চাহিদার অতিরিক্ত আমদানি, পর্যাপ্ত মজুদ

রমজানে ভোগ্যপণ্যের দামবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই

রতন কান্তি দেবাশীষ

47

রমজানকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত। এছাড়া চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করা হয়েছে। ফলে এবার ভোগ্যপরেণ্যর দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। একই সাথে কৃত্রিম সংকট নিয়ে কঠোর নজরদারিতে থাকবে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।
জানা গেছে, রমজানকে ঘিরে ছোলা, চিনি, ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কোন কোন পণ্যের চাহিদা দ্বিগুণও বেড়ে যায়। এসব পণ্যের আমদানি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ফলে কোন পণ্যেরই ঘাটতি নেই।
সূত্র জানায়, রমজানে দেশে দৈনিক ১৫ থেকে ১৬ হাজার টন চিনির চাহিদা আছে। দৈনিক ভোজ্যতেল লাগে ৯ থেকে ১০ হাজার টন এবং পুরো রমজান মাসে ছোলার চাহিদা প্রায় ২ লাখ টন। এক তথ্যে দেখা যায়, চাহিদার চাইতেও বেশি পরিমাণ ভোগ্য পণ্য আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই এসব পণ্য আমদানি করা হয়েছে। এছাড়াও পণ্য বোঝাই অনেক জাহাজ বহির্নোঙরে ভাসমান রয়েছে।
তথ্য মতে, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সুপার, সয়াবিন এবং পাম তেল মিলিয়ে ভোজ্যতেল এসেছে ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৫ টন। একই সময়ে চিনি আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ৫ হাজার ১৪ টন। খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৭১৩ টন। ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৫৪ টন। ছোলার পরিবর্তে ব্যবহারযোগ্য মটর ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৩ হাজার টন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে এ বছর খাতুনগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছোলা, মশুর ডাল, মটর, খেসারি ডাল, চনার ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম পাইকারি বাজারে সহনীয় পর্যায়ে আছে। বাজারে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানিকৃত ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকায়। প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০ টাকায়। এছাড়া মটর ২৯ টাকা, চিনি ৫১ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান মশুর ডাল ৫০ টাকা, ও দেশীয় মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮২ টাকায়।
অন্যদিকে খেসারি ডাল ৭২ টাকা, চিড়া ৩৫ টাকা, সয়াবিন তেল ৭৫ টাকা, পাম তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা টাকায়। এশিয়ার দেশ ইরাক ও আফ্রিকার আলজেরিয়া ও তিউনিশয়া থেকে আমদানিকৃত খেজুর বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে কার্টন প্রতি ৯৫০ থেকে ১২০০ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রমজানে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হয়েছিল কেজি প্রতি ৭৫-৭৬ টাকায়। এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। শুধু ছোলা নয়, ডাল, মটরের দামও গত বারের তুলনায় নিম্নমুখী। এখন যেহেতু রমজান সন্নিকটে তাই পাইকারিতে আপাতত দাম বাড়বে না- এমন বলা যায়। আমদানি ব্যাপকভাবে বাড়ায় দাম নিম্নমুখি বলে তারা জানান।
ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক ও খাতুনগঞ্জ ট্রেড এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, বিশ্ববাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও কমছে। দাম কম হওয়ায় আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। গতবারের তুলনায় এবার আমদানি অনেক বেড়েছে। ফলে কোন পণ্যের দামই বাড়ার আশঙ্কা নাই।
সূত্র জানায়, দাম কমে যাওয়ায় এবার বড় বড় ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন। এসব পণ্য গুদামে মজুদ রয়েছে।
আমদানিকারকরা জানান, রমজানের আগে যাতে পণ্য এসে পৌঁছায় এজন্য চার-পাঁচ মাস আগে থেকে এলসি খোলা শুরু করেন। তাদের এলসি’র বিপরীতে ভোগ্যপণ্য মার্চ মাস থেকে বন্দরে আসা শুরু হয়। অনেক পণ্য এরি মধ্যে খালাস করা হয়েছে। কিছু জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি ও পণ্য আমদানিকারক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এবার চাহিদার চাইতেও বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয়েছে। রমজানে চাহিদা পূরণ করে অরো পণ্য গুদামে থাকবে। কোন পণ্যেরই দাম বাড়ার আশঙ্কা নাই। উল্টো লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি থাকবে জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালিত হবে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ সময় কয়েকটি টিম গঠন করা হবে।