মেয়রের আশ্বাসে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

7

মেয়রের আশ্বাসে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান আন্দোলনরত সংগঠন চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহব্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে এ ধর্মঘট বেআইনি ও অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধর্মঘটের প্রভাবে ভোগান্তির শিকার হন দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রীরা। এমনকি এ সুযোগে ছোট গাড়িগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে বলে অভিযোগ উঠে। বিকেল ৪টার দিকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদের আহব্বায়ক মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমাদের দাবিগুলো পূরণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। তার আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’
এর আগে ধর্মঘটের ফলে গতকাল দূরপাল্লার যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। সরেজমিন অক্সিজেন মোড়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি এবং রাঙামাটির বাস চলাচল বন্ধ ছিল। অন্যান্য দিনে যে ভিড় এবং যানজটের দেখা মিলতো গতকাল তা ছিলো ব্যতিক্রম।
শারমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূ জানান, আমার খালা অসুস্থ- এ খবর পেয়েও আমি খাগড়াছড়ি যেতে পারছি না। শুধু শুধু ধর্মঘট ডেকে আমাদের বিপদে ফেলেছে পরিবহন মালিকরা।
দুপুর ১২টার দিকে রাঙামাটিগামী মাসুদ জানান, ভাই তিনঘণ্টা ধরে গাড়ির অপেক্ষা করছি। এখনও কোন গাড়ি যাবে বলছে না। জানি না কোন দুঃখে পড়লাম।
শাহ আমানত ব্রিজ এলাকায় গিয়েও শত শত যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আবার দুপুরের পর কয়েকটি লোকাল গাড়ি ছাড়তে দেখা গেছে। তবে বান্দরবান এবং কক্সবাজারগামী গাড়ি বন্ধ ছিল। তবে পটিয়ার উদ্দেশে কিছু লেগুনা চলতে দেখা গেছে। এতে প্রত্যেক যাত্রী থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাস সার্ভিস বন্ধ থাকাতে লেগুনাতে প্রতিজন ৫০ টাকা করে নিচ্ছে। চালকের কাছে জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলে, নতুন ব্রিজের এপার থেকে যাত্রী তুললে ট্রাফিক পরিদর্শক প্রতি গাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে নিচ্ছে। তাই আমরা উপায় না দেখে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নিচ্ছি।
লেগুনা চালক ছায়েদ বলেন, এখানে আমরা পদে পদে টাকা দিচ্ছি বলেই আমরাও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছি। কোথায় টাকা দেন, প্রশ্ন করলে প্রতিবেদকের সামনে থেকে গাড়ি চালিয়ে সামনে চলে যান।
পরে বাকলিয়া থানার (নতুন ব্রিজ) ট্রাফিক পরিদর্শকের মোবাইলে দুইবার কল দেওয়া হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর ছাড়া বাকি নয় জেলায় এই ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু হয়। ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে গেছে গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। নয় দফা দাবি মেনে নিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে এই সময়সীমা বেধে দিয়েছিল সংগঠনটি।
কিন্তু চট্টগ্রাম নগরী ও জেলাসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে সকাল থেকে দূরপাল্লার বাস, লোকাল বাস, ট্রাক, কভার্ডভ্যান, প্রাইমমুভার, ট্যাংক লরিসহ হাজার হাজার গণ ও পণ্য পরিবহন অবাধে চলাচল করেছে বলে জানায় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।
সকাল ১০টার দিকে নগরীর নিমতলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের দুটি গেট দিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলে বাধা দেয় ধর্মঘট আহব্বানকারীরা। পরে ধর্মঘট বিরোধী বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতিরোধের মুখে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর থেকে নগরীসহ কোথাও গণ ও পণ্য পরিবহন চলাচলে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তারা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহব্বায়ক আলহাজ আবদুল নবী লেদু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় থেকে পরিবহন সেক্টরে নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা দূর করে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করতে কতিপয় নাম সর্বস্ব পরিবহন সংগঠন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সর্বত্র গুজব ছড়াচ্ছে এবং কোন কারণ ছাড়াই ধর্মঘট আহব্বান করেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, কথিত সংগঠনের দাবির বিষয়ে কোন ধরনের আলোচনায় না বসতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মেট্টোপলিটন এলাকাসহ সকল জেলা-উপজেলায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। সকল মালিক-শ্রমিক স্ব স্ব গাড়ি নিজেরাই রাস্তায় বের করবে। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের নামে যদি কেউ রাস্তায় বিশৃংখলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায় তাহলে চট্টগ্রাম বিভাগের গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকগণ তা শক্তহাতে প্রতিরোধ করা হবে।