মোটর সাইকেলে ঘুরে বেড়ানো ৩ চোর গ্রেপ্তার

10

তারা মোটর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ পেলে কোন ভবনে ঢুকে বাসা ভাড়া নেওয়া কিংবা পরিচিত কোন ব্যক্তির খোঁজ নেওয়ার কথা বলে। আর তালাবদ্ধ ঘর পেলেই করে চুরি। নগরীর পুরাতন গীর্জা এলাকা থেকে গত শুক্রবার রাতে এমন একটি চক্রের তিন জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- নাইমুল হক (৩২), মো. ফারুক (৩৫) ও আবুল বশর (২৮)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার
করা হয় চুরি করা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার। পুলিশের ভাষ্য, একটি বাসায় চুরি করতে তাদের সময় লাগে মাত্র ১০ মিনিট। খবর বিডিনিউজের
কোতোয়ায়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর জেল রোড এলাকার আলম ম্যানসন নামে একটি ভবনের তৃতীয় ও ষষ্ঠ তলার দুটি বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। বাসা দুটি থেকে চোরের দল বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে নেমে এ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদের বাসায় চুরি হয়েছে তারা স্বর্ণালঙ্কারগুলো শনাক্ত করেছে।
গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি মহসিন বলেন, নাইমুল তাদের দলপতি। চট্টগ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় তারা চুরি করে থাকেন। একটি বাসায় চুরি করতে তাদের সময় লাগে ১০ মিনিটের মতো। তারা জানিয়েছে, মোটর সাইকেল নিয়ে তারা ঘুরে বেড়ায়। বাসা ভাড়া কিংবা কোনো ব্যক্তিকে খোঁজার কথা বলে ভবনে প্রবেশ করে। তখন যে বাসাটি তালাবদ্ধ দেখলে সে বাসার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। নাইমুল ভেতরে ঢুকে চুরি করার সময় ফারুক দরজার বাইরে এবং বাশার ভবনের নিচে পাহারায় থাকতেন।
নাইমুল পুলিশকে জানান, নগরীর একটি বেসরকারি কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেছে। ২০১৬ সালে সাতকানিয়ার খাগড়িয়ার আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে সে চুরি বিদ্যা আয়ত্ত করেন তিনি। গত বছরের শেষ দিকে ফেনীতে চুরি করার সময় গ্রেপ্তার হয়ে সাত মাস কারাগারে ছিলেন নাইমুল। ফারুক চন্দনাইশে চা দোকান চালাতেন আর বশর করতেন মাটি কাটার কাজ।
তারা বলছেন, আইপিএলের জুয়া খেলে তারা অনেক টাকা লোকসান করেন। তা নাইমুল জানার পর বেশি টাকা জোগাড়ের লোভ দেখিয়ে তাদের দলে ভেড়ানো হয়।