মুস্তাফা মহিউদ্দীন এর এই হেমন্তে

39

বন্ধু তোমার বাড়ির উঠোনে ফুটেছে চালতা ফুল,
জানলা জুড়ে রোদটা কেমন অলস পড়ে থাকে ;
এই হেমন্তে বুকের ভেতর জাগছে হুলুস্থুল,
সেদ্ধ ধানের সোঁদা গন্ধ নবান্নকে ডাকে ;

তোমার গাঁয়ের বিলের জলে শাপলা শালুক ভাসে,
ডিঙি নায়ে কাজল কিশোর কুড়ায় দুহাত ভরে;
পাশে যে তার ডুরেশাড়ি ঐ কিশোরী হাসে,
মিষ্টি মেয়ের হাসি যেন রোদ ঝিকমিক করে ;

হাওয়ায় কেমন কাঁপন জাগে পাতার কোলে শিশির,
যাই হেঁটে যাই ঘাসের বুকে আলতো ভেজা চরণ,
নদীর কূলে শালের বনে বুনো গন্ধ নিশির,
মন উচাটন এই হেমন্তে হয় যদি হোক মরণ ;

আকাশ বেয়ে ফর্সা পরী নামে সর্ষে ¶েতে,
তাদের ডানার ভঙ্গি যেন প্রজাপতির উড়াল;
ছেলে-বুড়ো মাছ শিকারে উঠেছে সব মেতে,
সর্ষে ফুলের মধু খেয়ে মৌমাছিরা মাতাল ;

সর্ষে হলুদ, গাঁদা হলুদ, হলুদ বরণ বৌ,
দুপুর রোদে নাকের নোলক কেমন ঝিলিক মারে;
বিন্নী ধানের মুড়কি ভাজে উঠোন করে মৌ,
একলা ডাহুক ডাক দিয়ে যায় বাঁশবাগানের ঝাড়ে !

এসব ছবি হারিয়ে গেছে? গাঁয়ের মেঠো পথ,
গরুর গাড়ির ক্লান্ত চলা- রাখালিয়া সুর?
সন্ধ্যাবেলা লুকোচুরি- বন্ধুতার শপথ,
হৈ-হুল্লোড় নাগরদোলার স্মৃতি বহুদূর?