রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে জোর নিরাপত্তা পরিষদ সভাপতির

22

রোহিঙ্গাদের দেখে, তাদের সঙ্গে কথা বলে সঙ্কটের মাত্রা উপলব্ধি করে তা সমাধানে কাজ দ্রুত করার উপর জোর দিয়েছেন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি গুস্তাভো মেজা-চুয়াদ্রা। জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ৪০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে ঢাকায় ফেরার পর র‌্যাডিসন হোটেলে এক অনুষ্ঠানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি।
গুস্তাভো বলেছেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ‘মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতা’র কথা সরাসরি শুনেছেন তারা।
নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির পদটি প্রতি মাসে বদলায়; জাতিসংঘে পেরুর এই প্রতিনিধি তার এই মেয়াদের শেষ দিকে বাংলাদেশে এলেন। কুয়েত থেকে শনিবার সরাসরি কক্সবাজার গিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সেখান থেকে ফিরে র‌্যাডিসন হোটেলের অনুষ্ঠানে আসেন তারা।
সরেজমিন পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গুস্তাভো বলেন, তাদের এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল পরিস্থিতির মাত্রা বোঝা, যাতে নিরাপত্তা পরিষদ সমাধানের পথে এগোতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি, তাদের ভোগান্তির কথা শুনেছি, পরিবারগুলোর মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতার কথা আমরা শুনেছি। এই সহিংসতা তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে।”
গত বছরের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান শুরুর পর দলে দলে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমারের সৈন্যদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে জাতিগত দমন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন।
আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকার এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই। শরণার্থী প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে এলেন। এই শরণার্থীদের নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কাজ করবেন বলে জানান গুস্তাভো।
সেই কাজটিতে সফলতা কবে নাগাদ আসতে পারে বলে মনে করছেন- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “কখন শুরু হবে, তা বলা কঠিন। তবে কাজটি আমাদের দ্রুত করতে হবে। কারণ পরিস্থিতি বেশ জটিল।”
সার্বিক পরিস্থিতি দেখার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে র‌্যাডিসন হোটেলে এসে প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন গুস্তাভো। সার্বিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। লাখ লাখ শরণার্থীর ভার নিয়ে বাংলাদেশ কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, তা উপলব্ধি করার কথাও তিনি জানান। তিনি বলেন, তারা সোমবার যাবেন মিয়ানমারে, সঙ্কটের মূল কেন্দ্র যেখানে।
তিনি কক্সবাজারে সাংবাদিকদের বলেন, তারা ফিরে নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা করে সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো সমাধানটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন, এই সঙ্কট থেকে চোখ ফিরিয়ে নেবেন না।