেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টেই তা হোঁচট খেয়েছে। এই মাসে গত বছরের আগস্টের চেয়ে আয় কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, কোরবানি ঈদের কারণে কয়েক দিন পোশাক কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন থেকে শুরু করে রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সে কারণেই রপ্তানি কমেছে। পরের মাসগুলোতে রপ্তানি বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
গতকাল মঙ্গলবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ (৬.৭৯ বিলিয়ন) ডলার করেছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি; লক্ষ্যমাত্রারচেয়ে আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।
প্রথম মাস জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৩৫৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে হয়েছে ৩২১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। জুলাই মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ৭ শতাংশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬৫৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আয় হয়েছিল ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। খবর বিডিনিউজের
আগস্ট মাসে আয় হয়েছে ৩২১ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। লক্ষ্য ছিল ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৩৬৪ কোটি ডলার।
ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-আগস্ট সময়ে মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪ দশমিক ৪০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। অর্থাৎ ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মধ্যে ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলারই এখাত থেকে এসেছে। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে এসেছে ২৯১ কোটি ২৮ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৫৩শতাংশ। উভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২৮২ কোটি ২২ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। মূলত, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কারণেই আগস্টে সার্বিক রপ্তানি আয় হয়েছে।
জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২২ শতাংশের মত প্রবৃদ্ধি হলেও আগস্টে হয়েছে ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।
শুরুটা খুব ভালো হল’ মন্তব্য করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সহ সভাপতি ফারুক হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুরুটা খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঈদের কারণে ২০ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অধিকাংশ কারখানা বন্ধই ছিল বলা যায়। সে কারণেই আগস্টে রপ্তানি আয় ধাক্কা খেয়েছে। প্রতি বছরই দুই ঈদের ছুটিতে এমন হয়।
অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে আয় বাড়বে আশা করে তিনি বলেন, কারখানাগুলোর উন্নয়নে পোশাক শিল্প মালিকরা গত কয়েক বছরে অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কষ্টও করেছেন। ৮০ শতাংশের বেশি কারখানা উন্নত কর্মপরিবেশের আওতায় চলে এসেছে। এতে বায়াররাও খুশি। এ কারণেই বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বেড়েছে এবং ক্রয়াদেশ বেড়েছে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সহসভাপতি।
তবে ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক দরপতন করায় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুলাই-আগস্ট সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। হিমায়িত মাছ রপ্তানি কমেছে ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। চা রপ্তানি কমেছে ৯৪ শতাংশ। তবে স্পেশালাইজড টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়েছে ২৪ শতাংশ। ওষুধ রপ্তানি বেড়েছে ১৯ শতাংশ।
গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ (৩৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে।
সার্বিক রপ্তানি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ বাড়লেও তা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ২২ শতাংশ কম।
মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানির উপর ভর করেই গত অর্থবছর ওই প্রবৃদ্ধি হয়। মোট রপ্তানির ৮৩ দশমিক ৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকেই।
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৩৯ বিলিয়ন (৩ হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।
এবার দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।