১৬ বছরে আয় বেড়েছে তিনগুণ। গত তিন বছরে পূর্বাঞ্চলে আয় হয়েছে দুই হাজার ৮৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা

রেলওয়ের আয় বাড়ছে

রাহুল দাশ নয়ন

18

 

আয় খাতে ছন্দ ফিরে পেয়েছে রেল। রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল মিলে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় হয়েছে এক হাজার ৩০৩ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা। যেখানে ২০০০-০১ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৩৬৬ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। গত ১৬ বছরের ব্যবধানে যাত্রী, পার্সেল, পরিবহন ও বিবিধ খাতে আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে তিনগুণ। নতুন ট্রেন চালু, প্রকল্প গ্রহণ ও দুইদফা টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ আয় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মুজিবুল হক পূর্বদেশকে বলেন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে নতুন কোচ আনা হয়েছে। নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনকে ডাবল লাইনে রূপান্তর করা হয়েছে। যে কারণে রেলের প্রতি যাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে। আর যাত্রী বাড়া মানেই সহসা আয় বাড়বে। আয় বাড়াতেই বর্তমান সরকার রেলওয়ের উন্নয়নে বড়বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বেশকিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৩৬৬ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৩৮৮ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৪২০ কোটি ৯ লক্ষ টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৩৯৪ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ৪৪৫ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪৪৪ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ৪৫২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫৬১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৬২৫ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৫৬৬ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬২৯ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬০৩ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৮০৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৮০০ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৩৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৯০৪ কোটি এক লক্ষ টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৩০৩ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। আয়ের অধিকাংশই এসেছে যাত্রী খাত থেকে।
চলতি বছরের ৫ নভেম্বর রেলওয়ের দেয়া অর্থ বছর ওয়ারি আয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পূর্বাঞ্চল রেলে গত তিন বছরে চার খাতে আয় হয়েছে দুই হাজার ৮৭ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে যাত্রী খাতে ৪৭৭ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা, পার্সেল খাতে ১১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা, পণ্য পরিবহন খাতে ১১৯ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা, বিবিধ খাতে ২২৯ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে রেলের সর্বমোট আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, আগস্টে ৭৫ কোটি ৮২ লাখ ৮৪ হাজার, সেপ্টেম্বরে ৭৪ কোটি ৮২ হাজার ৫০ হাজার, অক্টোবরে ৮২ কোটি ৭১ লাখ ৭৫ হাজার, নভেম্বরে ১১৯ কোটি ৫৮ লাখ ৪১ হাজার এবং ডিসেম্বরে আয় হয়েছে ৯১ কোটি ৮০ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, ফেব্রæয়ারিতে ১২২ কোটি ১২ লাখ ৪৮ হাজার, মার্চে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার, এপ্রিলে ১৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার, মে মাসে ৯৪ কোটি ৩১ লাখ ৮১ হাজার ও জুন মাসে ২৩৯ কোটি ৯৩ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা আয় হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৯৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। এরমধ্যে যাত্রী খাতে ৩৬৫ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা, পার্সেল খাতে ৯৮ লক্ষ টাকা, পণ্য পরিবহনে ৯১ কোটি ৭ লক্ষ টাকা ও বিবিধ খাতে ১৩০ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৬৫২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে। এরমধ্যে যাত্রী খাতে ৩৫৮ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা, পার্সেল খাতে ১১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা, পণ্য পরিবহন খাতে ১০৭ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ও বিবিধ খাতে ১৭৫ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা আয় হয়েছে।
এদিকে রেলের আয় বাড়লেও ব্যয়ও বাড়ছে সমানতালে। রেলের উন্নয়নে বড়বড় প্রকল্প হাতে নেয়ায় ব্যয় খাতেও

বড় হচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই হাজার ৫৩২ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে আয় বাড়ার পাশাপাশি সেবার পরিধি বাড়ানো গেলে রেলওয়েকে আর পিছনে ফিরতে হবে না। সড়ক পথের বেহাল দশা ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার কারণে নিরাপদ বাহন হিসেবে রেলের প্রতি মানুষের যে আগ্রহ বেড়েছে তা ধরে রাখতে সেবা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, রেলওয়েতে ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় সেবা বেড়েছে। আয় বাড়ার কারণে সেবার পরিধি বেড়েছে। এখনো বড় প্রকল্প চলমান থাকায় রেলের ব্যয় হচ্ছে বেশি। তবে আয়ের চলমান প্রক্রিয়া ধরে রাখা গেলে রেলওয়ে অনেকদূর এগিয়ে যাবে। দেশজুড়ে রেলওয়ের জায়গায় আরো কিছু আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।