রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাল

তৈয়ব চৌধুরী, রাউজান

10

রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন কাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ কাউন্সিলের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর নতুন সভাপতি ও ২২ বছর পর সাধারণ সম্পাদক পাচ্ছে সংগঠনটি। উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কান্ডারী কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। তবে এবার মূল দুই পদেই যে নতুন মুখ আসছেন-এমনটাই নিশ্চিতভাবে ধারণা নেতাকর্মীদের। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয় ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। কাজী আবদুল ওহাবকে আহব্বায়ক ও আনোয়ারুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ইতোমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বেলা আড়াইটায় রাউজান সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশাল প্যান্ডেল, রাঙামাটি সড়কের আশপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ব্যাপক সাজসজ্জাসহ আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে প্রস্তুতি কমিটি। ইতোপূর্বে উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডে সম্মেলন সম্পন্ন করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর একাধারে দীর্ঘ ২৫ বছর আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন পৌসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করলে এরপর থেকে সহ সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ সম্মেলনে তিনি নিয়মিত সভাপতি হতে যাচ্ছেন, এ ধারণা ছিল অনেকের। কিন্তু তিনিও মারা যান গত জুলাই মাসে। অন্যদিকে ১৯৯৭ সাল থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা মুসলিম উদ্দিন খানের সাথে এখন যোগাযোগ নেই তৃণমূল রাজনীতির।
ইতোমধ্যে সভাপতি-সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন সভাপতি পদে যদি কাজী আবদুল ওয়াব নির্বাচিত হন, সে ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন চৌধুরী। আবার অনেকের ধারণা কফিল উদ্দিন চৌধুরী সভাপতি হলে, সে ক্ষেত্রে আনোয়ারুল ইসলাম, বশির উদ্দিন খান, জমির উদ্দিন পারভেজ, সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, নোয়াজিষপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার্দী সিকদারের মধ্য থেকে একজন সাধারণ সম্পাদক হবেন।
কমিটিতে অন্যান্য পদের প্রত্যাশীরাও বসে নেই। তারা তাদের পছন্দের পদটি পেতে নানাভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যপদের প্রার্থীরা হলেন নুর মোহাম্মদ, আলমগীর আলী, ইরফান আহমদ চৌধুরী, কামরুল হাসান বাহাদুর, পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ, জাফর আহমদ, ইফতেখার উদ্দিন দিলু, শাহ আলম চৌধুরী, কামাল উদ্দিন, শ্যামল পালিত, এডভোকেট দীপক কান্তি দত্ত, এডভোকেট সমীর দাশগুপ্ত, জানে আলম জনি, শাহাজান ইকবাল, দোস্ত মোহাম্মদ খান, আহসান হাবীব চৌধুরী হাসান, শফিউল আলম শফি, নুরুল আবছার মিয়া, মাহাবুবুল আলম, এস.এম বাবর, মনজুর হোসেন, সৈয়দ মোজাফ্ফর হোসেন, জাহাঙ্গীর সিকদার, আবুল বশর বাবুল প্রমুখ।
তবে সম্মেলনে সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ভূমিকাই মুখ্য হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই একবাক্যে স্বীকার করেন। তাই এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর কাছে নানাভাবে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে প্রত্যাশিত পদে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন অনেকেই।
উল্লেখ্য, কাল এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ এমপি, প্রধান বক্তা থাকবেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।