ঝুঁকি নিয়ে যানচলাচল

রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন ব্রিজে ফাটল

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

20

দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার ৫নং ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম গোডাউন ব্রিজ। এটি নির্মাণের পর থেকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মানুষের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। এটিকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মানুষের সার্বিক কর্মকান্ডে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়। যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজের ওয়েরিং কোর্স সম্প্রতি উঠে গেছে। এটি সেতুর মূল স্ল্যাবের উপরের স্তর। আর এ স্তর অর্থাৎ ওয়েরিং কোর্সের আনুমানিক ২শ (১০ বাই ২০ ফুট) বর্গফুট অংশজুড়ে এ ফাঁটল দেখা দিয়েছে। সেতুটির ডেক স্ল্যাবের বেশ কয়েকটি জয়েন্টের প্লেইট বারও উঠে গেছে। এসব লোহার তৈরি বার চুরির ঘটনাও ঘটছে। এছাড়াও সেতুর র‌্যালিংয়ের রং উঠে গিয়ে এর সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। প্লেইট সংস্কারসহ পুরা সেতুর ওয়েরিং কোর্স সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়বাসিন্দা মোহাম্মদ শোয়েব জানান, গত কয়েকদিন ধরেই গোডাউন সেতুর উপরের অংশে ফাটল দেখা যাচ্ছিলো। এক রাতে যাওয়ার সময় দেখি ফাটল ধরা একটা অংশের কিছুকিছু পাথর-খোয়া উঠে যায়। পরের দিন দুপুরে গিয়ে দেখা যায় ভারী যানবাহন চলাচল করায় ফাটল ধরা অংশটির প্রায় বেশকিছু অংশের সলিড কাস্টিং ও পাথর-খোয়া উঠে গেছে। এছাড়াও ব্রিজের অধিকাংক ডেক স্ল্যাবের জয়েন্ট প্লেইট বার উঠে গেছে। এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চলাচল করলে বিকট শব্দ হয়। সম্প্রতি সবার অগোচরে একটি প্লেইট চুরি করে কেটে নিয়ে যায়। মো. জামাল উদ্দিন নামে অপর এক ব্যক্তি জানান, এটি দ্রুত সংস্কার কাজ করতে হবে। অন্যথায় পুরা ব্রিজে এ ফাটল ছড়িয়ে পড়বে। সরফভাটা এলাকার জাহেদুর রহমান জানান, কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারীর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এর সংস্কার কাজ হচ্ছে না। ব্রিজের গায়ের রেলিংয়ের রঙ ও ইতোমধ্যেই উঠে গেছে। ব্রিজটি এভাবে অবহেলায় পড়ে থাকলে অল্পকিছুদিনের মধ্যেই সেতুটি আরও বেহাল হয়ে যাবে। তাই যতদ্রুত সম্ভব জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দিয়ে এটি সংস্কারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সরফভাটা এলাকার প্রকৗশলী মো. ইমরান হোসেন জানান, এ সমস্ত ফাটল সাধারণত ময়েশ্চারিং ঠিকমত না হওয়ার কারণে হয়। এছাড়াও সঠিক অনুপাতে কনক্রিট মিশ্রণ না করা, পানি ও সিমেন্ট মিশ্রণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া, ভাল মানের পাথর না দেওয়া, মাটিযুক্ত ও অপরিস্কার বালি দেওয়া, লবণাক্ত পানি, কনক্রিটে যদি ব্লিডিং-সেগ্রেগেশন হয়ে কনক্রিটের সিমেন্ট-বালি ও খোয়া আলাদা হয়ে গেলে, ঠিকমত কিউরিং না করার কারণে এ ধরণের ফাটল ধরে। ৫ হাজার পিএসআই স্ট্রেন্থে পুরা ব্রিজে একবারে সংস্কার করতে হবে। এবং ফাঁটল ধরার কারণ সমূহ মাথায় রেখে এর সংস্কার কাজ করতে হবে। অন্যথায় সংস্কার করলেও অল্পদিনের ব্যবধানে তা আবার উঠে যাবে। সরফভাটা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, গোডাউন ব্রিজ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াবাসীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার কারণে এর এ অবস্থা হয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে আসার সাথে সাথে আমি সংশ্লিষ্ট র্কর্তৃপক্ষের সাথে যোগযোগ করেছি। এলজিআরডি ইঞ্জিনিয়ার, সড়ক ও জনপদ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার এসে সরেজমিনে এটি দেখে পরিমাপ করে গেছেন। ব্রিজের সংস্কার কাজসহ ব্রিজ রক্ষায় এর আশেপাশের এলাকা থেকে বালি উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান তিনি। উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, এটি নির্মাণের সময় সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীন থাকলেও পরবর্তীতে অন্যান্য সড়কের সাথে সাথে এটি এলজিআরডি এর অধিনে চলে আসে। সেতুটির সাথে সংযুক্ত অন্য সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। এরসাথে মিলিয়ে এ সেতুর সংস্কার কাজ করতে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। অচিরেই সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহম্মদ এ সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। সরকারের রাজস্ব খাতের প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৫ সালের এপ্রিল মাসে। কনকর্ড কনস্ট্রাকশন লি. এ সেতু নির্মাণের কাজ করেন। তিন বছরের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দশ বছর পর। প্রথমে সেতুটি পিলারের উপর লোহার প্লেইট দিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা ছিল। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে প্লেইটের পরিবর্তে আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া করা হয়। বেক্সিমকো কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মাধ্যমে পরে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়। সেতুটি মূলত একটি পিলার সেতু, ৮টি পিলার স্প্যান দিয়ে এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের পর থেকে মাঝের মধ্যে রংয়ের কাজ করা ছাড়া আর তেমন কোন সংস্কার কাজ হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী।