মোচা ম্যাজিক

12

হিমোগ্লোবিন কম? রক্তের দোষে ভুগছেন? সুগার চড়ছে? একের পর এক রোগ বাঁধিয়ে বসছেন? নিয়মিত মোচা খান। ভিটামিন, আয়রন, মিনারেলস ভরপুর মোচা। শরীরে রক্তের পরিমাণ ঠিক থাকলে এবং রক্ত পরিষ্কার থাকলে শরীর থাকবে সুস্থ ও নীরোগ। কিন্তু শরীরে যদি রক্তের অভাব দেখা দেয়? বা শরীরের রক্ত পরিষ্কার রাখার উপায় কী? কী সেই ঘরোয়া টোটকা?
সারা বছর বাজারে পাওয়া যায়। হাতের নাগালে এমন ঘরোয়া টোটকার কোনও বিকল্প নেই। কলার মোচা। আয়রনে ভরপুর। রক্তের মূল উপাদান হিমোগ্লোবিন। এই উপাদানকে শক্তিশালী করে মোচা। দেখতে সুন্দর, স্বাদেও অতুলনীয়। মোচার ঘণ্ট, ভর্তা, মোচার কোফতা, মোচার চপ। জিভে জল আনবেই।
মোচার ম্যাজিক : প্রতি ১০০ গ্রাম মোচায় রয়েছে ১.৭ গ্রাম প্রোটিন, ৩২ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৫.১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৩২ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১.৬ মিলিগ্রাম লোহা, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট, ১৮৫ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ০.২ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেবিন, ৪২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ১.৩ গ্রাম আঁশ, ০.৫ মিলিগ্রাম থায়ামিন।
একাধিক রোগ প্রতিরোধে মোচা তুলনাহীন : ইনফেকশন কমায়। মৌসুম বদলের সময় মোচা খেলে যে কোনও সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
নিয়মিত মোচা খেলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস।, মোচার ফাইবার ও আয়রন রক্তাল্পতা কমাতে ও রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।, প্রচুর সলিউবল ও ইনসলিউবল ফাইবার থাকায় মোচা হজম ক্ষমতা বাড়ায়। ওজন কমায়। এক্ষেত্রে মোচার স্যালাড ও স্যুপ খাওয়া যেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।, গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন মোচা খেলে স্তনদুগ্ধের পরিমাণ বাড়ে।, মোচার ম্যাগনেসিয়াম অবসাদ, উত্কণ্ঠা কাটাতে সাহায্য করে।, নিয়মিত মোচা খেলে রক্তে ফ্রি র্যা ডিক্যালের সমস্যা কমে। চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া রুখে দেয়। মোচা খেলে অ্যালঝাইমার্স ও পারকিনসন্সের ঝুঁকি কমে।, হলুদ, গোলমরিচ গুঁড়ো ও জিরে দিয়ে মোচা সেদ্ধ করে খেলে জরায়ু সুস্থ রাখে।, মোচায় রয়েছে প্রচুর ট্যানিন, ফ্ল্যাভনয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই মোচা খেলে হার্ট থাকে সুস্থ। সূত্র : ইন্টারনেট

তারুণ্য ধরে রাখে কাঁকরোল

কাঁটা কাঁটা সবুজ রঙ্গের একটি সবজি কাঁকরোল। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, জেনান্থিন প্রভৃতি থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে। তবে আর দেরি না করে চলুন জেনে নেই কাঁকরোলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।
তারুণ্য ধরে রাখে : কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এটি।
অ্যানেমিয়া প্রতিহত করে : কাঁকরোলে প্রচুর আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড ও থাকে। এ কারণে নিয়মিত এটি খেলে অ্যানেমিয়ার প্রতিহত করা সম্ভব হয়।
বিষণœতা প্রতিহত করে : কাঁকরোলে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তাই বিষণœতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে কাঁকরোল।
কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করে : যেহেতু কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় : যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের রয়েছে তাদের নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় : কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে : সা¤প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্যই কাঁকরোলকে ‘স্বর্গীয় ফল’ আখ্যা দেয়া হয়। সূত্র : ইন্টারনেট