জন দুর্ভোগ চরমে­­

রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিকল হয়ে আছে এক্স-রে মেশিন

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

75

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা হাসপাতালের দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও কোনটি সচল নেই। বিকল হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে। হাসপাতালে প্রথম এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয় ১৯৮৫ সালে। এরপর উন্নত প্রযুক্তির আরো ১টি এক্সরে মেশিন ২০০৬ সালে। বর্তমানে দুটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে হাসপাতালে এক্সরে মেশিনের সুবিধা পাচ্ছে না এলাকার অসহায় রোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে রেডিও গ্রাফারও নেই। এ কারণে বেসরকারি রোগ নির্ণয়কারী কেন্দ্র থেকে এক্স-রে করাতে প্রতিনিয়ত শত রোগীদের অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। সরেজমিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেছে দুটি এক্সরে মেশিন রাখার কক্ষে তালা ঝুলছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর কিপার (ভারপ্রাপ্ত) ডারিম কুমার রায় তালা খোলার পর দেখা যায়, এক্স-রে মেশিন রাখার কক্ষটিতে ছড়িয়ে ছিটেয়ে আছে ময়লা আর্বজনা, অপরটির অবস্থাও একই রকম। জানতে চাইলে তিনি জানান, দীর্ঘ ৬ বছর ধরে এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। পর পর দুটি এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখানে চিকিৎসা সেবা পাননা রোগীরা। তাছাড়া এক্স-রে মেশিন চালানোর জন্য হাসপাতালে অপারেটরও নেই অনেকদিন ধরে। বছরের পর বছর মূল্যবান এক্স-রে মেশিন গুলো বদ্ধ ঘরে আবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে। ঠিক করার উদ্যোগ না নেওয়ায় রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা দায়সারা ভাবে চলছে। রোগীদের অভিযোগ হাসপাতালে দুইটি এক্স-রে মেশিন থাকা সত্বেও প্রতিদিন নানা জঠিল রোগে আক্রান্তদের এক্স-রে ছাড়া চিকিৎসকরা দায়সাড়া চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। দুর্ঘটনার রোগীদের ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করে নিয়ে আসতে হয়। এতে যতেষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। রোগীরা রোগ নির্ণয়ের সার্থে হাসপাতাল থেকে ৩-৪ কিলোমিটার দুরে গিয়ে এক্স-রে করে আনতে বাধ্য হয়। এতে এলাকার গরিব রোগীদের আর্থিকভাবে সমস্যার সম্মূখীন হতে হয়। কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে মেশিন হাসপতালে জরাজির্ণ ভাবে রাখা হয়েছে। দিন দিন এক্স-রে মেশিনটি সম্পূর্ণ রুপে বিকল হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ১৯৬৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শর্য্যার ভবন নির্মাণ হয়। ১৯৯৬ সালে হাসপাতালটি ৫০ শর্য্যায় উন্নিত হয়। ১৯৮৫ সালে হাসপাতালে ১শ এমএ এক্স-রে মেশিনটি স্থাপন করা হয়। যন্ত্রটি ২০১২ সাল পর্যন্ত সচল ছিল। ২০০৬ সালে স্থাপন করা হয় ৩শ এমএ এক্সরে মেশিনটি। সেটিও ২০১৩ সালে নষ্ট হয়ে যায়। স্বাস্থ্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে জরুরি বিভাগ থেকে ২শ রোগী সেবা নেন। বহি বিভাগে সেবা নেন ২৫০ থেকে ৩শ রোগী। অন্ত বিভাগে ৭০ থেকে ৮০ জন ভর্তি থাকেন। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীর এক্স-রে প্রয়োজন হয়। অসহায় রোগীরা সে সেবাটা পান না হাসপাতাল থেকে। চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মো. সেলিম (৪৫) হাটুতে গুরতর আহত হন। হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন বিকল থাকয় থাকায় বাইরে থেকে এক্স-রে করানো হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে অনেকক্ষন সময় লেগেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরতর আহত কোহিনুর আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া অবস্থায় এক্সরের প্রয়োজন হয়। তার মাথার গুরুতর আঘাত হাসপাতালের দুটি এক্সরে দিয়ে করানো সম্ভব হয়নি। তাকে দ্রæত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। এভাবে প্রতিদিন রোগিদের সিমাহীন দুর্ভোগের সম্মূখীন হতে হয়। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি এক্স-রে যন্ত্রের ফি নেওয়া হয় ৭০ টাকা। কিন্তু বাইরে সাধারণ ৩শ টাকা ডিজিটাল এক্স-রে ৫শ টাকা দিতে হয় রোগীদের। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুবিনুর রহমান জানান, আমি হাসপাতালে যোগদান করার আগে থেকে ২টি এক্স-রে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এক্স-রে মেশিন দুটি সচল করার জন্য চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।