রাঙ্গুনিয়ায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি

25

রাঙ্গুনিয়া করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ৪ জুন পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ার ৩০৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এরমধ্যে ২২৫ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৫৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। যারমধ্যে ১৫ জনই সরফভাটা ইউনিয়নের। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮ জন এবং এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ জন হোম আইসোলেশনে এবং ৪ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রয়েছেন। লকডাউন উঠে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন নিজেদের মুক্ত মনে করছেন। তারা এখন বাচার তাগিদে সব কিছুই করছেন। মহামারী করোনা ভাইরাস তাদের কাছে কিছুই না। এভাবে প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমন। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। কিন্তু এরপরও সচেতনতার বিন্দু মাত্র নেই রাঙ্গুনিয়ার কোথাও। রাস্তাঘাট, হাটবাজার সহ সবস্থানেই সামাজিক দূরত্ব ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ছাড়াই ঘুরাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। এই বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ আরোপ, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও ত্রাণ তৎপরতা চালাতে গিয়ে গত ১ জুন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাঙ্গুনিয়ার করোনা পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হওয়ার আশংকা করছেন সচেতন মহল। উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়ন দিন দিন করেনা আক্রান্তের উর্বর এলাকা হিসেবে গন্য হয়েছে। এ ইউনিয়নে ১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় অফিসারদের মধ্যে আক্রান্ত হচ্ছে বেশী। গন পরিবহন চালু হওয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন ছুটে চলেছে। করেনার কথা অনেকে ভুলে গেছে। জানা যায়, এদিকে সংক্রমনের দিক থেকে এ উপজেলাকে ইতোমধ্যে দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সামাজিক দুরত্ব মানছেনা কেউ। করোনার ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলেও তবুও অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই সচেতনতা পরিলক্ষিত না হওয়ায় সংশ্লিষ্টরা হতাশ। প্রতিদিনই এখানে হাটবাজারে অসংখ্য মানুষের দেখা মিলছে। নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার ছাড়াও তারা জামা-কাপড়-সাজ সজ্জার সরঞ্জাম কিনছেন অহরহ। তাছাড়া এ মহূর্তে সবচেয়ে জরুরি যে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা কিংবা মুখে মাস্ক ও হাতে গøাভাস ব্যবহারও করছেন না অনেকেই। ফলে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহানুল ইসলাম। আমরা শুরু থেকেই অপ্রয়াজনে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ করে আসছি। জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে গেলেও তিনি যেন অবশ্যই মাস্ক ও হ্যান্ড গøাভাস ব্যবহার করেন সে কথাও বলেছি বারবার। আর সামাজিক দুরত্বের কথা তো প্রতি মহূর্তেই বলছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। বাজারগুলোতে গেলে মনে হয় আমরা যেন করোনা জয় করে ফেলেছি। মানুষ নিজেকে রক্ষার গুরুত্বও যদি না বোঝে তবে তাদেরকে আর কিভাবে বোঝানো যাবে। এখন নিজেদের সুরক্ষা নিজেদের করতে হবে। নিজে সচেতন না হলে করোনায় আক্রান্ত হবে নিঃসন্দেহে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, গত ১ জুন আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে ইউএনও ছাড়াও রয়েছে পৌরসভার ২ জন, সরফভাটার একটি যৌথ পরিবারের ৭ জন, ১ জন ওই এলাকার দ্বিতীয়বার পজিটিভ নারী, শিলক এলাকার ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ জন এবং ১ জন রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত ৪৫ বছর বয়সী এসআই। আক্রান্ত পৌরসভার দুইজনের একজন হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধিনে পোমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ৫২ বছর বয়সী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা নারী এবং অন্যজন পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকার ৪৯ বছর বয়সী পুরুষ। সরফভাটার যৌথ পরিবারের ৭ জনের মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাই, ৫০ বছর বয়সী তার মা, ২৫ ও ১৫ বছর বয়সী তার চাচাতো ভাই, ৪৮ ও ১৮ বছর বয়সী তার দুই চাচা। এছাড়া সরফভাটার ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর দ্বিতীয় মেয়াদেও পজিটিভ আসে। নতুন আক্রান্ত সবাই ২৭ মে নমুনা জমা দিয়েছিলেন। তবে নমুনা দেওয়ার সময় তাদের শারীরিক কিছু উপসর্গ থাকলেও এখন তাদের অধিকাংশই সামান্য জ্বর-কাশি ছাড়া আর কোন উপসর্গ নেই বলে জানা যায়। আক্রান্ত সবাই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। গত ২ জুন নতুন ৩৩ জনের নমুনাসহ এখন পর্যন্ত ২৭৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ২০৮ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। যারমধ্যে ৫০ জনের পজিটিভ। এরমধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ২ জন মারা গেছেন বলে জানা যায়। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান সহ একদিনে ১৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত ১ জুন রাতের রিপোর্টে তাদের এই রোগ শনাক্ত হয়। আক্রান্তের মধ্যে রয়েছে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন পুলিশসহ মোট ৩ জন নারী এবং অন্যারা বিভিন্ন বয়সী পুরুষ। এরমধ্যে একজন দ্বিতীয় মেয়াদে পজিটিভও রয়েছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, একদিনে আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে ইউএনও ছাড়াও রয়েছে পৌরসভার ২ জন, সরফভাটার একটি যৌথ পরিবারের ৭ জন, ১ জন ওই এলাকার দ্বিতীয়বার পজিটিভ নারী, শিলক এলাকার ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ জন এবং ১ জন রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত ৪৫ বছর বয়সী এসআই। আক্রান্ত পৌরসভার দুইজনের একজন হলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অধিনে পোমরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ৫২ বছর বয়সী উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা নারী এবং অন্যজন পৌরসভার দক্ষিণ ঘাটচেক এলাকার ৪৯ বছর বয়সী পুরুষ। সরফভাটার যৌথ পরিবারের ৭ জনের মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ২৯ বছর বয়সী চিকিৎসক, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট ভাই, ৫০ বছর বয়সী তার মা, ২৫ ও ১৫ বছর বয়সী তার চাচাতো ভাই, ৪৮ ও ১৮ বছর বয়সী তার দুই চাচা। এছাড়া সরফভাটার ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর দ্বিতীয় মেয়াদেও পজিটিভ আসে। নতুন আক্রান্ত সবাই ২৭ মে নমুনা জমা দিয়েছিলেন। তবে নমুনা দেওয়ার সময় তাদের শারীরিক কিছু উপসর্গ থাকলেও এখন তাদের অধিকাংশই সামান্য জ্বর-কাশি ছাড়া আর কোন উপসর্গ নেই বলে জানা যায়। আক্রান্ত সবাই হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। গত ২ জুন নতুন ৩৩ জনের নমুনা সহ এখন পর্যন্ত ২৭৬ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ২০৮ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। যারমধ্যে ৫০ জনের পজিটিভ। এরমধ্যে ৮ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ২ জন মারা গেছেন বলে জানা যায়।