রাঙ্গুনিয়ায় ৫ শতাধিক কৃষকের মাথায় হাত

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

47

রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকার ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে। কিন্তু একই জমির পাশাপাশি দুই মৌজার দামে বিস্তর পার্থক্যের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক। এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবর স্থানীয়রা কয়েক দফা আবেদন করেও কোন অগ্রগতি পাচ্ছে না। ডিসি অফিস থেকে কোন বসতঘর অধিগ্রহণ না করার কথা বললেও বসতঘর উচ্ছেদ করে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে বলে জমির মালিকরা অভিযোগ করেন। কৃষকরা বিষয়টি স্থানীয় সাংসদকে অবহিত করেছেন। পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১৮৮.৫৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। অধিগ্রহণকৃত জায়গায় পারুয়া মৌজার ১’শত একর ও পাশাপাশি ঘাটচেক মৌজার ৯০ একর জায়গা পড়েছে। ঘাটচেক মৌজায় ভূমি মালিকদের শতক প্রতি ১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা হলেও পারুয়া মৌজায় দাম ধরা হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৯’শত টাকা। অর্থ্যাৎ পাশাপাশি দুটি ভূমিতে দামের পার্থক্য ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। দামের বিস্তর এই পার্থক্যের কারণে প্রায় ৫শত ভূমি মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার উর্বর ত্রিফসলী এই জমি অধিগ্রহণের ফলে কৃষি নির্ভর অনেক পরিবার পথে বসবে বলে জানান তিনি। জমির মূল্যে তারতম্যের বিষয়ে ও নায্য মূল্যে পেতে কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কাছে তিনবার আবেদন করেন। কিন্তু এর কোনো প্রতিকার পাইনি।’ স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল জলদাশ বলেন, ‘নদীর ভাঙ্গনে বসতবাড়ি হারিয়ে তিনি পারুয়া মৌজায় জায়গা কিনে বসতবাড়ি তৈরি করে থাকছেন। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য তাঁর বসতভিটার জায়গা অধিগ্রহণ করে খুঁটি গেড়েছে। তাঁকে এখান থেকে উচ্ছেদ করা হলে পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবেন না বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসক অফিসের সার্ভেয়ার হাবিবুর রহমান বলেন, পিডিবির ম্যাপ অনুসারে জায়গা নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোন বসতঘর অধিগ্রহণ করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মুমিন বলেন, ‘জায়গা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। ৭ ধারা নোটিশে ভূমি মালিকদের অবহিত করা হয়েছে। মৌজা দামের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাল বুঝবেন।’