রমজান : বিদায় বেলায় বাজে বিষাদের সুর

আবু নাছের মুহাম্মদ তৈয়ব আলী

19

আল্লাহর রহমত বর্ষণের মাস রমজানুল মোবারক। সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও পবিত্রতার পরশ নিয়ে এসেছিল রমজান। মহিমান্বিত এ মাস বিশ্ব মুসলিমের নিকট পবিত্র উৎসবের মাস হিসেবে এসেছিল। এ উৎসব এবাদতের উৎসব। পবিত্র রমজানের বরকতময় চাঁদ উদীত হওয়ার সাথে সাথে পবিত্র আমেজের পরশ বুলিয়ে হাজির হয়েছিল পূণ্যময় এ মাস।
মুসলিম সমাজের শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, প্রতিদিন একই নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ে নামাজে তারাবিহ, সেহেরি, ইফতার, কোরআন তেলাওয়াত, সাধ্যমতো দান-খয়ারাত, জাকাত-ফিতরা আদায়সহ অসংখ্য পূণ্যকর্মের সমাহার নিয়ে হাজির হয়েছিল এ মাস। তাই এ মাসের বিদায়লগ্নে মুমিন মুসলমানের হৃদয়ে বিষাদের ছায়া বিরাজ করছে। তাদের হৃদয়ে বিদায়ের করুণ সুর বেজে উঠছে।
আল্লাহর রহমত বর্ষণে সিক্ত করতে এসেছিল রমজান। কু-রিপুর তাড়নায় গুণাহে লিপ্ত বান্দার পাপ আল্লাহর রহমতের পানিতে ধুয়ে মুছে পাক-পবিত্র নিষ্পাপ করার জন্য এসেছিল এ মাস। মুসলমানদের ঈমান-আকিদার মূলে শান দিয়ে পরিপক্ষ-পরিপূর্ণ ও খাঁটি ঈমানদাররূপে গড়ার পরশ পাথর হয়ে এসেছিল এ মাস। কালের পরিক্রমায় বিদায় নিচ্ছে রমজানুল মোবারক।
ওহে নামাজে তারাবিহ এর মাস- তোমাকে বিদায়। ওহে বরকতের মাস, রহমত, মাগফিরাত-নাজাতের সুসংবাদবাহী মাস- তোমাকে বিদায়। ওহে সেহেরি, ইফতার, তাহাজ্জুদ, দরূদ, সালাম, তেলাওয়াত, সাদকা দানের মাস, আল্লাহর পবিত্র মেহমান- তোমাকে বিদায়, আস্সালাম।
এ পবিত্র রমজান সময়ানুবর্তিতা ও শৃংখলার শিক্ষা দিয়েছে। পৃথিবীর সব মুসলমান নর-নারী সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করে। একই সময়ে ইফতার গ্রহণ করে। একে অন্যকে ইফতার করানোর মধ্যে ঘোষিত সওয়াবের ফলে প্রতিবেশি, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে পরস্পরের ইফতারির আদান-প্রদানের চিরায়ত সংস্কৃতি প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে করেছে সুদৃঢ়। পরস্পর উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে সামাজিক স¤প্রীতি ও ঘনিষ্টতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ঐক্য ও সংহতি দৃঢ় হয়।
মাসব্যাপী সংযম-সাধনার মাধ্যমে অর্জিত শিক্ষা জীবনের বাকী ১১ মাস রোজাদারের জীবনে তার কাজকর্মের ভিতর যদি প্রতিফলিত হয়, তবেই সিয়াম-সাধনা সার্থক হবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের অর্জিত গুণাবলী ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে কল্যাণ ও শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার তৌফিক দিন। আমিন।