রাজাদের রাজসিক কাজ-কারবার

মছিউদ্দৌলা জাহাঙ্গীর

9

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র, নানাভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র- কবি সুনির্মল বসুর কবিতার একটি বিখ্যাত চরণ। চরণটির প্রতিফলন ইদানিং প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে আমার জীবনে, বিশেষ করে যেদিন থেকে পত্রিকায় নিয়মিত লিখা শুরু করেছি নিত্যনতুন জিনিস কেবল শিখেই চলেছি। তার অংশ হিসেবে দৈনিক অন্তত দুটি পত্রিকা তো গুলে গিলে খাচ্ছি, প্রতিদিন নতুন নতুন সংবাদ পত্রিকা থেকে গিলি পরে পত্রিকাতেই তা আবার ওলি = বমি করি তথা ছাড়ি। মনে হয় বিষয়টা পরিষ্কার, পত্রিকা থেকে পড়ে পত্রিকায় আবার লিখে দেই, এখন পত্রিকা থেকে না গিললে পত্রিকাতে আবার ওলবো কি করে? অংক সোজা, প্লাসে প্লাসে প্লাস, মাইনাসে মাইনাসে প্লাস আর প্লাসে মাইনাসে মাইনাস, বীজগণিতের বপিত বীজ। তার মানে সবার কিছু ফর্মূলা থাকে, নিজস্ব নিয়মনীতি থাকে সেসব তারা মেনে চলে নিয়মের পরিপন্থী কিছু হলেই বিপর্যয় ঘটে। তাই সকলে নিয়ম মেনে চলে, রেলগাড়ি লাইন ধরে চলে, প্রকৃতি নিয়ম মেনে চলে। কিন্তু পুলিশ কি মেনে চলে? মনে হয় পুলিশ কিছু মেনে চলে না, হতে পারে তার কোন নিয়ম নাই থাকলে মরা মানুষ ককটেল ছুঁড়ে তা সে কি করে দেখে? কারণ তার কোন নিয়ম নাই সে যখন যা খুশি তা দেখতে পারে, যা খুশি তা শুনতে পারে, যা খুশি তা করতে পারে এবং যা খুশি তা বলতে পারে- তাই সে পুলিশ। অবশ্য নিজের পরিচয় তো সে ইতোমধ্যে দিয়েই ফেলেছে, বছর কয় আগে এক পুলিশ কোন এক হত-ভাগাকে; ব্যাটা জানস না, মাছের রাজা ইলিশ আর দেশের রাজা পুলিশ?
অতি খাঁটি কথা একমাত্র রাজার জন্যেই তো সবকিছু জায়েজ, রাজা যা বলেন তা সত্যি, যা দেখেন তা বাস্তব, যা করেন তা আইন। সুতরাং মামলা তো হবেই মৃত মানুষের নামে কারণ ককটেল মারতে তাকে খোদ রাজাই দেখেছেন! আর ঐ মরার কথা কি বলবো, ব্যাটা তুই কেন ককটেল মারতে গেলি তুই মরে গেছিস চলে গেছিস আবার দুনিয়াতে আসলি কোন লজ্জায়? তোর কি লজ্জা-শরম বলতে কিছুই নাই ? তুই তো খাইলি সাথে ঐ ভালো মানুষ হজ্ব করতে গেল তারেও ধরা খাওয়াই দিলি। তোর দেখাদেখি সে’ও দু-চারটা ককটেল মেরেছে এখন তোকে দেখার সাথে সাথে তাকেও দেখে ফেলেছে! কথা তো সেখানে, মরাকে যখন ককটেল ছুঁড়তে দেখতে পারে সৌদি আরব থেকে ককটেল ছুঁড়তে দেখা এ এমন আর কঠিন কি? হারামজাদা দুনিয়াতে থাকতে বাঁদরামি যা ছিল সব করেছিস এখন মরেও তোর শান্তি নেই ঐখানে শু’য়ে শু’য়েও বাঁদরামি করছিস? যা এবার কবর থেকে এসে এসে হাজিরা দিতে থাক, যেমন কর্ম তেমন ফল আমি কি করবো? কি বললি, ভেতরে গরম লাগছিল বলে বাইরে একটু হাওয়া খেতে এসেছিলি, আর তাতেই এই কাÐ ? হা হা হা হা কপালের দোষ কি করবি রাজা দেখে ফেলেছে কিছু করার নাই! এখন রাজা যখন দেখেছেন, পূবের সূর্য পশ্চিমে উঠবে রাজার দেখা কখনো মিথ্যা হবে না, চাইত দুনিয়া গজব হয়ে যেতে পারে। তাই তো চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে মহামান্য আদালত একদিনের রিমান্ড দিয়ে দেন।
মামলার বাদী বলছে সে আসামীকে চেনে না, পুলিশ বলছে চাঁদাবাজির বিষয়ে তারা আসামীর কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। ঐ যে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে গেছে তাতেই তার কাছে থেকে তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ আদায় করে নিয়েছে, তাই পুলিশ তার আরো পাঁচদিনের রিমান্ড চায়। আল্লাহই জানেন ঐ একদিনে তারা তার কি খাতির-যতœ করেছে, নাহলে এত তথ্য পায় কি করে? আসলে রাজা-বাদশাহদের তো অনেক ক্ষমতা ইতিহাস সাক্ষী, গোটা দুনিয়া সাক্ষী সাগরের পানি ফুরিয়ে যাবে গাছের পাতা হারিয়ে যাবে রাজাদের ক্ষমতা তাদের গুণের কথা বলে শেষ করা যাবেনা। আমরা তো জানি রাজাদের কাহিনী স¤্রাট অশোক সিংহাসনের জন্যে তাঁর একশ জন ভাইকে হত্যা করেছেন। আবার চতুর্দশ শতকের শেষে এসে সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ তাঁর সতের জন ভাইকে হত্যা করলেন। রাজাদের এমন অনেক ঘটনা আমরা জানি তবে তার মধ্যে বড় নির্মম হচ্ছে মনে হয় খোজা কাহিনী অবশ্য আমার মতে। আহা একেক জন রাজা শ’য়ে শ’য়ে পতœী-উপপতœী রাখতেন তাদের দেখভাল করার জন্যে কতগুলো পুরুষকে নপুংসক তথা খোজ বানিয়ে রাখতেন, কি নৃশংস! খোজারা রাণী-দাসীদের সেবা করত ঠিক কিন্তু সেবন করতে পারত না, সম্ভব ছিল না। ভেবে দেখুন রাজাদের কি চমৎকার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেন ভোগ্যবস্তু ইনটেক্ট তথা বিশুদ্ধ থাকে।
ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখুন পরতে পরতে এমন অনেক রক্তের দাগ পাবেন, ইতিহাসের রাজারা এমনই নির্দয় ছিলেন। আমাদের বর্তমান রাজারা দেখা যায় ঐ রাজাদের চাইতে কিছু কম নয় কোন অংশে। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কাউন্সিলর একরাম হত্যা অডিও ক্লিপ থেকে আমরা আমাদের রাজাদের হৃদয়ের মহানুভবতার সন্ধান পাই। আমরা দেখেছি থানা হাজতে হার্ট এ্যাটাকে করুণ মৃত্যুর দৃশ্য, দেখেছি জুতার ফিতা প্যাঁচিয়ে ফাঁসি লটকে মৃত্যুর ঘটনা আর কয়েদীদের উপর মর্মান্তিক নির্যাতনের ছবি। এ জন্যেই মনে হয় সবাই বলে ‘থানার কাছে কানাও যায় না।’ থানা সবাইকে করে দেয় ফানা তাই তার কাছে যেতে ভাই মানা। আসলে একটি প্রবাদের জন্ম হয় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে, এক-দুই দিনে নয় শত শত বছরের সঞ্চিত অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সৃষ্টি হয় একটি প্রবাদ। তাই থানা-পুলিশ সংক্রান্ত এসব প্রবাদ মানুষের দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের ফসল, আরো বলে বাঘে ধরলে আঠার ঘা পুলিশ ধরলে ছত্রিশ ঘা। অবশ্য ইতিহাসের রাজাদেরকে একসময় বেশ আত্মসংযমী হতেও দেখা গেছে, যেমন অশোক অনেক বড় মানব হিতৈষী হয়ে উঠেছিলেন এবং সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের ঘটনা তো ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল! ঐ যে বিধবার ছেলে তাঁর ছোঁড়া তীরে আহত হয়েছিল বিধাব কাজীকে বিচার দিল কাজী সুলতানকে জরিমানা করলেন। বিচারে সুলতান সন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং কাজীকে বলেছিলেন; আপনি যদি বিচারে পক্ষপাতিত্ব করতেন তাহলে এই তরবারী দিয়ে আমি আপনার মস্তক দ্বিখÐিত করতাম। কাজী তখন সুলতানকে; আর আপনি যদি বিচার না মানতেন তবে এই চাবুক মেরে আপনাকে আমি শাস্তি দিতাম। শোনে সুলতান নাকি কাজীকে অনেক পুরস্কৃত করেছিলেন! বন্ধুরা শেষোক্ত ঘটনাটি আমাদের বাংলাদেশেরই এই বাংলার মাটিতেই ঘটেছিল চতুর্দশ শতকের শেষ দশক কিংবা পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে।
অশোক প্রথম দিকে নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নিয়েছিলেন, মনে হয় চাণক্যের আধিপত্যটা তখন তাঁর উপর বেশি ছিল, ঐ যে চাণক্য বলেছিলেন; একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল, একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে সকল তারা মিলেও তা পারে না। কথাটিকে মনে হয় অশোক নৈতিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেছিলেন। তাই নিজের ভাইদেরকে গপাগপ খালি কুপিয়ে ছিলেন। চাণক্য কথাটিকে বুঝিয়েছেন অন্য এ্যাঙ্গেলে, সঠিকভাবে মানুষ করতে পারলে একটি সন্তানই যথেষ্ট- এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন তিনি কথাটি। ভেবে দেখুন পরিবার পরিকল্পনার কথা তিনি তখনই চিন্তা করে ফেলে ছিলেন আর আমরা নিয়েছি তাঁর কথাকে অন্যভাবে। ঐ যে ধরে আনতে বললে বেঁধে আনে আর বসতে দিলে থাকতে চায় বিষয়টা এরকমই হয়েছে আর কি। পিতা যা জনম দিয়েছে পুত্র তা খতম করেছে, আশ্চর্য চাণক্য তাঁর দিব্যচক্ষে তখনই দেখতে পেয়েছিলেন চীন-ভারতের এই অঞ্চলটিতে একদিন জন বিস্ফোরণ ঘটবে। তাই তিনি তেইশশ বছর আগেই সতর্ক করেছিলেন আমরা কিন্তু তাঁর কথাটি অনুধাবন করতে ভুল করেছি। তবে অশোক পরে অনেক শোধরেছিলেন মানবপ্রেমে তিনি উদ্ভাসিত হয়েছিলেন অনুরূপ আরো অনেককে আমরা শোধরাতে দেখেছি। কিন্তু আমাদের এখনের রাজাদের শোধরানোর কোন লক্ষণ আমরা দেখিনা, একেকজন রাজা যাদের পদবী ইন্সপেক্টরেরও নীচে, কোটি টাকার মালিক সাথে কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি। দেখা যায় আমাদের রাজারা ওয়ারেন্টে কিংবা বিনা ওয়ারেন্টে আসামী ধরে কোর্টে চালান কালে সাথে আরো গÐাখানিক মামলা যুক্ত করে দেয়। এই যেমন, পুলিশের কাজে বাধা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, শান্তি ভঙের চেষ্টা, সরকারি সম্পদ ভাঙচুর, ইত্যাদি নানান ধারা যুক্ত করে দিয়ে নিরপরাধীকে ভাল করে অপরাধী বানিয়ে দেওয়া! অথচ বেচারা ঐ সবের ধারে কাছেও ছিল না।
গ্রেফতার বাণিজ্যের চমৎকার এক কৌশল না অপকৌশল, আসলে পুলিশের তো ধারার অভাব নেই, ঐ যে বলে না আকাশের যত তারা আইনের তত ধারা আর সমস্যা কি ধারা একটি একটি লাগাবে ফাঁড়া একটি একটি বাড়বে। কিছুদিন আগে ফেবুকে একটি অডিও ভাইরাল হয়েছিল এক সহকারী কমিশনার মর্যাদা সম্পন্ন পুলিশ কর্মকর্তা এক মহিলাকে বড় কটু ও অশ্লীল ভাষায় ভীতি প্রদর্শন করছিলেন তাতে। মহিলা বড় অসহায়ের মতো কাঁদছিলেন আর বলছিলেন; আমার কোন দোষ নাই আমাকে মেরে ফেলেন আমি কিছু বলবো না। উত্তরে ঐ পুলিশ কর্মকর্তার কথাগুলো এখানে উল্লেখ করার মতো নয় এমনই নোংরা আর অশালীন। এই তো সেদিনের কথা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে এক পুলিশ এক ছাত্রীকে চিৎকার করে বলছিল; এখানে কেন এসেছিস, দেহ বিক্রি করতে? ইত্যাদি বিভিন্ন আচরণ করতে দেখা যায় আমাদের রাজা পুলিশদের, একটি খবর দেখে ভালো লাগলো মোজাম্মেল হক চৌধুরী জামিনে মুক্তি লাভ করেছেন। অবশ্য তাঁর নামেও কয়েকটি মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছিল। সবগুলোর জাল ছিন্ন করে অবশেষে তিনি বেরিয়ে এলেন, সৌভাগ্য বলতে হবে। তবে সকলের ভাগ্যে তেমনটি জুটেনা, কাউকে কাউকে দেখা যায় একটিতে জামিন নিয়েছেন সাথে সাথে অন্য আরেকটি মামলা এসে হাজির হয়। সেটিতে জামিন নিয়েছেন তো আরেকটি এসে হাজির হয় এভাবে সপ্তাহ গিয়ে মাস আসে, মাস গিয়ে বছর মামলার জাল আর ছিঁড়েনা। আসলে আমাদের রাজনীতি দেখা যাচ্ছে বড় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে তাই এখানে যে দল সরকারে থাকে সে পুলিশকে বড় নোংরা কৌশলে ব্যবহার করে। পুলিশ সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে, ফলে নোংরা রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে প্রশাসন তার সুনাম হারাচ্ছে, নিরপেক্ষতা হারাচ্ছে, তাই মানুষ পুলিশকে আর বন্ধু বলে গ্রহণ করতে পারছে না। ইদানীং দেখা যাচ্ছে পুলিশ নামের সাথে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি শব্দগুলো এক হয়ে গেছে! সিনেমায় বৃষ্টির জলে ভিজে কাপড় যেভাবে নায়িকার শরীরের সাথে চেপে লেপটে থাকে ঘুষ, দুর্নীতি শব্দগুলোও তেমন আমাদের পুলিশ বিভাগের সাথে চেপে লেপটে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ছাত্র-ছাত্রীদের একটি বড় আন্দোলন হয়ে গেল, নিরাপদ সড়ক চাইÑ আন্দোলন, সেটিতে ছাত্র-ছাত্রীরা একটি সেøাগান দিয়েছিল, আমার ভাইয়ের রক্ত লাল। পরের অংশটি না হয় আর নাইবা বললাম, আশ্চর্য সেøাগানটি সবাই বড় প্রফুল্লচিত্তে গ্রহণ করেছে, সামান্যতম অসহিষ্ণু কেউ হয়নি পর্যন্ত। তাহলে ভাবুন দেশের প্রশাসনিক বিভাগটি নিয়ে দেশের মানুষের মনে কি পরিমাণ ঋণাত্মক মনোভাব বিকাশ লাভ করছে? আজ আমরা মনে করছি পুলিশ বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে দিচ্ছেনা, মেরে বাড়ি ছাড়া করছে, তাতেই অনেকে আমরা বড় খুশি। ফলে পুলিশকে যা ইচ্ছা তা করতে দেওয়া হচ্ছে কিন্তু এটি যে একদিন বুমের‌্যাং হবে তা কেউ ভাবছেনা। আমরা শুধু বর্তমান নিয়ে ভাবি আর এটি করতে গিয়ে অনেক সময় ভবিষ্যৎকে আমরা নোংরা করে ফেলি। বিখ্যাত তাপস, দার্শনিক ও শিক্ষক কনফুসিয়াসকে তাঁর এক শিষ্য জু কুং জিজ্ঞেস করেছিলেন; ভালো সরকার কেমন ? জবাবে কনফুসিয়াস বলেছিলেন; ‘জনগণকে পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া, দেশের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত সৈন্য-সামন্ত রাখা এবং দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করলেই তাকে ভালো সরকার বলা যাবে। এখন এ তিনটি জিনিসের মধ্যে যদি একটিকে ত্যাগ করতে হয় তবে প্রথমে সৈন্য-সামন্তকে ত্যাগ করতে হবে। তারপর বাকি দুটোর মধ্যেও যদি একটিকে ত্যাগ করতে বলা হয় তাহলে সেটা হবে খাবার। কারণ শুরু থেকেই মানুষকে তো মরতে হবেই। কিন্তু জনগণের আস্থা ছাড়া কোন সরকারই টিকে থাকতে পারে না।’ আজ হতে অন্তত আড়াই হাজার বছর আগের কথা, কনফুসিয়াস বলেছিলেন গণতন্ত্রের কথা এরপর আমার আর কোন কথা বলার থাকে না। সরকার সংক্রান্ত যাবতীয় বাক্য ঐ তিনটি লাইনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। ভেবে দেখুন এখন যা ঘটছে তা কনফুসিয়াসের সম্পূর্ণ বিপরীত, সৈন্য-সামন্ত দিয়ে এখন জনগণকে দমন করা হচ্ছে। খাবারের থেকেও জনগণের আস্থা অর্জন আগে- কনফুসিয়সের মতে, অথচ এখন বলা হচ্ছে আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র। অধিক উন্নয়ন সীমিত গণতন্ত্র দেশের জন্যে কল্যাণকর, তাহলে কনফুসিয়াস কি ভুলের মধ্যে ছিলেন ?

লেখক : প্রাবন্ধিক