রাঙামাটিতে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে বললো সিভিল সার্জন

রাঙামাটি প্রতিনিধি

15

রাঙামাটি জেলায় চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা। সদরসহ রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। চিকিৎসকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে জানান তারা।
চিকিৎসকরা জানান, রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার বিস্তার ঘটেছে। ফলে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এডিস মশার আক্রমণ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশা নিধনে জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি টিম তৎপরতা শুরু করেছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে বলেন, শহরসহ রাঙামাটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এডিস মশার সন্ধান পাওয়া গেছে। এডিস মশার কামড়ে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর দেখা দিয়েছে। প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এডিস মশা নিধনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১০টি টিম গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডাবের খোসাসহ জমে থাকাসহ বদ্ধ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এর আক্রমণ থেকে রক্ষায় বাড়ির পাশে জমে থাকা ময়লা পানির নিষ্কাশনে উদ্বুদ্ধকরণসহ জনসচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। আতঙ্কের কোন কারণ নেই।জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাস থেকে রাঙামাটি শহরে একই সাথে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর দেখা দেয়। পরে শহরসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েতথ্য মতে, এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাস দেড় শতাধিক ডেঙ্গু এবং দুই শতাধিক চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগিকে জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও অনেককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জেলায় চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর দেখা দেয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবেদনের সূত্র ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এরই মধ্যে একদল চিকিৎসক রাঙামাটি আসেন। তারা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এডিস মশার সন্ধান পেয়েছেন। এডিস মশার কামড়ে পাহাড়ি এলাকায় চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বর দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।