যেখানে নদী এসে থেমে গেছে…

আসাদুল হক

19

‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে/যেখানে নদী এসে থেমে গেছে’ এই গানটাই সত্য প্রমাণিত হয়ে গেলো ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষাসফরে। লুসাই পাহাড় থেকে বয়ে আসা কর্ণফুলী নদী এসে থেমেছে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে তৈরি করা বাঁধে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে কাপ্তাই হ্রদের। হ্রদবিধৌত রাঙামাটি শহর ঘুরে এলো ইডিইউর অর্থনীতি পরিবার। যেন সত্যি সত্যিই তারা ঘুরে এলো ‘যেখানে নদী এসে থেমে গেছে’, সেখান থেকেই।
ক্লাস পরীক্ষা নিয়ে বছরজুড়ে ব্যস্ততা। সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নিত্য জীবনযাপনের ব্যস্ততা, যা দিনে দিনে একঘেয়েমিতে পরিণত হয়। এর থেকে মুক্তির পেতে আনন্দময় একটি দিনের জন্য অনেকদিন থেকেই যেন অপেক্ষা সবার।
পাহাড় ও নদীঘেরা রাঙামাটির মনোরম পরিবেশে তেমনি একটি দিন কাটালো চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় ঘেরা ক্যাম্পাসে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৮টায় নগরীর প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয় আনন্দঘন এই দিনটির।
কেউ কেউ বাসে মেতে ছিলো গানে, কেউ জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্যের ছবি তোলায়, কেউ আড্ডায়, কেউবা বন্ধুত্বপূর্ণ ঝগড়ায়। আর সবাই’ই যেখানে সমানভাবে অংশ নেয়, তা ছিলো সেলফি। কেউ ক্যামেরা তাক করলেই সেখানে আশপাশের সবাই মুখ ঢুকিয়ে কানায় কানায় ভরিয়ে তুলছিলো ফ্রেম।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন বিবিএ ডিপার্টমেন্টের সহকারী অধ্যাপক তাবাসসুম চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক ও প্রক্টর অনন্যা নন্দী এবং প্রভাষক তাসমিম চৌধুরী বহ্নি।
ফ্যাকাল্টিদের ক্লাসের বাইরে কাছে পেয়ে দুষ্টুমিতে মেতে ওঠেন আগামী দিনের অর্থনীতিবিদরা। পুরো পিকনিক সফল করতে দায়িত্বের বোঝা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আসাদুল হক, রক্তিম বড়–য়া, তানজিনা তাবাসসুম, শোভা, হাবিব, আনিকা, সমুইয়া ও অনন্যা।
শিক্ষার্থীরা প্রথমে রাঙামাটি শহরে পৌঁছে হ্রদঘেরা মনোরম পরিবেশে অবস্থিত ডিসি বাংলো পিকনিক স্পটে গিয়ে ওঠে। সবাই সেসময় ডিসি বাংলোর প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্ত বিহঙ্গের মতো মেতে ওঠে আড্ডায়, সেলফিতে।
ডিসি বাংলো থেকে শান্ত ধারায় বয়ে চলা হ্রদের সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করতে সবাই উঠে পড়ে নৌকায়। শুরু হয় নৌভ্রমণ। নদীর ঢেউয়ের সাথে সাথে তারুণ্যের জোয়ারে একটু পর পর দুলে উঠছিলো মনপ্রাণ। প্রায় এক ঘণ্টার নৌভ্রমণ শেষে আবার সবাই ফিরে আসে ডিসি বাংলোয়। সেখানে দুপুরের খাবার সেরে কেউ একটু গা এলিয়ে বিশ্রামের সুযোগ খুঁজতে লাগলো, আর কেউ কেউ দল বেঁধে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগলো।
বিকেলে শুরু হলো খেলা। বালিশ খেলা, বেলুন ফোলানো এবং বেলুন ফোটানোর খেলায় মেতে ওঠে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। খেলায় পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- শোভা, রিমাদ, অনন্যা, ওয়াকাস ও রাসেল। ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে পুরস্কার পান তাবাসসুম চৌধুরী।
এরপর ফেরার পালা। অবশ্য পথে রাঙামাটি ক্যান্টনমেন্টে অবস্থিত আরণ্যক হলিডে রিসোর্টে নামলো সবাই। শেষ বিকেলের আলোয় পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ শেষে ফেরার বাসে উঠে বসে সবাই। কান্ত শরীরেও সকালের চেয়ে দ্বিগুণ মজা ছিলো শিক্ষার্থীদের মাঝে।
ফেরার সময় শিক্ষার্থীরা প্রভাষক তাসমিম চৌধুরী বহ্নির কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারাদিনের সমস্ত আয়োজন আমি খুব উপভোগ করেছি। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগ যে একটি পরিবার, তা আজকের এই আয়োজনে আবারো প্রমাণিত হলো। আমাদের শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে সফল করতে অনেক পরিশ্রম করেছে। তাদের ধন্যবাদ।’
শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সঙ্গীত পরিবেশন করেন সহকারী অধ্যাপক তাবাসসুম চৌধুরী ও প্রক্টর অনন্যা নন্দী।