লংগদু সেনা জোনের বাংলা নববর্ষ উদযাপন

রাঙামাটি প্রতিনিধি

49

লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে পাহাড়ি বাঙালির মিলন মেলায় উদযাপন করা হয়েছে বাংলা নববর্ষ। সোমবার থেকে ৩দিন ব্যাপি ৪টি স্থানে কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন লংগদু সেনা জোন। বাংলা নববর্ষ ও বৈসাবির আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন সেনা জোন, লংগদু। নববর্ষ ও বৈসাবিকে ঘিরে সেনা জোন বস্ত্রদান ও আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন পাহাড়ি বাঙালি সাধারণ মানুষকে।
সেনা জোন সূত্রে জানা গেছে, ৩ দিনের কর্মসূচিতে উপজেলার ৪টি স্থানে সেনা জোনের উদ্যোগে নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো, র‌্যাংকাইজ্জা, বামে আটারকছড়া, ডানে লংগদু ও দক্ষিণ মাহিল্যা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সেনা জোনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে লংগদু জোন কমান্ডার ও তার পরিবারবর্গ, সেনা জোনের সদস্যবৃন্দসহ পাহাড়ি বাঙালিরা অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নববর্ষ উদযাপন কমিটির সাথে আলাপ করে ৪টি স্থানে জোনের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া আটারকছড়া উদযাপন কমিটিকে জোন কমান্ডার নগদ ৫ হাজার টাকা ও জনসাধারণের সুবিধার্থে ২২৫জনকে বিভিন্ন রোগের বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করেন এবং ১০০ জনকে ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দেন। নববর্ষ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতিতে উত্তর র‌্যাংকাইজ্জা আটারকছড়া যুব সমাজ সেনা জোনের অনুষ্ঠানে মুগ্ধ হয়ে মাদকমুক্ত যুব সমাজ গঠনের ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো.জানে আলম, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য স্বতরুপা চাকমা, আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমাসহ জনপ্রতিনিধিসহ পাহাড়ি বাঙালি কয়েক হাজার দর্শক।
জোন কমান্ডার লে. কর্নেল আবদুল আলীম চৌধুরী বলেন, লংগদু জোন প্রতি বছর বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। কিন্তু এ বছর তার চিত্র ছিল অন্য রকম। এ বছর দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ভাবে। এবারের উৎসবে পাহাড়ি বাঙালির পাশাপাশি নিরাপত্তাবাহিনীর লোকজন প্রতিটি অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে। তাই এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকিবে। এছাড়াও এখানকার গরিব মেহনতি পাহাড়ি বাঙালিদের সকল বিপদ আপদে সেনা জোন পাশে থাকবে। সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের জন্য এখানে শান্তি সম্প্রীতির বন্ধনটুকু আরো প্রসারিত হওয়া দরকার বলে মনে করি।