রবীন্দ্রসঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্যামলী পাল

রুবেল দাশ প্রিন্স

26

শুরুটা মাত্র ৬ বছর বয়সে। ওই টুকুন বয়সে তিনি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নজরুলসঙ্গীত বিভাগে শিশুশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। মায়ের হাত ধরে সঙ্গীতজীবনে অনুপ্রবেশ। তবে গানের অ-আ-ক-খ মিনতি রক্ষিতের হাত ধরে। মা গৌরী পাল ও বাবা বাদল পালের দুই সন্তানের মধ্যে শ্যামলী ছোট। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা এই শিল্পী সঙ্গীত চর্চা করছেন দীর্ঘ দই দশকেরও বেশি সময় ধরে। দীর্ঘদিন রবীন্দ্রসঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ মিহির নন্দীর কাছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্র আনন্দধ্বনির তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী।
এছাড়ও শিখেছেন জয়ন্তী লালা, মিলন কান্তি মজুমদার, শান্তিময় চক্রবর্তী, অরুণ দাশ, সুব্রত দাশ অনুজ-এর কাছে। তিনি ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত দ্রুপদ ওয়ার্কশপে পন্ডিত নিরমাল্য দে’র কাছে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
সঙ্গীতজীবনে পুরস্কারের ঝুলি তার বেশ বড়। প্রথম প্রাপ্তিও ঘটে সেই শৈশবে। জাতীয় শিশু প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রসঙ্গীতে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। এরপর সার্ক শিশুবর্ষ-৯৭ উপলক্ষে শিশু একাডেমি আয়োজিত প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রসঙ্গীতে প্রথম এবং ধ্রুব পরিষদ আয়োজিত সঙ্গীত পরীক্ষায় মুকল উপাধিতে ভূষিত হন।
তারুণ্য পেরোলে তার কৃতিত্ব আরও বড় পরিসরে দেখা দেয়। জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ আয়োজিত সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় ২০০১ সালে ও ২০০৩ সালে চূড়ান্ত পর্যায়ে দুই বারই প্রথম স্থান অর্জন করেন। ধ্রুব পরিষদ বাংলাদেশ আয়োজিত রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করেন। সম্প্রতি তিনি মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের ‘রাঙাসকাল’ অনুষ্ঠানে গান করে সুধীমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়া দেশাত্ববোধক, নজরুল সঙ্গীত, শ্যামা সঙ্গীতেও তিনি পারদর্শী।
শ্যামলী পাল বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ শ্রেনির ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। তার সংগঠনিক দক্ষতাও রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক; রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ ও চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষক। চট্টগ্রাম শহরের হোসেন আহম্মদ চৌধুরী সিটি করপোরেশন স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক। পারিবারিক জীবনে খুব সুখী শ্যামলী পাল। তার স্বামী নিশান কুমার সেন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক জিনস-এর ম্যানেজার। দুই সন্তান স্বপ্নীল ও স্নেহা। শাশুড়ি স্বপ্না সেন একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রামে রবীন্দ্রসঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্যামলী পাল জানালেন ‘আমি বলতে গেলে রবীন্দ্রসঙ্গীতেই নিজেকে সমর্পন করেছি। শুদ্ধ সুর-লয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে আমি অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই।’
আজকের অবস্থানে আসার পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে সোজা উত্তর দিলেন আমার ওস্তাদ মিহির নন্দী। শুদ্ধভাবে গান পরিবেশনের বিষয়টি গুরুজীর কাছ থেকে রপ্ত করতে পেরেছি বলেই আজকে এতটুকু আসতে পেরেছি। আর আমার মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি ও স্বামী যদি সহযোগিতা না করতেন তাহলে গানের মত এমন সাধনার বিষয়টি এতদূর নিয়ে আসা হয়তো সম্ভব হতো না।