রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড়

23

ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ সামলাতে ট্রেনে বাড়তি বগি জুড়ে দেওয়া হলেও নম্বর না বসানোয় বগি খুঁজে না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রাম রেল স্টেশনের যাত্রীরা।
সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবস গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অনেকের কাছে টিকেট থাকলেও ট্রেনে উঠতে পারেননি তারা। ঈদযাত্রার প্রথম দিন বুধবার চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে তেমন যাত্রীর চাপ না থাকলেও দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বৃষ্টির মধ্যেও বেড়েছে যাত্রীর চাপ।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে সকালে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেন নির্বিঘ্নে ছেড়ে গেছে। বিকেলে তিনটি ট্রেনের মধ্যে ঢাকাগামী গোধুলী ও সোনার বাংলা ট্রেন ঠিক সময়ে স্টেশন ছেড়ে গেলেও চাঁদপুরগামী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে গেছে প্রায় সোয়া এক ঘন্টা দেরিতে।
রেল কর্তারা জানান, লোকোশেড থেকে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন রেলস্টেশনে আসার আগে একটি বগি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তা ঠিক করে ট্রেন স্টেশনে আসতে বিলম্ব হওয়ায় পরে ট্রেনটি দেরিতে ছেড়ে গেছে বলে জানান রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেল কর্মকর্তা (ডিআরএম) বোরহান উদ্দিন।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে সাগরিকা ট্রেনে চারটি ও অন্য ট্রেনগুলোতে দুইটি করে অতিরিক্ত বগি লাগানো হয়েছে। তবে সাগরিকা ট্রেনে যাত্রীর চাপের কারণে অনেকে টিকেট নিয়েও যেতে পারেনি। খবর বিডিনিউজের
বিকেলে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেন পাঁচটায় চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেন প্লাটফর্মে আসে পৌনে ছয়টায়। বগিতে নম্বর লাগানো না থাকায় টিকেট থাকা যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে। অনেকেই উঠে পড়েছেন ভুল বগিতে। আবার অনেকেই বগি খুঁজতে গিয়ে ট্রেনেই উঠতে পারেনি।
রেলস্টেশনে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে কর্মীদেরও দেখা গেছে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে।
পরিবার নিয়ে বাড়িতে ঈদ করার জন্য গত ৩০ জুলাই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রেনের টিকেট নিয়েছিলেন হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ন’ বগির ৪৫ থেকে ৪৭ নম্বর আসন তার জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু যাত্রার সময় তিনি বগিই খুঁজে পাননি। ‘ত’ বগিতে আসন থাকলেও বগি খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ জানালেন মো. আরিফ। পরে অন্য বগিতে গেলেও সেখানে বসার আসন পাননি তিনি।
স্টেশনে দায়িত্বে থাকা রেলকর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যাত্রীরা বগি খুঁজে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও রেলওয়ের কর্মীরা জানান, তাদের ‘কিছুই করার নেই’।
প্ল্যাটফর্মে থাকা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) পরিদর্শক আমান উল্লাহর কাছে কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করার পর তিনি টেলিফোনে বিষয়টি পূর্ব রেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে কয়েকজন রেলকর্মী এসে বগিতে নম্বরের স্টিকার লাগাতে শুরু করেন।
পরিবার নিয়ে লাকসাম যাওয়ার জন্য অনলাইনে টিকেট কিনেছিলেন মো. নাছিম ও ইমরুল। ‘ঞ’ বগিতে ১৪-১৬ ও ১৯ নম্বর আসনগুলো তাদের জন্য বরাদ্দ। বারবার আরএনবি ও টিটিদের বগি খুঁজে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা ছিলেন নিরুত্তর। পরবর্তীতে ট্রেন ছেড়ে গেলেও আর উঠতে পারেননি দুজন।
নাছিম ও ইমরুলের মতো প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রীকে দেখা গেছে টিকেট থাকা স্বত্বেও বগিতে ঠাঁই পাননি।
অন্যদিকে সাগরিকা ট্রেনে নির্ধারিত আসনের তিনগুণ লোক স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে যাত্রা করেছেন।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের একটি কারখানায় কর্মরত শাহ আলম হাওলাদার বলেন, বরগুনার বেতাগিতে তার বাড়ি। সাগরিকা ট্রেনে চাঁদপুর গিয়ে সেখান থেকে লঞ্চে যাবেন বরগুনা। তিনি বলেন, অফিস থাকায় গত ৩০ জুলাই লাইন ধরে টিকেট কাটা সম্ভব হয়নি। তাই বিকেলে স্টেশনে এসে ১৮০ টাকায় স্ট্যান্ডিং টিকেট কেটে চাঁদপুর যাচ্ছি।
আবার ট্রেনের বগিতে উঠতে না পেরে নিষেধ সত্ত্বেও অনেকেই উঠছেন ট্রেনের ছাদে।
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে স্বামীর সাথে ট্রেনের ছাদে বসেই যাত্রা করা নাছিমা বেগম বলেন, বগিতে জায়গা না পেয়ে ছাদে করে চাঁদপুর যাচ্ছি। সেখানে থেকে যাবো বরিশাল।
বগিতে নম্বর না থাকা নিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ প্রসঙ্গে ডিআরএম বোরহান উদ্দিন বলেন, নিয়মানুযায়ী ট্রেন স্টেশনে আসার পর বগি অ্যাটেন্ডন্টরা নম্বর লাগায়। আজকে (বৃহস্পতিবার) অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে বগিতে নম্বর লাগাতে দেরি হয়ে গেছে।
আগামী শুক্রবার হতে লোকশেড থেকে বগিতে নম্বর লাগিয়েই ট্রেন স্টেশনে আনা হবে বলে জানান তিনি।