লংগদু উপজাতি মুরব্বি ক্লাবের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

18

লংগদু সেনা জোনের ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ উপজাতি মুরব্বিদের বিনোদন ক্লাব। সচরাচ শুনা যায় ক্লাব মানি অসামাজিক কার্যকলাপের আড্ডা। তাই লংগদু সেনা জোনের অধিনায়ক চিন্তা চেতনায় একটি ভিন্নতর উদ্যোগে উপজাতি মুরব্বি ক্লাব তৈরী করে দিয়ে সেখানে শিক্ষণীয় অনেক কিছু সরঞ্জাম উপহার দিলেন জোন কমান্ডার কর্ণেল আবদুল আলীম চৌধুরী। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে যুবক তরুণ তরুণীরা বেশীর ভাগ সময়ে ফেসবুকে কাটান।কিন্তু মুরব্বিরা মুরব্বিরা সাধারণত্ন অবসরে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন। এঅবসর সময় বড়ই জটিল। এসব মাথায় রেখে প্রত্যন্ত দুর্গম এলাকায় একটি মুরব্বি ক্লাব তৈরীর উদ্যোগ নেন লংগদু জোন অধিনায়ক। তাই ২০১৬ সালে ডানে আটারকছড়া গ্রামে এই মুরব্বি ক্লাবটি ছোট্ট পরিসরে নির্মাণ করা হয়। সেখানে জোন কর্তৃক দেওয়া হয়েছে একটি রঙিন টিভি। পরে দেখা যায়, এ ক্লাবে দিন দিন মুরব্বিদের আড্ডা জমতে থাকে। ক্ষুদ্র পরিসরে তৈরী মুরব্বি ক্লাব এখন আর মুরব্বিদের আড্ডার পাশাপাশি এখন সেখানে জমে উঠেছে পাঠশালা। বর্তমানে মুরব্বি ক্লাবে রয়েছে দৈনিক সংবাদপত্র, বইপড়া, শিশুদের কোচিং ও গান শিখানো হয়। মুরব্বিরা জানান, শিশুরা কেন বাদ যাবে তাই এখন থেকে শিশুরাও এ ক্লাবে এসে গান শিখতে পারবেন। সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন লংগদু সেনা জোন। লংগদু উপজেলাধীন আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মঙ্গল কুমার চাকমা জানান, লংগদু জোন কর্তৃক একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগে এ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও মুরব্বি ক্লাব নামে এ ক্লাবটি তৈরী করা হয়েছে কিন্তু এখন এটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন পাঠশালা হয়ে দাড়িয়েছে। এ ক্লাবটি হওয়াতে মুরব্বিদের পাশাপাশি শিশুরাও উপকৃত হচ্ছে। আটারকছড়ার মুরব্বি জানান, লংগদু সেনা জোন কর্তৃক মুরব্বি ক্লাব তৈরী করেছেন শুধু মুরব্বিদের বিনোদন ক্লাব হিসেবে কিন্তু এখন মুরব্বিদের পাশাপাশি এখন শিশুরাও বিনোদনের পাশাপাশি কোচিং সেন্টার হিসেবে এ ক্লাবে পাড়ালেখা করছে ও গান শিখছে। এ মুরব্বি ক্লাবে কোচিং করে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিকা চাকমা জানান, সে অত্যন্ত গরিব ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছেন তার পড়ার মত একটি ভাল জায়গা নেই। যার জন্য সে মুরব্বি ক্লাবে এসে পড়তে ভালবাসে। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি এই মুরব্বি ক্লাবে গান শিখছে বিনোদন করছে। লংগদু সেনা জোন অধিনায়ক জানান, এ এলাকায় গিয়ে দেখেন মুরব্বিরা যত্রতত্র বসে আছেন। তখন জোন অধিনায়ক সিন্ধান্ত নিলেন এ এলাকায় একটি মুরব্বি ক্লাব তৈরী করবেন।
পরে তিনি ছোট্ট পরিসরে একটি মুরব্বি ক্লাব তৈরী করেন। পরে সেখানে মুরব্বিদের বিনোদনের জন্য একটি টিভি ও কিছু সংবাদপত্র দিয়েছেন। লংগদু সেনা জোন অধিনায় ধীরে ধীরে ওই মুরব্বি ক্লাবটি আরো প্রসারিত করে সেটাকে হাফ ওয়াল দিয়ে আরো একটু উন্নত করে সেখানে বিনোদনের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে এ ক্লাবটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লাবটিতে রয়েছে মুরব্বিদের বিনোদন,শিশুদের জন্য রয়েছে গান শিখার আসরও কোচিং সেন্টার।এবার জোন অধিনায়কের নতুন উদ্যোগ গ্রহন করেছেন ক্লাবের চার পাশে বৃক্ষরোপন করা হবে। নিজ হাতে বৃক্ষরোপন শুরু করেছেন লংগদু জোন অধিনায়ক কর্ণেল আবদুল আলীম চৌধুরী। তিনি আরো বলেন, তার বাবা ছিলেন একজন সুদক্ষ ও সৎ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তার বাবার প্রতি অনুকরণ করাই ছিল তার ছোট্ট বেলার অব্যাস।