চসিকের ১২৩০ কোটি টাকার প্রকল্প

যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগুবে চট্টগ্রাম

31

মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের সময়কালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় একটি প্রকল্প এবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হল। বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কর্তৃক প্রস্তাবিত ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প কোনরকম কাটচাট ছাড়াই পাস করা হয়। পাসকৃত প্রকল্পের অর্থ নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় করা হবে। একনেকে অনুমোদিত এ প্রকল্প সঠিকভাবে এবং যথাসময়ে বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম নগরী যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনই হবে না শুধু; আমরা মনে করি, চট্টগ্রামে অব্যাহত উন্নয়নের ধারা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সড়কগুলো নতুন আঙ্গিকে সাজানো যাবে। মূলত মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সুবিন্যস্ত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নগরীকে যানজট মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রথম থেকেই। এজন্য বিভিন্ন সময় প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও নানা জটিলতায় তা একনেকের সভা পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি। সর্বশেষ যানজট নিরসন, শহরের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপর্ণ সড়কের কাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষে এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এবং তা একনেকের সভায় এজেন্ডাভূক্ত করার উদ্যোগ নেন মেয়র নিজেই। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অসংখ্য বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে। এসব যানবাহনের জন্য কোন টার্মিনাল না থাকায় নগরে যানজট লেগে থেকে। আশা করা হচ্ছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে যানজটের সমস্যা অনেকটা হ্রাস পাবে। প্রকল্প পাস হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন নিজেই বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মিত হলে নগরে আর যানজট থাকবে না । উল্লেখ্য যে, একনেকে পাসকৃত প্রকল্পে সংস্থা থেকে ২০ শতাংশ হারে যে ম্যাচিং ফান্ড দিতে হয়, তাও আর চসিককে দিতে হবে না। জানা যায়, মেয়র চসিকের সক্ষমতা, সামর্থের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বুঝাতে সক্ষম হওয়ায় এ প্রকল্পের অধীনে ২০ শতাংশ যে ম্যাচিং ফান্ড ছিলো, সেগুলো সরকারি তহবিল থেকে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই। এর ফলে চসিক প্রকল্প বাস্তবায়নে দুঃশ্চিন্তামুক্ত থেকে কাজ করতে পারবে। তবে চসিকের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তির পাশাপাশি চসিক মেয়র এবং স্বয়ং চসিকের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং সুযোগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য যে, প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২২৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০১৮ থেকে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় ৩৩২ দশমিক ০৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রাস্তার উন্নয়নকাজ করা হবে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫৪ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রকল্পে ১৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকায় অ্যাপ্রোচ রোড উন্নয়নসহ ৩৭টি ব্রিজ নির্মাণ এবং নগরের বায়েজিদের অক্সিজেন এলাকার কুলগাঁও ও বন্দরের টোল প্লাজা এলাকায় বাস-ট্রাক টার্মিনালের জন্য সাড়ে ৭ কোটি টাকায় ৩ হাজার বর্গমিটার অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। সাড়ে ১৬ কোটি টাকা টাকায় ২১৫ মিটার কালভার্ট নির্মাণ, ২৫ কোটি টাকায় ২৫ হাজার বর্গমিটারের ইয়ার্ড নির্মাণ এবং ৮ দশমিক ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। ভূমি ক্রয়ে ব্যয় হবে ২৬০ কোটি টাকা এবং ৩২ হাজার ৮০১ বর্গমিটার ভূমি উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। ফিজিক্যাল ও প্রাইস কন্টিনজেন্সিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি টাকা।