সরকারি কাজে আবারও বাধা

মূল অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

14

সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছে সরকার দলীয় সংগঠন বা সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সম্প্রতি লালখান বাজার মতিঝর্ণা পাহাড়ের ঢালে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে জেলা প্রশাসন তীব্র বাধার সন্মূখীন হন স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা-কর্মী কর্তৃক। এসময় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংরক্ষিত আসনের এক কাউন্সিলর ও তার দলবল সরকারি দলের সাথে এককাট্টা হয়ে অবরোধ করে জেলা প্রশাসনকে পাহাড় ঘেঁষতে দেয়নি। সম্প্রতি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিএনপির নেত্রীকে নিয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনা টক অব দ্যা সিটিতে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করেছে প্রশাসন সামনের বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে যখন অভিযানে যায় তখন পরস্পর বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একটি অবৈধ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কি নিয়েছে। বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে কি না? বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে একটি অপরাধ থেকে আরো দশটি অপরাধের জন্ম নেয়। সম্ভবত সোমবার নগরীর বায়েজিদ থানার শেরশাহ কলোনি এলাকায় একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি হয়েছে। জানা যায়, এ এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রাট কর্তৃক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে সরকার দলীয় সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে আসা স্থানীয় সন্ত্রাসী কর্তৃক বাধা ও হামলার শিকার হয়েছে চসিক ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ । ঘটনায় তিনজন পুলিশসহ ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িচালক গুরুতর আহত হন। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত চয়জনকে আটক করেছেন এবং তাৎক্ষণিক তিনজনকে একবছরের জন্য কারাদন্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ বাংলাবাজারে বিএসআরএম কারখানাসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ দোকান উচ্ছেদে যান সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। উচ্ছেদে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আক্তার। এসময় ম্যাজিস্ট্রেটের জিপসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয় বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এঘটনায় চসিক মেয়র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযান শেষ করেই ফিরতে বলেছেন, একইসাথে বায়েজিদ থানাকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বায়েজিদ থানার ওসি আতাউর রহমান খন্দকার পূর্বদেশ প্রতিনিধিকে বলেছেন, বায়েজিদ থানা পুলিশ বাদী হয়ে এ ব্যাপারে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও জানান, এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করে। জানা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাহসের সাথে অভিযান অব্যাহত রাখেন আজ মঙ্গলবারও একই স্থানে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেন।
আমরা চসিক মেয়র ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পদক্ষেপ ও সাহসিকতার প্রশংসা করি। আমরা মনে করি, সরকারি বা সরকারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের যেকোন আইনগত কাজে যারা বা যে শক্তিই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন তাদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। সরকারি কাজে বাধা দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী দন্ডবিধির আলোকে মামলাসহ অপরাধীদের গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, এক্ষেত্রে চসিক ও প্রশাসন কোন নমনীয়তা প্রদর্শন না করে বরং কঠোর াবস্থানে থেকে নগরবাসীর নিরাপত্তা বিধান ও পথচলা নির্বিঘ্ন করবে।