রবিন্দ্রনাথ

15

আমার চোখে জমতে থাকে
আবুল কালাম বেলাল

দেয়ার ডাকে কেয়া জাগে ঝুমুর নাচে বিষ্টি
মরা গাঙে জোয়ার আসে খেয়া পাকায় দৃষ্টি
কলকলিয়ে পুকুর হাসে
মাঠের ঘাসে ঝলক আসে
স্বচ্ছতোয়া কলাপাতা দেখতে ভারী মিষ্টি
খুশির আলোয় সুর হয়ে যায় ব্যাঙের মুখের শিস্টি।

হাশেম খানের ছবির মতন ঝকঝকে প্রকৃতি-
উস্কে দিলো মনকে দারুণ সেলফি তোলে স্মৃতি।
টিনের চালে কোমল-নুড়ি
ফোটায় খইয়ের নাচন-কুঁড়ি
‘বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ গান ধরে কে? প্রীতি?
বিষ্টি ঢোকায় মন-জানালায় বাঙালি সংস্কৃতি।

সেই না বিষ্টি যখন ঝরায় উপচে পড়া পান্না
আওয়াজ ওঠে- ‘ঢের হয়েছে, আর না আর না আন না’।
মাঠ ডুবে যায় ঘর ডুবে যায়
জীবন ভাসে ছোট্ট খেয়ায়
অধিক স্নেহে নষ্ট খোকার জ্বালায় মা সুখ পান না
আমার চোখে জমতে থাকে বিষ্টি মেয়ের কান্না।

বুকে পুষে রাখলাম
জসীম মেহবুব

রবি ঠাকুরের গানে মজে আমি ভেসেছি গানের ভেলায়
আবার কখনো ছুটেছি কবির ছড়া-কবিতার খেলায় ।
কখনো নানান ছবিও এঁকেছি কতশত আঁকিবুঁকি
মা বলেছে,‘তুই কী হবিরে খোকা এত করে বুজরুকি ?’

‘আমি যে কী হবো নিজেই জানি না কত কিছু হতে চাই,
কবি রবি দাদু কত কি করেছে তুলনা কোথাও নাই।’
বাবা বলে,‘শোন মন দিয়ে পড় তবে তো মানুষ হবি ?’
আমি ভেবে চলি সব কিছু হবো যেমন হয়েছে রবি।

তাই তিনি কবি রবীন্দ্রনাথ এত যাঁর যশ-নাম,
আমিও তেমনি হওয়ার স্বপ্ন বুকে পুষে রাখলাম ।

বাইশে শ্রাবণ
গোফরান উদ্দীন টিটু

বাইশে শ্রাবণ আলোর প্লাবন
হয়নি তো স্তব্ধ
ক্ষণকালের বিরতিতে
সকাল কি নিস্তব্ধ ?

কোন প্রভাতে নেই সে কবি
সেই সে রবীন্দ্রনাথ?
চিরদিনের সূর্য তিনি
প্রাণের জলপ্রপাত।

রবি
সৈয়দা সেলিমা আক্তার

জোড়াসাঁকোর একটি ছেলে
নামটা ছিল রবি
ছড়া গল্প গান কবিতায়
হলেন বিশ্বকবি।

রবির গানে প্রাণে প্রাণে
দুঃখ ভোলার দিশা
আলোর বিভায় যেমনি হারায়
আধার অমানিশা।

তিনি তো
বাসুদেব খাস্তগীর

রবির কিরণ শাখায় শাখায়
ছড়িয়েছে কতো আলো
সেই আলোতেই ডুব দিলে নেভে
মনেরও যতো কালো।

কদম ফুলের সুবাসিত ঘ্রাণে
বাদল মুখর দিনে
রবি এসে কাছে স্নিগ্ধ মায়ায়
আমাদের বাঁধে ঋণে।

অশ্রু হয়েই ঝরে ঝরো ঝর
শাওনের যেনো ধারা
বাইশে শ্রাবণে তিনিই হলেন
দূর গগনের তারা।

রবি ঠাকুরের মর্ম বাণীতে
পথ খুঁজি সংকটে
অকুল সাগরে আশার ভেলায়
তিনি তো মানসপটে।

ঈদ আনন্দের
আনোয়ার আল ফারুক

জিলহজ্ব-চাঁদ উঁকি দিলো
নামলো খুশির ঢল
উঠোন জুড়ে নাচছে ভীষণ
খোকা খুকুর দল।

ঈদ এসেছে ঈদ এসেছে
গাইছে সবাই গান
শহর নগর গাঁও গেরামে
বইছে খুশির বান।

কাঁধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে
করছে কোলাহল
গোস্ত পোলাও খাচ্ছে সবাই
সঙ্গে মজার ফল।

ভুললো সবাই দুখ-বেদনা
মনের মহাজন খোশ
সারা বছর থাকুক এমন
ঈদ আনন্দ-জোশ।