রোজা ও কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে

আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী

29

রমজান শরীফের বরকতময় মাসে হুযূর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবাদত বন্দেগী খুব বেশি আদায় করতেন। এমাসে আল্লাহর স্মরণেও এবাদতে তিনি ব্যাপক উৎসাহ প্রদর্শন করতেন।
হুযূর পাক-এর বরকতময় স্বভাব ছিল যে, তিনি অধিক পরিমাণে দান-সদ্কা করতেন। কোন ভিখারি তার দরবার থেকে খালি হাতে ফিরে নি। রমজান মাসে তার দান-সদকার পরিমাণ অন্যান্য মাসের তুলনায় আরো বেশি বেড়ে যেত। বিশেষত হযরত জিব্রাঈল (আ.) তশরিফ আনলে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেত। হুজুর নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম রমজান মাসে উপরোক্ত পূণ্যময় আমলগুলো করেছিলেন উম্মতের শিক্ষার জন্য। তাই আমাদের উচিত পবিত্র রমজান মাসের প্রতিটি পবিত্র ক্ষণকে ইবাদত বন্দেগী, তসবিহ, জিকির, মিলাদ, কিয়াম, মুনাজাত ও দান-খায়রাতে অতিবাহিত করে রহমত, মাগফিরাত, নাজাত হাসিলে আত্মনিয়োগ করা। অধিক হারে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা এবং তারাবির নামাজে খতমে কুরআন শ্রবণ করা। বেশি পরিমাণ দান-সদকা করা। গরীব আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশি অভাবীদের সাহায্যে এগিয়ে আসা। বিশেষত বহু ফজিলতময় তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত আদায়ের চেষ্টা করা।
উল্লেখ্য, নামাজে তাহাজ্জুদ নফল নামাজ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে অধিক ফজিলত পূর্ণ। এবং রমজান মাসে এ নামাযের জন্য জাগ্রত হওয়া সহজ সাধ্যও বটে। যেহেতু এমনিতে সেহেরি খাওয়ার জন্য জাগ্রত হতে হয়। তাই জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, সেহেরি খেয়ে অতপর ফজর নামাজ আদায় করলে এভাবে রমজান শরীফের বরকতে এ নামাযের অভ্যাস হয়ে যাবে। রমজানুল মোবারকের ফজিলত ও মর্যাদার কারণে তারাবীহ এবং তাহাজ্জুদের মাঝে নিদ্রার বিরতিটিও ইবাদত বলে গণ্য হয়। প্রত্যেককে আল্লাহর রাসূলের অনুসরণে জীবন অতিবাহিত করার চেষ্টা করতে হবে।
রোজাদারের জন্য আরো একটি সুসংবাদ হলো-কিয়ামতের কঠিন সময়ে যেদিন সকলের কৃতকর্মের বিচার হবে, যেদিন সকলে ভয়ে দিক বিদিক ছুটোছুটি করবে সে কঠিন মূহূর্তে রোজা ও পবিত্র কুরআন আল্লাহর দরবারে সুপারিশ পেশ করবে। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ‘রোজা এবং কুরআন শরীফ উভয়ই বান্দার জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবে। রোজা বলবে-হে আমার দয়ালূ প্রতিপালক আমি আহার ও প্রবৃত্তিগুলো থেকে দিনে তাকে বিরত রেখেছি,আমার সুপারিশ তার পক্ষে কবুল করুন, কুরআন শরীফ বলবে, আমার কারণে সে রাত্রিকালে শয়ন করে নাই। তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করা হোক। অতপর আল্লাহ তা‘আলা উভয়ের সুপারিশই গ্রহণ করবেন।
আল্লাহ্ আমাদের রোজা ও কোরআনের সুপারিশ নসিব করুন। আমিন।