লংগদুতে কাপ্তাই হ্রদের পাড় ভরাট করে জমি দখলের অভিযোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

8

রাঙামাটির লংগদুতে বাজারের মাটি কেটে কাপ্তাই হ্রদের পাড় ভরাট করে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরের নিকটবর্তী মাইনিমুখ বাজার এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানা গেছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে চরম বিরোধে জড়িয়েছেন দুই পক্ষ। তাদের মুখোমুখি অবস্থানে যে কোনো মুহূর্তে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি রোববার অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপিত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. নুর।
জানা যায়, ওই এলাকায় মাইনিমুখ বাজারের সংলগ্ন জমির অংশের মাটি কেটে জনৈক মোসলেম উদ্দিন এবং মো. রাহিম নামে দুই ব্যক্তি নিজেদের স্বল্প পরিসরের দোকান প্লটের পেছনে কাপ্তাই হ্রদের পাড় ভরাট করে জমি দখল করছেন। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা এরই মধ্যে দখল করা জমিতে পাকা স্থাপনার নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন। ভরাট করে কাপ্তাই হ্রদের পাড় ছাড়িয়ে দখল করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহামেদ তালুকদারের প্লটের জমি। ফলে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহমেদ তালুকদার এবং অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিনের মধ্যকার পক্ষ দুটির বিরোধ ধারণ করছে চরম আকারে। তাদের মুখোমুখি অবস্থানে উভয়ের মধ্যকার সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিজ নামীয় প্লটের জমিসহ বাজার এলাকার মাটি কেটে কাপ্তাই হ্রদের পাড় দখল করা হচ্ছে বলে প্রতিপক্ষ ওই দুই জনের বিরুদ্ধে লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহমেদ তালুকদার। তিনি অবিলম্বে ওইসব কার্যক্রম বন্ধ করে জায়গা দখলমুক্ত করতে আইনানুগ হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়ে বলেছেন, পুলিশ কার্যক্রম বন্ধ করে দিলেও ভেতরে ভেতরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিপক্ষরা।
রফিক আহমেদ তালুকদার তার অভিযোগে বলেন, মাইনিমুখ বাজারের ১৭ নম্বর প্লটের বর্ধিত অংশের বন্দোবস্তি করা জমির মালিক তিনি। এ প্লটে তার জমির পরিমাণ দৈর্ঘ্য ৪৫ ও প্রস্থ ৫৫ ফুট। তার উত্তর পাশে ১৯ নম্বর প্লটের পেছনে ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের জায়গার মালিক ক্রয়সূত্রে বিবাদিরা। সেই সুবাদে তাদের ১৯ নম্বর প্লটের পেছনে আমার ১৭ নম্বর প্লটের বর্ধিতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করছেন তারা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিবাদিদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
রফিক আহমেদ তালুকদার উল্লেখ করে বলেন, ১ ডিসেম্বর সকালে আমার প্লটের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘর নির্মাণ করছিলেন, মোসলেম উদ্দিন ও রাহিম। আমি প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করতে চেষ্টা করে। ওই সময় আমার চিৎকার শোনে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থল গিয়ে জড়ো হন। উপস্থিত লোকজনের সামনে ওই জায়গায় গেলে আমাদেরকে প্রকাশ্য প্রাণনাশের হুমকি দেয় তারা। তাই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাজার কমিটির সঙ্গে আলাপ করে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ দিয়েছি। এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন ও রাহিম বলেন, আমরা নিজের প্লটে পাকা স্থাপনা নির্মাণকাজ করছি। আমাদের জমির কাগজপত্র আছে। কারও বা কোনো জমি দখল করছি না। বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। এ প্রথম শুনলাম। তবে এ ধরনের যদি কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পেলে, তদন্তসাপেক্ষ তাৎক্ষণিক তা বন্ধ করে দেয়া হবে।
লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মো. নুর বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা রফিক আহমেদ তালুকদার তার জায়গা দখল করে দুই জন লোক ঘর নির্মাণ করছে মর্মে অভিযোগ করায় আমরা সরেজমিন ঘটনাস্থল গিয়ে তদন্ত করি। বর্তমানে সবকার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।