রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি

29

পাহাড়ধসের ভয় ঘুরেফিরে তাড়া করছে রাঙামাটির মানুষকে। কিন্তু তবুও বিধ্বস্ত ভিটায় বহু মানুষকে বাস করতে হচ্ছে ঝুঁকিতে। জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ এখনও বাস করছেন পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে। কারণ তাদের যাওয়ার ঠাঁই নেই কোথাও।
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হবে নিরাপদ স্থানে। সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসন করা হবে- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন কথা বললেও এক বছর ধরে পুনর্বাসন তো নেই। এজন্য জায়গাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের জানমাল রক্ষায় নিরাপদে চলে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রশাসনের।
ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের প্রশ্ন- ভিটেবাড়ি ছেড়ে তারা যাবেন কোথায়? কোথাও মাথা গোজার ঠাঁই নেই তাদের। দুর্যোগের আশঙ্কায়ও বাস করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।
যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের লোকজনকে স্বেচ্ছায় নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে। আগেভাগেই আশ্রয় কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি আছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলা ও দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার ও মেরামত কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, খাদ্য, ত্রাণ, জ্বালানি মজুদ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে ১২০ জনের প্রাণহানিসহ ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। আমরা আর এ ধরনের দুর্যোগ ও প্রাণহানি চাই না। এজন্য আগের বছরের অভিজ্ঞতার শিক্ষা নিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করা সব লোকজনকে স্বেচ্ছায় নিরাপদে সরে যেতে হবে। কোন অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ ভিটায় বাস করা যাবে না।
পুনর্বাসন বিষয়ে তিনি বলেন, উপযুক্ত জায়গা না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ লোকজনকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না।
এর আগে রাঙামাটি সফর করে গেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ওই সময় তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙামাটিতে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে জনগণকে আগাম সতর্কতামূলক বার্তা জানাতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনী, জনগণসহ সবাইকে সম্মিলিত প্রস্তুত নিতে হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেদভেদী, যুব উন্নয়ন অফিস এলাকা, রাঙাপানি, শিমুলতলী, রূপনগরসহ রাঙামাটি শহর এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঝুঁকিতে বাস করছেন অসংখ্য মানুষ। শুধু রাঙামাটি শহরে ৩৩ স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫৬৩ পরিবারকে ঝুঁকিতে বসবাসকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব পরিবারকে নিরাপদে সরে যেতে বলা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এলাকায় এলাকায় গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সঙ্গে করছেন মতবিনিময়। পাহাড়ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি তাদেরকে স্বেচ্ছায় নিরাপদে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড়ধসে রাঙামাটিতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এতে আহত হয় প্রায় দেড় শতাধিক। যাদের মধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকই। এছাড়া রাস্তাঘাট, সেতু, স্থাপনাসহ ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক।