যানবাহনকে নিয়মে আনতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান কার্যকর করা জরুরি

16

গণপরিবহনে অনিয়ম-দুর্নীতি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় বিআরটিএ যানবাহনকে নিয়মের আওতায় আনতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়ে ওঠেনি। দেশের সড়ক-মহাসড়ক সমূহে অসংখ্য ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে। তা ছাড়া বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়াও অসংখ্য গাড়ি চলছে। লাইসেন্স, রোড পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া বহু গাড়ি প্রতিদিন চলাচল করে।
একদিকে লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলাচল করার কারণে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। দেশের জন্য সড়ক দুর্ঘটনা একটি আতঙ্কের নাম। দেশের সড়ক সমূহে সম্ভাবনাময় বহু প্রাণ ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট বহু ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। গাড়ির শ্রমিক সংগঠনগুলো নানা অসাধু উপায়ে সমগ্র দেশের ট্রাফিক সিস্টেমকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত নিয়ে গেছে। ফলে সড়ক পরিবহন সেক্টর একটি ভয়াবহ দুর্নীতির আওতায় আটকে আছে। এ অবস্থা থেকে গণপরিবহন সেক্টেরকে রক্ষায় বিআরটিএ, সিএমপিসহ সংশ্লিষ্টরা একটি কার্যকর অভিযানের মাধ্যমে দেশের গণপরিবহনকে নিয়মের আওতায় আনতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তার প্রতি যাত্রী সাধারণ ঐক্যমত পোষণ করে।
দেশের সড়ক পরিবহন যেমনখুশি তেমন নিয়েমে চলছে। এ অবস্থা ছাড়াও এসেক্টরে বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে। গণপরিবহণের কাগজপত্র নবায়নের কোন তোয়াক্কা ছাড়াই অধিকাংশ গাড়ি সড়কে চলছে। আবার বহু গাড়ি বিআরটি এর ধারে কাছে না গিয়ে পুলিশ ও ট্রাফিকদের চাঁদাদিয়ে তাদের অবৈধ ব্যবসা করে যাচ্ছে। দেশে সিএনজি অটোরিক্সার সংখ্যা কত তা সরকারের কাছে কোন হিসেব নেই। কেননা সিএনজি অটোরিক্সা নগর থেকে গ্রামাঞ্চল ছড়িয়ে আছে। গ্রামের প্রায় সব গাড়ির নম্বর প্লেইট নেই। বিআরটিএর কোন অনুমোদন যেমন গ্রামীণ সিএনজি অটোরিক্সার নেই, তেমনি ড্রাইভারদেরও কোন লাইসেন্স নেই। সড়কে প্রতিনিয়ত সিএনজি অটোরিক্সা সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাড়িয়েছ। এর কারণ হলো অদক্ষ ড্রাইভাররা লাইসেন্স ছাড়াই পুলিশের টোকেন দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ টোকেন দেয়া বন্ধ করলেও কাগজপত্রহীন সিএনজি অটোরিক্সা ও লাইসেন্স বিহীন গাড়ি এখানো সড়কে চলছে।
জ্বালানি নিতে সবধরনের গাড়ি পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ধরনা দেয়। পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে যথাযথ তদারকি কার্যক্রম চালালে অবশ্যই দেশের সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়িও বিআরটিএর অনুমোদনহীন গাড়ি আর চলতে পারবেনা। পেট্রোল ও গ্যাস ফিলিং স্টেশনগুলোকে কড়া নিরাপত্তা ও তদারকি করা এক্ষেত্রে খুবই জরুরী।
সরকার দেশের পরিবহন সেক্টরকে ট্রাফিকও দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় আনতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে গণপরিবহনের নৈরাজ্য থেকে যাত্রী সাধারণকে রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করবে-এমন বিশ্বাস সমগ্র দেশবাসীর।