মুরাদ মুন্সির হাটে পরিত্যক্ত পাবলিক টয়লেট

12

প্রশাসনের উদ্যোগের অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অব্যবস্থাপনা ও যেখানে সেখানে দৈনিক বাজার বসার কারণে বোয়ালখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মুরাদ মুন্সির হাট এখন বিলুপ্তির পথে।
উপজেলার প্রাচীনতম এ বাজারে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার মানুষসহ কধুরখীল, পোপাদিয়া ও সারোয়াতলী ইউনিয়ন ছাড়াও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতাদের আগমন প্রাচীন এ বাজারে। সপ্তাহের রোববার ও বৃহস্পতিবার এ বাজার মিলতো। হাজার হাজার জনসাধারণের এ বাজারে সওদাপাতি করতে এলেও নেই কোন মল-মূত্র ত্যাগ করার পাবলিক টয়লেট।
সরেজমিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোববার ও বৃহস্পতিবার ছাড়া এ বাজারের বিভিন্ন শেড গরুর দখলে থাকে। গরু ব্যবসায়ীরা বাজারে নির্মিত পাকা ও টিনের ছাউনি যুক্ত শেডগুলো দখল করে গরু বিকিকিনি করে। বাজারের পানি চলাচলের জন্য নির্মিত নালা ময়লা-আবর্জনায় ভরা।
বোয়ালখালী পৌরসভা গঠিত হওয়ার পূর্বে পূর্ব গোমদÐী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান বদরুছ মেহের বাজারে আগত ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য বাজারের শেষ প্রান্তে ছন্দারিয়া খালসংলগ্ন স্থানে একটি পাবলিক টয়লেট ও কসাইখানা নির্মাণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় পাবলিক টয়লেট ও কসাইখানা নির্মাণের কয়েক মাস পর নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। টয়লেটের ভিতর মানুষের মল-মূত্রে ভরা। মল ত্যাগ করা দূরে থাক কেউ প্র¯্রাব করার জন্য ভিতরে প্রবেশ করে না।
দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক টয়লেট পরিষ্কার না করার কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পরিত্যক্তভাবে রয়েছে। দেখার কেউ নাই। সরকারি খাতায় এ বাজারের নাম থাকলেও বাজার রক্ষা করার জন্য নেই কোন পদক্ষেপ। অথচ সরকার এ বাজার থেকে প্রতিবছর ১৫ লক্ষ টাকার রাজস্ব পাই।
দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে কিছু স্থাপনা টিকে থাকলে ও সুষ্ঠু অবকাঠামো না থাকার কারণে জমে না বাজারটি। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এ বাজারটি আগের মত প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে এ প্রত্যশা ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

বিকাশ নাথ
বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম।