রাজনীতি কেমন হওয়া উচিত

87

রাস্তার একপাশে দন্ডায়মান মানিক আর তাঁর স্ত্রী পাঞ্চালি। তাদের দু’জনের পাশে ২টা কাপড়-চোপড়ের বাক্স, কিছু নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র। গন্তব্যস্থল কোথায় ? জানা নেই। পরস্পর ভাবছে। মাথা গুজবার ঠাঁই নেই। নিজস্ব কোনো ভিটাবাড়ির অস্তিত্ব নেই। আশেপাশে কোন স্বজনদের বাড়িও নেই। ভেবে-চিন্তে মানিক তাঁর সঙ্গিনী পাঞ্চালিকে বলবো।
মানিক- পাঞ্চালি, এখান থেকে ৫০০ মিটার দূরে আমাদের পার্টি অফিস, চলো ওখানে যাওয়া যাক। দু’জনে পার্টি অফিসের অতিথি রুমে গিয়ে উঠবো। মাথা গুজবার ঠাঁইতো হবে।
পাঞ্চালি- বেশ ভালোই হবে। অনর্থক কারো বোঝা না হয়ে ওখানে ক’টা দিন কাটিয়ে দিতে পারবো। সরকারি কোয়ার্টারের বরাদ্দ পেলেই চলে যাবো।
বর্তমানে মানিকের হাতে হাত খরচার যথসামান্য টাকা আছে। উনি মাসিক খরচা কাটসাট করে কিছু টাকা ব্যাংকে জমা রেখেছেন। অংকটা মাত্র ১০,০০০/০০ টাকার। এটি শেষ সম্বল এবং শেষ ভরসা। দু’জনে উঠলেন পার্টি অফিসের একটি মাত্র কক্ষে। স্বামী-স্ত্রীর সমন্বয়ে একেবারে ছোট্ট পরিবার। একটি মাত্র কক্ষে পাক-শাক, থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা হয়েই গেলো। দুজনে অতি অল্প প্রাপ্তিতে অতি সন্তুষ্ট। কিন্তু প্রিয় বইপত্র (মার্কসবাদী বই) গুলোর জন্য সংকুলান হয়নি স্থান। অযত্নে যত্রতত্রে পড়ে থাকা বইগুলো শেষমেশ পাঠকদের জন্যে দান করা হলো গ্রন্থাগারে। মানিক বাবুর দর্শন হচ্ছে Simple life is the best life. সাদামাটা জীবন হচ্ছে উত্তম জীবন। অত্যন্ত সাদাসিদা লোক, সুতির কম দামি পায়জামা-পাঞ্জাবী পরতে অভ্যস্থ তিনি। ছেলেপুলে নেই। রুজি-রোজগার নেই, গাড়ি নেই, বাড়ি নেই। স্বদেশ নিয়ে ভাবনা। অত্যন্ত ত্যাগী রাজনীতিবিদ ভারতের অধীনে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। একনাগাড়ে বিশটি বছর ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৮ সালের রাজ্যবিধান সভার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ রাজ্যবিধান সভার সর্বোচ্চ পদের অধিকারী মানিক সরকার। রাজ্য বিধান সভার নির্বাচনে মানিক সরকারের দল ধরাসায়ী হলেন তরুণ রাজনীতিক বিপ্লব কুমার দেবের কাছে। বিপ্লব এপাড় বাংলার চাঁদপুরের লোক। ১৯৭০ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধকালীন সময়ে ত্রিপুরায় বসত গড়েন। বিপ্লব তার মাকে অত্যন্ত ভক্তি-শ্রদ্ধা করেন। একদিকে মাতার আশীর্বাদ অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদীর পৃষ্ঠপোষকতার রাজ্য বিধান সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন (৩৫টি) পেয়ে বিজেপি সমর্থিত দল থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্য সরকার গঠন করবেন পক্ষান্তরে কমিউনিস্ট সমর্থিত মানিক সরকারের দল ১৬টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসবেন। সে সুবাদে তিনি বিরোধী দলের একটি কোয়ার্টারের বরাদ্দ পাবেন। তিনি গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে হাসি মুখে মেনে নেন পরাজয়। সরকার পক্ষের কোন নির্দেশের অপেক্ষা না করে স্বপ্রণোদিত হয়ে মানিক সরকার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামে বরাদ্দকৃত বাড়িটা ত্যাগ করে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন।
নির্বাচন পূর্বে বিজেপির প্রচারণায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী স্বগর্বে বলেছিলেন ‘আমরা মানিক পরিত্যাগ করে হীরাকে গদিসীন করবো ত্রিপুরার রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। কথিত আছে মানিক সাত রাজার ধন। মানিক মানিকেই। নির্বাচনোত্তর বক্তৃতায় সেই মোদী বলেন, ‘ত্রিপুরায় আজ যারা বিরোধী দলে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় ছিলেন, নিশ্চয় তাদের অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের বিজেপির যারা শপথ নিলেন তারা একেবারে নবীন, বয়সেও নবীন। প্রবীণদের আছে অভিজ্ঞতা আর নবীনদের আছে উচ্চ প্রত্যাশা। আমাদের বিরোধী দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবো। সুশাসনের মধ্যদিয়ে সবাইকে নিয়ে সবার উন্নয়ন করাই আমাদের অঙ্গিকার।
সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও উপস্থিত ছিলেন। এ বক্তব্য অত্যন্ত ভদ্র ও রুচিশীল তাই এ আচরণ গণতান্ত্রিক আচরণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশই বটে। রাজনীতি হচ্ছে জনগণের তরে নিজের মেধা-বুদ্ধিভিত্তিকে সপি দেয়া। আর গণতন্ত্রের নিখাদ সংজ্ঞা হচ্ছে ‘ Govt is of the people by the people for the people’. হাম বড়ো, অহমিকা, হিংসা, বিদ্বেষ গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার জন্য অগ্রহণযোগ্য।
ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। যার প্রকৃত নাম করমচাঁদ মোহনচাঁদ গান্ধী ভারত ছাড় আন্দোলন করতে ভোগ বিলাসিতা পরিত্যাগ করে ভারতীয় জনগণের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। রোবেন দ্বীপের ৪৬৬৬৪ নম্বর কয়েদী, A long walk to freedom এবং Conversation Myself গ্রন্থের লেখক ত্যাগী রাজনীতিবিদ এবং বিশ্বের সর্বজন পরিচিত লেনসন ম্যান্ডেলা জীবনের স্বর্ণময় মুহ‚র্তের ২৭টি বছর কাটিয়ে দিয়েছেন জেলখানায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গণমানুষের দাবি ও অধিকার আন্দোলন করতে গিয়ে ১৬টি বছর কাটিয়ে দিয়েছেন কারা অভ্যন্তরে।
এসব মহান নেতাদের মধ্যে ছিলো ত্যাগী মনোভাব, দেশপ্রেমের মহান মন্ত্রে। এরা ছিলেন উজ্জ্বীবীত। বর্তমানে আমাদের দেশে এসব ত্যাগী নেতৃত্বের ঘাটতি বিদ্যমান। নেতৃত্বে ত্যাগী দেশব্রতী রাজনীতিকের পরিবর্তে সুবিধাবাদী, স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও লুটেরা ধনীদের প্রাধান্য বেড়ে গেছে। যার কারণে জনগণের মতামতের চেয়ে জবরদস্তিমূলক পন্থায় ক্ষমতা রক্ষা কিংবা ক্ষমতা দখলের প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। গণতান্ত্রিক রীতি অনুসারে পরাজয়কে সহজভাবে মেনে নেওয়া এবং জয়কে সুন্দরভাবে উপভোগ করার মানসিকতা রাজনীতিবিদগণ হারিয়ে ফেলেছেন। প্রত্যেক মানুষ রাজনীতিবিদ নয়। আবার কোন সুস্থ মানুষ রাজনীতির বাইরে নয়। তাদেরও আছে রাজনৈতিক সচেতনা, তাদেরও আছে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় পরখ করার সক্ষমতা। একজন ত্যাগী, রাজনীতিবিদের বার বার গ্রহণযোগ্য যেমন পরিলক্ষিত হয় একজন স্বার্থান্বেষী রাজনীতিককে অগ্রহণযোগ্যতা ও দৃষ্টিগোচর হয়। সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে সুশীল-সুজন নামক এক গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়। এরা মাঝে-মধ্যে মিডিয়ার পর্দায় কিংবা সংবাদপত্রের মধ্যে নিজেদের স্থান করে নিয়েছেন। এরা যেহেতু সুশীল তাই এরা উচ্চবিত্তের শ্রেণীভুক্ত। এরাই যদি সুশীলভুক্ত হন তবে এরা ২০-২৫ জন মানুষ বাদে গোটা দেশের মানুষগুলো কুশীলভুক্ত। আমি কুশীলদের দলে। সুশীলদের কোন সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই। এরা শুধু চটাং চটাং মনগড়া কথা বলে যায়। কোথায় মানুষের অধিকার হরণ হচ্ছে, কোথায় দুর্নীতি হচ্ছে, কোথায় জাতীয় সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে। কোথায় উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে চাকরি বাণিজ্য হচ্ছে ? কেন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হলো এর পশ্চাতে দায়ী কারা ? কেন ধারাবাহিকভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো ? কেন শেয়ার বাজারে এমন ধস। কারা ইউনিপের মাধ্যমে, ইসপিক এশিয়া কিংবা ডেসস্টেনির মাধ্যমে এতো টাকা লুটপাট করলো। ৬৫০০০ কোটি টাকা ব্যাংকের ঋণখেলাপী, ব্যাংক তারল্য সংকট, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি। চিকিৎসাক্ষেত্রে বাণিজ্য প্রভাব। প্রশাসনে ঘুষ-দুর্নীতি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ নেই। দেশকে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। রোহিঙ্গা সমস্যা, খুব অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন, মাদকদ্রব্যের বিপণন ও ব্যবহার। আকাশ অপসংস্কৃতির ব্যবহার। স্মার্টফোনের অপব্যবহার এবং আসক্তির কারণে তরুণ-তরুণীদের চারিত্রিক অধঃপতন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্য, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পক্ষান্তরে রাজনীতি পরিণত হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে। সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের উচিত হবে নির্দয়ভাবে প্রতিরোধ করা। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘তোমার পতাকা যারে দাও, তারে বহিবার শক্তি দাও,’ আমাদের স্বাধীনতা সাধনার ফল, এ স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে আমাদেরকে কষ্ট করতে হবে। ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের রাজনীতির অঙ্গিকার হউক। দুর্বল বিপন্ন মানুষের জন্যে, জনসেবা এবং ভালোবাসায় হউক রাজনীতির পথযাত্রা।
এতো কিছুর পরও কিছু সত্য না বললেই নয়। স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর সাড়ে সাত কোটির স্থলে বর্তমান জনসংখ্যা সাড়ে ষোল কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ছিল মাত্র ৫০০ কোটি টাকা, আমাদের সামরিক বাজেট ছিল মাত্র ৪০ কোটি টাকা। এখন জাতীয় বাজেট ৮০০ গুণের ওপর বেড়েছে। খাদ্যশস্যের উৎপাদন ১ কোটি ১০ লক্ষ টনের স্থলে ৪ কোটি মেট্রিক টন। রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ০.৩৫ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ১৯৭৩-৭৪ সালে দারিদ্র সীমার নিচে মানুষের কম ছিল ৮২.৯% যা বর্তমানে ২৩.৫% মাথাপিছু আয় মাত্র ২০ ডলার মতো বর্তমানে ১৬১০ ডলার। এউচ’র আকার ছিল সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। তা বর্তমানে ২০ লক্ষ কোটি টাকার উপরে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭.২৪%, ১.২৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার বাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলারে।
আশির দশকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ০.১২১ বিলিয়ন ডলার তা বর্তমানে ৩৩ বিলিয়ন ডলার ১৯৭৫-৭৬ এ ০.১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের স্থলে বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলার।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিং মান আরো ৬ মাসের অধিক পরিমাণ আমদানি ব্যয়ের রিজার্ভ জমার পরিসংখ্যানের টেকসই অর্থনীতির গন্ডি পার হয়েছে বাংলাদেশ। এরপর শহরে ও গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট, অবকাঠামো নির্মাণ, উড়াল সেতু, ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা সম্প্রসারণ মেট্রোরেল পথ নির্মাণ, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ। বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে বাপেক্স এর মাধ্যমে তৈল, গ্যাসক‚প খনন। ছিটমহল সমস্যা সমাধান, সমুদ্রসীমা নির্ধারণ। অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলী ইপিজেড নির্মাণ, ট্যানেল নির্মাণে চুক্তি স্বাক্ষর, বৈদেশিক ঋণ সমন্বয়, রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ৭০০ তে উন্নীত, কৃষিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য, মৎস ও প্রাণীসম্পদে সাফল্য অর্জন, নতুন নতুন শ্রম বাজারে শ্রমিক প্রেরণ। তথ্যপ্রযুক্তিতে অভূতপূর্ব সাফল্য বঙ্গবন্ধু মহাকাশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ। সাবমেরিন ক্যাবল, নেটওয়ার্কে সংযুক্ত, জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা-নর্দমা সম্প্রসারণ। শিক্ষা হার ৮৩% উত্তীর্ণ। সামরিক ক্ষেত্রে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীকে রিক্রুটম্যান, সামরিক সরঞ্জাম বৃদ্ধি, নৌ বাহিনীকে ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তর, রাশিয়ার থেকে এবং চীন থেকে ব্যাপক পরিমাণ সামরিক সাজ সরঞ্জাম ক্রয়। যেখানে পাকিস্তানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার সেখানে বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩৩ বিলিয়ন ডলার। যেখানে পাকিস্তানের ১১৭ টাকা সমান ১ ডলার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ৮৫ টাকা সমান ১ ডলার। বর্তমানে আইএমএফ এর বার্ষিক সূচক উদীয়মান অর্থনীতির শীর্ষে চল্লিশ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৪তম। যেখানে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান যথাক্রমে ৬৩তম, ৫২তম, ৪০তম।
আমার এ সমালোচনামূলক নিবন্ধে সরকারের ঘাটতি যেমন তুলে ধরেই সরকারের অর্জনও তুলে ধরতে প্রয়াসী হয়েছি। আমাদের এ ছোট্ট দেশ অত্যন্ত সম্ভাবনার দেশ। আমাদের দেশ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আবদ্ধ। আমাদের দেশপ্রেমের ঘাটতি আছে। স্বীয় স্বার্থের জন্য আমরা দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিতে কুণ্ঠবোধ করি না।
স্বাধীনতা অর্জনে যে দল জাতিকে সুসংগঠিত করেছিলো এবং নেতৃত্বের সম্মুখভাবে ছিলো। সে দলের মধ্যে যদি বিভেদ ও অন্তর্দ্ব›দ্ব থাকে। সে দলে যদি গ্রুপিং, গ্রুপিং এ শক্তির পরিধি সংকুচিত হতে থাকে তবে দলের জন্য নিদারুণ বিপদ ডেকে আনবে। কেউ কাকে ছাড় দিতে চায় না পদবীর জন্য কোন্দল। দলের সাধারণ সম্পাদকের সামনে চেয়ার ছোড়াছুড়ি শুভ আচরণ নয়। এতে গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে দলের ক্ষতি হবে। নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের দূরত্ব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে তা অশুভ।
আমি হতবাক হয়ে যাই যখন উঁচু মাপের নেতা-নেত্রীরা নিম্নমানের বাক্য প্রয়োগে অভ্যস্থ। নির্বাচন প্রাক্কালে কোন অবস্থায় জনগণকে মিথ্যা আশ্বাসে আশ্বস্থ করা উচিত নয়। যে আশ্বাস কখনো পূরণ করা সম্ভব নয় তা প্রতারণার নামান্তর। বিরোধী পক্ষ সরকারের একটা অংশ। তাদেরকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করা তাদের গঠনমূলক সমালোচনাকে গ্রাহ্য করা উচিত। দেশের স্বার্থে তাদেরকে সাথে নিয়ে কাজ করলে দৃষ্টিনন্দন হবে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বিশ্বে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। চাঁদাবাজি, মাস্তানি, টেন্ডারবাজি, ভূমি দস্যুতা, ভ‚মি দখল এসব কিছু নির্দয়ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। কোন কিছুই মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে ঘটছে না। সুতরাং এ অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া বাঞ্ছনীয়।
এদেশের সমৃদ্ধি আমার কাম্য। নিজের স্বার্থের জন্য দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেওয়া উচিত নয়। এমন কাজ করা উচিত নয় যাতে দলের ক্ষতি। যেকোন কিছুর বিনিময়ে নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে দেশের পক্ষে অবস্থান করা ধর্মীয় দায়িত্ব। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, পেয়েছি জাতীয় পরিচয়, পেয়েছি জাতীয় পতাকা, পেয়েছি জাতীয় সঙ্গীত এসব পরম পাওয়ার পর আর অবশিষ্ট বলতে কিছুই নেই। এখন দেশকে ভালোবাসার পালা এবং দেওয়ার পালা।

লেখক : অর্থনীতিক বিশ্লেষক