রাঙামাটির মানুষ অপেক্ষা করছে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য : দীপংকর

রাঙামাটি প্রতিনিধি

9

১৯৯৬ সাল থেকে টানা ২২ বছর ধরে রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বি’ সভাপতি দীপংকর তালুকদার। নিজের দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জেলা কমিটিও সাজিয়েছেন নিজের মতো করেই। কিন্তু এই প্রথম বারের মতো তার মুখ দিয়েই বেরিয়েছে শঙ্কার কথা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাহাড়ি জেলা রাঙামাটির আসনে নিজের মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন সাবেক এই পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে রাঙামাটিতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিলে পাহাড়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ধংস হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাঙামাটিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য দীপংকর এর আগে গত ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগ থেকে একক মনোনয়ন পেয়েছেন। এরমধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জয়লাভ করলেও, হেরেছেন ২০০১ ও ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। অবশ্য ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আ.লীগ অংশ না নেয়ায় চূড়ান্ত তালিকায় থেকেও তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়নি।
দীপংকর বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে অবৈধ অস্ত্রের মুখে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। সেই সুযোগ আর আঞ্চলিক দল পাবে না। এখন মানুষ অপেক্ষায় আছে নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য। কিন্তু রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে এখানে দলটির অস্তিত্ব আর থাকবে না। বর্তমানে রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগের যে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে- তখন তার অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন দলটির রাঙামাটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী দীপংকর তালুকদার।
দীপংকর আরও বলেন, এখন নির্বাচন এসে আবার একটা নতুন ইস্যু তোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- এ আসনটি ১৪ দলীয় জোটের দরকার। কিন্তু রাঙামাটিতে আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের কেউ নেই। অন্যদের অস্তিত্ব গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগকে আসনটি ছেড়ে দিতে হবে। তবেই আসনটি ১৪ দলের থাকবে। দীপংকর বলেন, আসনটি আমরা চাই। কিন্তু সেটা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করে নয়- আওয়ামী লীগের অবস্থান সুদৃঢ় রেখেই আসনটির জয় নিশ্চিত করতে হবে।
সকাল ১১টায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গনে জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি অংসুই ছাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। এ ছাড়া দলটির উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর হায়দার চৌধুরী রোটন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা।