মুহাম্মদ ইকবাল (১৮৭৭-১৯৩৮)

4

কবি, দার্শনিক ও রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ ইকবাল ১৮৭৭ সালের ৯ নভেম্বর পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণ করেন। আধুনিক ফারসি ও উর্দু সাহিত্যে তিনি উল্লেখযোগ্য কবি। ধর্মীয় ও ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের জন্যও বিশেষ সমাদৃত। তিনি ইরানে ইকবাল-ই-লাহোরী নামে পরিচিত। মুহাম্মদ ইকবালের বাবা শেখ নুর মোহাম্মদ ছিলেন নামকরা দর্জি। শেখ নুর চিন্তাধারা ও জীবনযাপনে ইসলামের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। মা ইমাম বিবিও ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক। শিয়ালকোটে স্কটিশ মিশন কলেজে ইকবাল পড়াশোনা করেন। এ কলেজের শিক্ষক সাইয়িদ মীর হাসানের কাছ থেকে কাব্য প্রতিভার স্বীকৃতি পান। ১৮৯২ সালে এখান থেকে মেট্রিকুলেশন করেন। ১৮৯৫ সালে মুরে কলেজ থেকে আইএ পাস করে লাহোর সরকারি কলেজে ভর্তি হন। দর্শন, ইংরেজি ও আরবি সাহিত্যে পড়ে এখান থেকে তিনি স্বর্ণপদক নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৮৯৯ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ততদিনে তিনি সাহিত্য অঙ্গনে বেশ পরিচিত ব্যক্তিত্ব। এ সময় স্যার টমাস আর্নল্ডের সংস্পর্শে আসেন। তিনি ইকবালের কাছে ছিলেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন। ১৯০৫ সালে আইন নিয়ে পড়তে লন্ডন যান। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কনস্ ইন থেকে আইনে ডিগ্রি লাভ করেন এবং ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন জার্মানের মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯২৬ সালে পাঞ্জাব আইন পরিষদে মুসলিম লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হন। ১৯০৮ সালে ইউরোপ থেকে ফিরে লাহোরের সরকারি কলেজে যোগ দেন। একই সঙ্গে আইন ব্যবসা, শিক্ষাদান ও সাহিত্যচর্চা বজায় রাখেন। ইকবাল কবিতা ও দর্শনের জন্য অমর হয়ে আছেন। দার্শনিক তত্ত্বে৯৩০), বা আল-ই-জিবরাইল (১৯৩৩), জাভেদনামা (১৯৩২) প্রভৃতি। তার লেখায় ইসলামী পুনর্জাগরণের ডাক ফুটে উঠেছে, যা সমসাময়িক অনেক ব্যক্তিত্ব ও আন্দোলনকে প্রভাবিত করে। যেমন- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ড. আলী শরিয়তী।
তার উল্লেখযোগ্য আরও কয়েকটি কাজ হলো- ইলম আল ইক্তিউদ (১৯০১), ইসলাম এজ অ্যান এথিক্যাল অ্যান্ড পলিটিক্যাল আইডিয়াল (১৯০৮), দ্য ডেভেলপমেন্ট অব মেটাফিজিক্সস ইন পারসিয়া (১৯০৮), রুমিজ-ই-বেখুদি (১৯১৭), পয়গাম-ই-মাশরিক (১৯২৩), বাং-ই-দারা (১৯২৪), জুবুর-ই-আজাম (১৯২৭), পাস ছে বায়াদ কারদ আই আক্বওয়াম-ই-শারক (১৯৩৬), মুসাফির (১৯৩৬), জারব-ই-কালিম (১৯৩৬) ও আরমাঘান-ই-হিজাজ (১৯৩৮)। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘আসরার-ই-খোদায়ী’ বইয়ের জন্য নাইট উপাধিতে ভূষিত করে। মুহাম্মদ ইকবাল ১৯৩৮ সালের ২১ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।