রামগড়ের ঝাড়– ফুলের বাজার জমজমাট

রামগড় প্রতিনিধি

57

রামগড় পাহাড়ের ঝাড়–ফুল বিক্রি করে অনেকের ভাগ্য বদল হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসে ঝাড়–ফুলের অস্থায়ী হাট। বিকেলে পাহাড় থেকে ফিরে ঝাড়–ফুল নিয়ে হাটে আসেন কাঠুরিয়ারা। প্রতিদিন বেচা কেনা চলে প্রতি বাজারে। অনেক কাঠুরিয়া শীতের মৌসুমে কাঠ না কেটে ঝাড়–ফুলের ব্যবসা করেন।
ঝাড়–ফুল মূলত একটি সাময়িক অর্থকরী প্রাকৃতিক বনজসম্পদ। পাওয়া যায় উঁচু পাহাড় ও ছড়ার কাছে। উপজেলা পাতাছড়া ইউনিয়নের হাজাছড়া গ্রামের ঝাড়–ফুল বিক্রেতা কাঠুরিয়া চিকন ত্রিপুরা বলেন, পাহাড় থেকে কাঠ কেটে বিক্রয়ের উপযোগী করতে অনেক সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঝাড়–ফুল সংগ্রহ করতে তেমন পরিশ্রম হয় না। তাছাড়া দামও পাওয়া যায় ভালো।
জানা গেছে, উপজেলার বৈদ্যপাড়া, হাজাছড়া, বড়পিলাক, লাচারীপাড়া, নাক্রাই, ছোটখেদা, হাফছড়ি এলাকা থেকে ঝাড়–ফুল এনে রামগড়, সোনাইপুল, জালিয়াপাড়া বাজারে জামজমাট বাজার বসে। এ সকল স্থান থেকে পাহাড় বেশি দূরে নয়। সুবিধার জন্য কাঠুরিয়ারা কম দূরত্বের বাজারগুলো বেছে নেয়। এ ঝাঁড়ফুলগুলো দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের আয়ের এক বিকল্প উৎস হয়ে দাঁড়াবে তা কেউ আগে কখনো ভাবেনি।
জানা যায়, ঘরের ঝাড়– হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও এ ঝাড়–ফুল বিল্ডিংয়ের রং মিস্ত্রিদের রঙের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশে এ ঝাড়–ফুলের চাহিদা অনেক বেড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারে পাহাড় থেকে ঝাড়–ফুল এনে বিক্রি করে স্থানীয় শ্রমিকরা। এরপর পাইকারি ব্যবসায়ীরা ক্রয় করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলাতে নিয়ে যায়। জহির উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ঝাড়–ফুল ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবাজারে রামগড়, গুইমারা, মাটিরাঙা, দীঘিনালা, পানছড়ি থেকে আনুমানিক ছয় থেকে সাত লাখ টাকার ঝাড়–ফুল বাজারে আসে। ঝাড়–ফুলের এখন মূল মৌসুম। কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ঝাড়–ফুল প্রতিদিন বাজারে আসে। ১০০টি ঝাড়– ফুল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০টাকায়।
তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।