রাস্তায় খাবার বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়

18

খাবারে ভেজাল ও দূষণরোধ, রাস্তায় খাবার বিক্রয়ের মান যাছাই ও বিশুদ্ধ খাবার সরবরাহের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে ভোক্তা শ্রেণি দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি জানিয়ে আসলেও মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানের মাধ্যমে সেই দাবির প্রতি খানিকটা সম্মান রাখা হত। কিন্তু পথে-ঘাটে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈয়ার ও বিক্রির ফলে মানবদেহে যে বিষক্রিয়া প্রবেশ করছে তা নিয়ে সচেতনমূলক কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খোলা খাবারের কারণে পরিপাকতন্ত্রের রোগের বিস্তার ঘটে, যা থেকে জন্ডিস, টাইফয়েড, আলসার, ক্যান্সারসহ আরও অনেক রোগ সৃষ্টি হতে পারে। যদি খোলা খাবার বিক্রেতাদের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাহলে এসব রোগ থেকে মানুষ বাঁচতে পারবে। এবার সরকার সেই ব্যবস্থাটিই করতে যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর, পুষ্টিহীন ও ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান দিয়ে শেষ না করে গোড়ায় গলদ দূর করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে । সোমবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘রাস্তায় খাবার বিক্রেতাদের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে তাদের হালনাগাদ তথ্য ও তালিকা প্রণয়ন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবে দেশের সিটি কর্পোরেশনসমূহ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) এমন নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আলোকে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে গঠিত উপকমিটির ৩য় সভার কার্যবিবরণী প্রেরণ’ বিষয়ে এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে নগরে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেরিতে হলেও সরকারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের সচেতন মানুষ। আমরা মনে করি এতে সরকার ক্যাবসহ সাধারণ মানুষের প্রশংসা লাভ করবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতাই যথেষ্ট বলে আমরা মনে করি।
আমরা জানি, সরকার সুশাসন নিশ্চিত করতে ২০১২ সালে ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২’ প্রনয়ণ করেন। সূত্র জানায়, এ কৌশল বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে অনেক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। গত ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় শুদ্ধাচার উপদেষ্টা পরিষদের নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় ‘জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের’ আলোকে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়। এ উপকমিটির ২য় সভায় সিদ্ধান্ত হয় স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাগণকে খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে তাদের হালনাগাদ তথ্য প্রণয়ন করবে সিটি কর্পোরেশন। এ তথ্য খাদ্য নিরাপদ কর্তৃপক্ষের নিকট সরবরাহ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনসমূহে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে। চসিকের সূত্রে জানা যায়, উপকমিটির ২য় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ গতকাল চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বারবার এ পত্র প্রেরণ করে। সেখানে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাগণের তালিকা হালনাগাদ করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইতোমধ্যে সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করছেন বলে আমরা জানতে পারি। তিনি প্রশিক্ষণ দেয়ার পর খাবার নিরাপদ করা এবং মান নিশ্চিত করতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তা সিটি কর্পোরেশন থেকে দেয়ার কথাও ঘোষণা করেন। সরকারের উদ্যোগকে সফল করতে চসিক মেয়রের এমন ঘোষণা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। বিষয়টি নিয়ে নগর ও নাগরিক কমিটি ও ক্যাব ইতোমধ্যে তাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাদের মতে, শহরে রাস্তায় যেসব খাবার বিক্রি করা হয় এর বেশিরভাগ গ্রহীতাই হচ্ছেন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ আমাদের আগামী প্রজন্ম খাবারগুলো গ্রহণ করছে। এতে আমাদের প্রজন্ম অস্বাস্থ্যের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থার অবসানে যত দ্রæত সম্ভব এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন জরুরি। আমাদের মত দেশের জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যার ফলে স্ট্রিট ফুডের একটি বিশেষ চাহিদা রয়েছে। তাই এটিকে নির্মূল না করে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।