মোদির আশ্বাসে অনাস্থা বিক্ষোভ অব্যাহত

15

ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলছেই। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি করেছেন, মুসলিমদের লক্ষ্য করে এই আইন বানানো হয়নি। তারপরও আন্দোলন থামছে না। আসামে প্রথম এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই অন্তত ২৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার ব্যাঙ্গালুরু ও কোচিসহ সারাদেশে বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী। ধরপাকড়ের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সেনা কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ। সোমবার কংগ্রেস দিল্লিতে এই আইনের প্রতিবাদে মৌন মিছিল করে। এর নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী।
দলের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী তরুণদের মহাত্মা গান্ধীর ভাস্কর্য স্থান রাজ ঘাটে এক হওয়ার আহ্বান জানান। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘শুধু মনে ভারতীয় অনুভব করলেই হবে না। এই মুহূর্তে আপনার দেখাতে হবে যে আপনি ভারতীয় এবং আপনি কোনও বিদ্বেষে ধ্বংস হবেন না।’ আল-জাজিরার দিল্লি প্রতিনিধি জানান, কংগ্রেসসহ অন্যান্য সংগঠন সুপ্রিম কোর্টে এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০টি পিটিশন দাখিল করেছে। আবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যেন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে জবাব দেয়। ভারতে প্রায় ২০ কোটি মুসলিম রয়েছেন যা মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে আইন সংশোধন করে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার রাজধানী দিল্লিতে এক সমাবেশের আয়োজন করে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এতে অংশ নেয় কয়েক হাজার বিজেপি সমর্থক। এই সমাবেশেই নতুন নাগরিকত্ব আইন মুসলিমবিদ্বেষী নয় বলে দাবি করেন মোদি।
অন্যদিকে উত্তর প্রদেশে আয়োজিত সমাবেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা নতুন আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে তাদের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। উত্তর প্রদেশে ২০ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। এর ২০ শতাংশই মুসলিম। আইন সংশোধনের পর থেকেই এই অঞ্চল উত্তাল হয়ে ওঠে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভে এখানে মৃতের সংখ্যা ১৭ জন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ শিশুসহ বিক্ষোভকারদের ওপর লাঠিচার্জ করছে। কারও কারও বাড়িতেও অভিযান চালাচ্ছে।
চলতি বছরের ৩১ আগস্ট অনলাইন ও এনআরসি সেবাকেন্দ্রে প্রকাশিত হয় আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি)। এ থেকে বাদ পড়েছেন রাজ্যের প্রায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জন মানুষ। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে বাহরাগোড়ায় এক জনসভায় দেওয়া ভাষণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে চাই, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেই এনআরসি সারা দেশে প্রয়োগ করা হবে। প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে এই দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।’ তবে রবিবার দিল্লিতে এক নির্বাচনি মিছিলে মোদি বলেন, যে মুসলিমরা আমাদের ভারতের সন্তান, যাদের পূর্বপুরুষরা ভারতীয়, তাদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই।