বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উদযাপন

রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহব্বান

5


বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক ঘুরে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জিএম তৈয়ব আলী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. নুরুল হায়দার ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়া, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট কাজল কান্তি পাল প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, জন্মগতভাবে কোন শিশুর থ্যালাসেমিয়া হলে ওই শিশু রক্তশূন্যতায় ভোগে। তাকে রক্ত দিয়ে বাঁচাতে হয়। আবার এ ধরনের রোগীকে রক্ত দিয়ে ৩০ বছরের বেশী সময় বাঁচিয়ে রাখা যায় না। রক্ত সঞ্চালনের ফলে বিভিন্ন পার্শ¦প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। বাঁচতে হলে বিয়ের আগে প্রত্যেক নব দম্পতিকে রক্তের ইলেকট্রোপোরোসিস পরীক্ষা করাতে হবে। যদি মানবদেহে থ্যালাসেমিয়ার জীবাণু পাওয়া যায় তাহলে বিয়ে করা উচিত নয়। তাই প্রত্যেক থ্যালাসেমিয়া রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।
ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল : বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে গতকাল থ্যালাসেমিয়া দিবসের সভায় হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তের রোগ, দেশে দিন দিন এমন রোগী বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে থ্যালাসেমিয়ার অস্তিত্ব এবং ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। যদি কেউ আক্রান্ত হয়, তাহলে যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে।
‘অনাগত সন্তানকে দিতে থ্যালাসেমিয়া থেকে সুরক্ষা, বিয়ের আগে করুন রক্তের ইলেকট্রোপোরোসিস পরীক্ষা’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দিবসটি পালন করা হয়। হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় আয়োজিত সভায় সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন আরও বলেন, চট্টগ্রামে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতার কারণে বহু সংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে তাদেরকে ও পরিবারকে আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এই অবস্থা থেকে কিছুটা পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে “চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্ট” আন্তর্জাতিক মানের জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে চট্টগ্রামের কতিপয় সমাজ সেবক এবং উদ্যোক্তা এই মহতী উদ্যোগে সাড়া দেয়। তিনি অতি শীঘ্রই উন্নতমানের সার্বক্ষণিক ইমার্জেন্সি সেবা এবং কার্ডিয়াক, ট্রান্সপ্ল্যান্ট, নিউরো, অর্থোপেডিক ও গাইনি অবস্ ইত্যাদি সম্বলিত ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার, ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনসালটেন্ট রুম সম্বলিত বহির্বিভাগ এবং আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন ৬৪টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড; নবজাতকদের জন্য ৪৪ শয্যাবিশিষ্ট নিওনেটাল ইউনিট এবং ৮টি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ নিয়ে ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সভায় থ্যালাসেমিয়া রোগ ও সচেতনতা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন হাসপাতালের কমিশনিং কনসালটেন্ট এড লি হ্যানসেন, হেমাটোলজি বিভাগের এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. সিরাজাম মুনিরা, হাসপাতালের পরিচালক (স্ট্রাটেজিক কোয়ালিটি এম.জি.টি) রিয়াজ হোসেন, হাসপাতালের ম্যানেজার (পি.আর.পি) শেখ আবদুস সালাম, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফয়সাল আহম্মেদ, ডা. মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সিতারা বেগম। হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের রেজিষ্ট্রার ডা. আবু হাছান রুবেলের পরিচালনায় সভায় থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু, শিশুর অভিভাবক, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি