রাজনীতি বনাম গরিবের বৌ

আবদুল হাই

4

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। পদাধিকার বলে আমাদের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাহেব ভার্সিটিগুলোর আচার্য। তিনি গত শনিবার ০৬-১০-২০১৮ আচার্য হিসেবে ঐ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজনীতিকে গরিবের বউয়ের সাথে তুলনা করেছেন। গরিবের বউ সবার ভাউজ (ভাবী) হিসেবে তিনি উপস্থাপন করতে প্রয়াসী হয়েছে। গরিবের বউকে ভাবী বানিয়ে সীমালঙ্ঘন করে খোলামেলাভাবে মশকারী ঠাট্টা করার মধ্যে কোন রকম বিধি-নিষেধের বাধ্যবাধকতা নেই। রাজনীতিকে তিনি গরিবের বউ সবার ভাউজ বানিয়ে মশকারী-ঠাট্টার বিষয় বানিয়ে এক হাস্যরসের সৃষ্টি করেছেন তাঁর উত্থাপিত বক্তব্যের মাধ্যমে। খবরে প্রকাশ শ্রোতা-দর্শক সবাই কিন্তু প্রাণ খুলে হেসেছেন। হাসা এবং হাসাতে পারার চাতুর্য্য তার মধ্যে একটা দারুণ আর্ট আছে। মানুষকে তিনি হাসাতে পেরে তিনি সুবক্তার পরিচয় দিয়েছেন। আমাদের স্যার বদিউল আলম সাহেব দীর্ঘক্ষণ বক্তৃতা করতে পটু ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ বক্তৃতার মালমসলা যাই বিদ্যমান থাকুক না কেন তবে দীর্ঘ বক্তৃতা শ্রোতা-দর্শকের কাছে বিড়ম্বনার কারণ হয়ে ধৈর্যচ্যুতি যে ঘটাতো তা ক্রমাগত অহেতুক হাত তালির মাধ্যমে বোধগম্য হতো। তবে মাননীয় রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দারুণ শ্রূতিমধুর ও রস সঞ্চারে সমৃদ্ধ। A good orator is a good artist. একজন ভালো বক্তা একজন ভালো শিল্পী। শ্রোতা-দর্শকদের আকর্ষিত করতে ভালো বক্তার আবশ্যকতা আছে। কানফাটা আওয়াজ ও হাত-পা ছোড়াছুড়ির মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপনে গর্বের কিছু নাই। বক্তার বক্তব্য এমন হতে হবে যাতে শোনবার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। বক্তব্যের মাধ্যমে অজ্ঞাত কোনকিছু জ্ঞাত হওয়া যায়। বর্তমানে এমন কতগুলো কুট্ বিষয় দৃশ্যমান হয় যা কিনা সত্যি বিরক্তকর। উপস্থাপক বক্তার উদ্দেশ্যে যতই বক্তৃতা সংক্ষেপ করার অনুরোধ জানান দিক না কেন তাকে নির্বোধের ন্যায় এড়িয়ে মঞ্চে উপস্থিত সবাইকে সম্বোধনের তেল মর্দনের মাধ্যমে সময় নিঃশেষ করতে কুণ্ঠাবোধ করে না বক্তারা। এরপর স্বীয় জ্ঞান গন্ডির বাইরে অবস্থান করে উদ্ভোট কথার কিংবা দৃষ্টান্ত টানতে দৃষ্টতা দেখাতে থাকে। এক পর্যায়ে এক বক্তা কথার মাঝখানে বললো গান্ধীজী বলেছিলেন, “আমাকে একটা ভালো ‘মা’ দাও, তোমাদেরকে আমি একটি ভালো জাতি উপহার দেবো”। orator সত্যের স্থলে মিথ্যের উদাহরণ উপস্থাপন করেছে এটা সত্য। আমি অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে শুধু চেয়ে থাকলাম। শুদ্ধ করে দিলে লোক সম্মুখে লজ্জা পাবে। আর এমন সম্মানি একজনকে সম্মানহানি করাটা আমার উদ্দেশ্য নয়। তবে, লিখনীয় হালকা মালমসলা সঞ্চয়তো হলো। আসলে উক্তিটা গান্ধীজীর নয়, নেপোলিয়নের উক্তি। আমি অত্যন্ত সীমিত জ্ঞানের মানুষ। এতো বিশাল বিশ্বের বিশাল জ্ঞান সাগরে জ্ঞানের সামান্যতম নিঃশেষ হয়ে যাবে। বিদ্যাসাগর সাগরে নুড়ি কুড়াতে ব্যস্ত। ছোট্ট এক পড়ুয়া পড়া মুখস্থ করতে ব্যস্ত তার নিকটস্থ হয়ে কান লাগিয়ে শোনলাম, মার্কনী রেডিও আবিষ্কার করেছেন…আবার বলে রেডিও মার্কনী আবিষ্কার করেছেন। মুখস্থের তীব্রতার হেতুবশত; একবার মার্কনী আগে এসে বোঝা যাচ্ছে মার্কনীই রেডিও আবিষ্কার করেছেন। ২য় বাক্যে রেডিও নামক জড় পদার্থ জীবন্ত মার্কনীকে আবিষ্কার করেছেন। যদি বাক্যটা এমন হতো রেডিও নামক যন্ত্র মার্কনীই আবিষ্কার করেছেন তবে ব্যাকরণগত দিক দিয়ে বাক্যটা শুদ্ধ বলা যায়।
আমাদের বাংলা বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন চিত্ত প্রসাদ তালুকদার। অত্যন্ত রস সঞ্চার করে শ্রেণিতে পাঠদান করতেন। তিনি আমাদেরকে আবু ইসহাক সাহেবের রচিত ‘সূর্য দিঘীল বাড়ি’ উপন্যাসটা পাঠদান করতেন। যদিও চাটগাঁর লোক তার কথা ও আচার-আচরণে বোঝবার উপায় ছিলো না তিনি যে চাটগাঁর বাসিন্দা। তাঁর ক্লাসে আমরা বেশ মজা পেতাম। সরল ও আন্তরিকতাপূর্ণ আচার-আচরণে তাঁর প্রতি ছাত্রদের অন্যরকম আকর্ষণ ছিলো। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হওয়া সত্তেও তিনি ব্যতিক্রম রেকর্ড সৃজন করে চট্টগ্রাম মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়েরও শিক্ষক ছিলেন। অত্যন্ত বাকপটু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন শিক্ষক। ‘good orator’ মাকে বলা যায়। দুষ্ট ছাত্রদেরকে ভদ্র ভাষায় যেমন হিট করে শাসন করতেন তা কিন্তু বেত্রাঘাতের চাইতেও কম ছিলো না।
বর্তমানে সুবক্তা বলতে যাদের বোঝায় তাদের মধ্যে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সাহেব অন্যতম। টিভির পর্দায় তাঁর বাক্যলাপ শুনতে দারুণ আগ্রহ জন্মায়। আমার খুব প্রিয় লোক। তার সাথে দু’একবার ফোনালাপ হয়েছিলো। এখন টিভির পর্দায় টকশো’র কথা কি আর বলবো। অনেক সময় কথা বলতে বলতে মারমুখীর পর্যায়েও চলে যায়। এক রাজনীতিক (নাম না বলা শ্রেয়) টকশো’তে অংশ নিয়ে সাংবাদিকের তোপের মুখে পড়ে কুপকাৎ তা থেকে বাঁচার জন্য প্রশ্নকর্তাকে নাজেহাল করতে জন্ম কখন, বয়স কত ? তার রাজনৈতিক জীবনের বয়স ষাট বৎসর ইত্যাদি ইত্যাদি তুরুক মারতে শুরু করেন। এসব কিছু নিজের সীমাবদ্ধতাকে আড়াল করার অপপ্রয়াস। ইসলাম ইজম গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, রাজতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র এসব কিছুর মধ্যে ইসলামি নীতিবোধ অত্যন্ত কল্যাণকর ব্যবস্থা। মধ্যযুগীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামী মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলো। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক দর্শনের মূল বক্তব্য হচ্ছে “Democracy and religion are the pretext to hold capitalist system” অর্থাৎ গণতন্ত্র এবং ধর্ম হচ্ছে পুঁজিবাদ ব্যবস্থা ধরে রাখার অজুহাত মাত্র। সমাজতান্ত্রিক এ উক্তি আমাদের মতো ধর্মভিরু এদেশে অচল। তাই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ। এ ব্যবস্থায় মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এর পাশাপাশি অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান এর মতো মৌলিক চাহিদাগুলোকে অনুমোদন দেয়ার ব্যবস্থা আছে। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান অধিকার প্রাপ্ত হবে। এবং আইনকে যেকোন অবস্থায় প্রভাবমুক্ত রাখার ব্যবস্থাও আছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। ‘Law will go on its own way’ আইন চলবে নিজস্ব গতিতে। আইনের গতিপথ স্বাভাবিকভাবে চলতে না দিয়ে পথিমধ্যে বাধাগ্রস্ততা সৃষ্টি করলে সেক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অপমৃত্যু ঘটবে। গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সজ্জিত করতে হলে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আবশ্যকতা আছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ হচ্ছে কথাবার্তা, চাল-চলন, আচার-আচরণের প্রতিফলন। রুচিহীন, যুক্তিবহির্ভুত কথাবার্তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিপরীতে কার্যক্রম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় জনগণই ক্ষমতার উৎস। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হচ্ছে প্রতিপাদ্য বিষয়। রাজনীতিবিদগণকে আমি মনে করি জনগণের সেবক এবং রাষ্ট্রের অভিভাবক। তাঁরা হচ্ছে রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। জ্ঞানে-গুণে, শিক্ষা-দীক্ষা ও ত্যাগের মহিমায় তাঁদেরকে মহিমান্বিত হতে হবে। অভিজ্ঞতার ভান্ডারের অঙ্ক সম্পদের ভান্ডারের অঙ্কের চাইতে বৃহত্তর। এক গণতান্ত্রিক কল্যাণকর রাষ্ট্রে তাঁরা ক্ষমতাসীন হবেন নিজেদেরকে উৎসর্গ করতে। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে রাষ্ট্রের স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার অনড় বন্ধন। প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করবে। বিরোধী পক্ষের বিরোধিতা কতটুকু গ্রহণযোগ্য ক্ষমতাসীন পক্ষ তা অবশ্যই আমলে নিবেন। একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিকের কথায় ব্যক্তিত্বের চাপ থাকবে। নিজস্ব রাজনীতির স্বার্থে বিরোধী পক্ষ এমন কর্মসূচি দেবেন না যাতে করে রাষ্ট্রের জান-মালের ক্ষতি হয়। আজকাল এমন একটা কথা শ্রুত হয় হরতাল হচ্ছে গণতান্ত্রিক অধিকার। সে অধিকার অর্জনে বলি হতে দেখা যায়। কত নিরীহ জীবন। ধ্বংস হয় কত সম্পদ। রপ্তানি বাণিজ্য হয় ক্ষতির সম্মুখীন। ছাত্র-ছাত্রীগণ পতিত হয় সেশন জটের কবলে। পরীক্ষার দিনে পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হয়। চাকরিজীবীরা যেতে পারে না কর্মস্থলে। জাতীয় উন্নতি বাধাগ্রস্ত হয়।
আমরা দেশ স্বাধীন করেছি এবং সাথে সাথে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। পাক শাসনামলে রাজনৈতিক মঞ্চে একটা কথা প্রচলন ছিলো- “আমরা স্বাধীন দেশের পরাধীন নাগরিক”। এ উক্তি ভদ্র ভাষায় অত্যন্ত মর্যাদাহানিকর। প্রধানমন্ত্রীর একটি উক্তি আমার কাছে খুব পছন্দের হয়েছে। ভোট হবে, জনগণ ভোট দিলে ক্ষমতায় আসবো আর ভোট না দিলে ক্ষমতায় আসবো না, তবে যারাই আসবেন তারা যেন উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখেন। অর্থাৎ কত সহজে বলা হলো- গণতন্ত্রের প্রতি এটা তাঁর আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ বলা যায়। বঙ্গবন্ধুর একটা উক্তি “আমি প্রধানমন্ত্রী চাই না আমি এদেশের মানুষের অধিকার চাই”। এদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বাঙালি-অবাঙালি সবাই আমার ভাই, আমাদের যেন বদনাম না হয়। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য ছিলো দেশের স্বার্থে জান-মাল রক্ষার স্বার্থে, এটা তাঁর স্বভাবসুলভ ভাষণ। এতে খুঁত ধরার মতো কিছুই বিদ্যমান ছিলো না। তিনি ছিলেন একজন সুবক্তা a good orato. তাঁর বক্তৃতায় উদ্দীপনা আছে যা অনুপ্রেরণায় সমৃদ্ধ। বক্তব্যের ঢং আলাদা ধরনে। স্বাধীনতা ৪৭ বছর এ.কে খোন্দকার সাহেব তার পুস্তকের এক জায়গায় লিখেছেন, বঙ্গবন্ধু বক্তৃতার শেষে জয় পাকিস্তান বলেছেন। কেউ কেউ Smart Phone এ ভাইরাল করেছে ‘জয় পাকিস্তান’। আমার দুঃখ হয় বঙ্গবন্ধু প্রায় মানুষ চিনতে ভুল করেছেন। এক খোন্দকার (মোস্তাক) আর এ.কে খন্দকার (বিমানবাহিনী প্রধান) তাঁর বন্ধুবেশের শত্রু। পাক সামরিক প্রেসিডেন্ট ৭ মার্চের একটু আগে বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ বলেছিলেন। কই আপনার ঐ গুরুর কথাতো আপনার লেখনিতে আনেননি। জয় পাকিস্তান এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হেয়প্রতিপন্ন করা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা পাকিস্তান প্রীতিছাড়া আর কিছুই নয়। বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বললেও মহাভারত অশুদ্ধ হয়েছে বলা যায় না। তখনও পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা। তার বক্তৃতার তিনি তো নিজেই বলেছিলেন, আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু….যাক্ ওসব। উনি একজন সামরিক বাহিনীর লোক, ওনার জ্ঞানবুদ্ধিতে যা এসেছিলো তাই লিখে বঙ্গবন্ধুকে খাটো করতে প্রয়াসী হয়েছেন। তার অন্যতম পীর সাহেব খোন্দকার মোস্তাক বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দীক্ষার পরিধি নিয়ে মন্তব্য করেছে ‘He had little education’ যা স্মার্ট ফোনে বঙ্গবন্ধুর জাতশত্রুরা ভাইরাল করে আসছে। গায়ের চামড়া জ্বলে ওঠে। অথচ এ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের মধ্যে অন্যতম ভাষণরূপে স্বীকৃত। তিনি যে good orator তা তাঁর ভাষণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। মঞ্চ মাতোয়ারা করার দরাজ কণ্ঠ, আর সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষদেরকে উজ্জীবিত করতে তাঁর জুড়ি নেই। কোন জোট গঠন নয় একক শক্তি ও সক্ষমতার মাধ্যমে তিনি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন তা বাংলাদেশে আর কারো পক্ষে ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কিনা জানা নেই। তাঁর দৃষ্টিনন্দন চলা-ফেরা, ওঠা-বসার ঢং, বডি ল্যাংগুয়েজ, সবার চাইতে আলাদা প্রকৃতির। তিনি রাজনীতির একজন জাতশিল্পী, তাকে নিয়ে একটা ছবি করার কথা ওঠে অমিতাভ বচ্চনকে তাঁর ভ‚মিকায় দিয়ে। এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার পিজুস বাবুকে তাঁর ভ‚মিকায় একটা নাটক প্রদর্শিত হয়। পিজুস তাঁর ধারে কাছেও যেতে পারেননি। এমন কোন চিত্রপরিচালক নেই বা অভিনেতাও নেই ফলপ্রসূভাবে তাকে নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন।
আবার আসা যাউক মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সাহেবের ঈড়হপবঢ়ঃ গরিবের বউ সবার ভাউজ। রাজনীতিক রাজনীতিকে নিয়ে গরিবের বউয়ের মতো খোলামেলা মশকারী, টিট্কারী, ঠাট্টা যা ইচ্ছা তা বলতে পারেন না। রাখঢাক করে কথা বলতে হয়। নচেৎ সøীপ খেয়ে কোথায় কুপকাৎ হবে বলা যায় না। মুখে মধু পেটে বিষ তার নাম পলেটিক্স। রাজনীতি যদি এমনটি হয় আমার মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। রাজনীতি শব্দটা বিশ্লেষণ করে যদি বলি রাজার নীতি। যা বলতে রাজার আদলে ভোগ-বিলাসে কালাতিপাত, তাহলে বুঝবো নিজের আখের গোচানোর পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে রাজনীতি করা। যদি বলি নীতির রাজ, রাজনীতি অর্থাৎ সুনীতি ও আদর্শ ধারণ করে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অর্থই রাজনীতি। এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
যে জন্য রাষ্ট্রপতি যথার্থই বলেছেন, রিটাইয়ার হওয়ার পর আর্মি জেনারেল, সরকারি সচিব, প্রিন্সিপ্যাল, সেক্রেটারি এরা রাজনীতি করতে আজ প্রত্যাশি হয়ে ওঠেছে। তিনি এইও বলেছেন, ‘চাকরি করে যা করার করেছে এরপর রাজনীতি’। এখন রাজনীতির বাজার দারুণ চড়া। তৈল মর্দন, ঘি মর্দন, লোবিং গ্রæপিং ও তদবির করে কার আগে কে অগ্রসর হতে পারে সে চিন্তায় কাজ করছে। তা আমাদের দেশের জন্য সার্বিক চিন্তায় ক্ষতিকর।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক