রহস্যময় ‘শয়তানের ব্রিজ’

38

কথাটা অদ্ভুত শোনালেও পতুর্গালে এমন একটি ব্রিজ আছে যেটার নাম ‘ডেভিল ব্রিজ’ বা শয়তানের সেতু। দেশটির মন্টেলেগ্রি এবং ভেইরা ডি মিনহো-র সীমানা কাছাকাছি এ ব্রিজটির অবস্থান। রাত হলে এ ব্রিজটির আশেপাশে কেউ যান না। আবার নিঃসন্তান নারীরা এ ব্রিজে দাঁড়ালে হন অন্তঃসত্ত্বা।
কথিত আছে, মধ্যযুগের কোনো এক সময় ডেভিলস ব্রিজটি শয়তান নিজেই তৈরি করেছে। পাথর দিয়ে তৈরি ব্রিজটির নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে খরস্রোতা রাবাগাও নদী। জনশ্রুতি আছে, কোনো এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে এক ডাকাত পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে রাবাগাও নদীর কাছে এসে আটকে যায়। সে সময় ডাকাতটি শয়তানের নামে প্রার্থনা শুরু করে। ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে সেখানে হাজির হয় শয়তান। ডাকাতের অনুরোধে শয়তান খরস্রোতা নদীর উপর একটি ব্রিজ বানিয়ে দেয়। বিনিময়ে মৃত্যুর পর নিজের আত্মাকে শয়তানের কাছে অর্পণ করার প্রতিশ্রুতি দেয় ডাকাত। খবর বার্তা সংস্থার
ব্রিজ পার হওয়ার সময় শয়তান সেই ডাকাতকে আরও একটি শর্ত জুড়ে দেয়। সে অনুযায়ী, ব্রিজ পার হওয়ার সময় ডাকাত পেছন ফিরে তাকাতে পারবে, তা হলে মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে সেতুটি। শয়তানের শর্তানুসারে পেছনে না তাকিয়ে দৌড়ে সেতুটি পার হয় ডাকাত। এর কয়েক বছর পর কঠিন অসুখে পড়ে সেই ডাকাত। তখনই মনে পড়ে যায় শয়তানকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা। অনুশোচনায় ভুগে সে একজন ধর্মযাজককে নিজের সব কথা খুলে বলে। এরপর ওই যাজক ছদ্মবেশে রাবাগাও সেতুতে হাজির হন। তিনিও শয়তানের নামে প্রার্থনা শুরু করেন। আবারও শয়তান আসে। যাজক শয়তানকে নিজের আত্মা উৎসর্গ করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবর্তে নদীর উপর সেতুটি আবার তৈরি করে দিতে অনুরোধ করেন। তার কথা মতো শয়তান সেতুটি তৈরি করে। তখন ওই ধর্মযাজক শয়তানের উপর পবিত্র পানি ছিটিয়ে তাকে ধ্বংস করে দেন। কিন্তু ব্রিজটি থেকে যায়।
এ লোককথা আশেপাশের এলাকায় এতটাই প্রচলিত যে রাতে কেউ আর ওই ব্রিজের দিকে যান না। তবে যেসব নারীদের দীর্ঘদিন সন্তান হয় না কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীর সন্তানের যদি কোনো সমস্যা থাকে তারা মাঝরাতে এ ব্রিজে আসেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ব্রিজে নিঃসন্তান নারী অপেক্ষা করার সময় যদি কোনো ব্যক্তি ওই ব্রিজের উপর দিয়ে যান, আর দড়ি বেঁধে নদী থেকে পানি তুলে ওই নারীকে খাওয়ান তাহলে তিনি গর্ভধারণ করেন।