চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ

রাতে দুই ‘বন্ধুকে’ পিটিয়ে পালিয়েছে দুই ছাত্র

চকরিয়া প্রতিনিধি

7

চকরিয়ায় তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের আবাসিক হলের দুই সহপাঠিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে অপর দুই সহপাঠি। পরে কর্তব্যরত প্রহরীকে (নাইট গার্ড) ফাঁকি দিয়ে রাতেই হল ছাড়ে তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের আবাসিক হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক হলে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে নাজমুল হোসাইন জয় (১৬) ও মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি এলাকার মোহাম্মদ হোসাইনের ছেলে মাহমুদ হোসাইন কালবি (১৫)। আহত দুইজন এবং অভিযুক্ত দুইজনই চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণির ছাত্র। তারা চারজনই বিদ্যালয়ের আবাসিক হলের একই কক্ষে ছিলো।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশে উপপরিদর্শক (এসআই) হিরু বড়ুয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আহত ছাত্রদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন।
এদিকে গভীর রাতে বিদ্যালয়ের আবাসিক হলে সংগঠিত এ ঘটনায় হলের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের আবাসিক হলে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে খাবার ও লেখাপড়া শেষ করে আবাসিক হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো ঘুমিয়ে পড়ে একই কক্ষে থাকা চার সহপাঠি হেলাল উদ্দিন, মো. শোয়াইব, মাহমুদ হোসাইন কালবি ও নাজমুল হোসাইন জয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শোয়াইব ও হেলাল উদ্দিন মিলে ঘুমন্ত অবস্থায় জয় ও কালবিকে গাছের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি পিঠিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের কর্তব্যরত পাহারাদারকে (নাইট গার্ড) ফাঁকি দিয়ে রাতেই হল ছাড়ে তারা। পরে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, হেলাল উদ্দিন, মো. শোয়াইব, মাহমুদ হোসাইন কালবি ও নাজমুল হোসাইন জয় তারা চারজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সম্প্রতি একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে আবাসিক হলে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তারা।
চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক নুরুল আখের বলেন, বিদ্যালয়ের আবাসিক হলে দুই সহপাঠির উপর হামলাকারী অপর দুই সহপাঠি পলাতক থাকায় কি কারণে হামলার করা হয়েছে তা জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। হামলার ঘটনার সাথে জড়িত দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের উপর মারধরের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।